ছন্দে ফিরছেন দেবলীনা নন্দী। ছবি: ফেসবুক।
ফোনের ও পারে মৃদু কণ্ঠ। গায়িকা দেবলীনা নন্দী আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন, “হ্যাঁ, রানা সরকারের মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনীছবিতে গাইছি।”
শনিবার এই ঘোষণা হয় প্রথমে প্রযোজকের তরফ থেকে। তাঁর অফিসে বড়পর্দার ‘মহুয়া’ অঙ্কিতা মল্লিক। পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে দেবলীনা, নায়িকার ঠোঁটে যাঁর গান শোনা যাবে বলে ঘোষণা হয়েছে। সাদা পোশাক গায়িকার চেহারায় স্নিগ্ধতা ছড়িয়েছে।
প্রায় সপ্তাহ দুই নানা বিতর্কের কেন্দ্রে থেকেছেন দেবলীনা। গত ৫ তারিখ খবর ছড়িয়ে পড়ে, একটি অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গায়িকা। হাসপাতাল নিয়ে গেলে জানানো হয়, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে বিপত্তি। পরিজনেরা দাবি করেন, ঘটনার পিছনে রয়েছে সাংসারিক অশান্তি। সেই অশান্তির কথা স্বীকার করেন গায়িকাও। ফলে বার বার শিরোনামে উঠে আসে তাঁর নাম।
মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবনীছবিতে অঙ্কিতা মল্লিকের ঠোঁটে দেবলীনা নন্দীর গান উপহার দেবেন রানা সরকার। ছবি: ফেসবুক।
এত কিছুর মাঝে কেমন আছেন দেবলীনা? সবটাই কি দুঃস্বপ্ন বলে ঝেড়ে ফেলতে পেরেছেন? দেবলীনার কথায়, “মনোবিদের কাছে চিকিৎসা চলছে। বাড়ির প্রত্যেকে আমার মন থেকে নেতিবাচকতা দূর করার লক্ষ্যে সারা ক্ষণ বুঝিয়ে চলেছেন। বলতে পারেন, তাঁরাও কাউন্সেলিং করছেন! এখনও ঠিকমতো নিজেকে সামলাতে পারিনি। তাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছি না। সময় নিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গেই প্রথম আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এত কথা বললাম।” তার মধ্যেই এই সুখবর। দেবলীনা আপাতত এই সুযোগটাকেই খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছেন এই মুহূর্তে।
ছবিতে মহুয়ার সব গানই কি দেবলীনার কণ্ঠে? দেবলীনা এখনও জানেন না সে কথা। শনিবার প্রযোজক তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁর কণ্ঠে মহুয়ার ঠোঁটে ব্যবহৃত গান শোনা যাবে। ক’টি গান, কে সুর করবেন, কিছুই জানেন না গায়িকা। রেকর্ডিং কবে, সেটাও ঠিক হয়নি। তবে এই খবরে তিনি একা নন, তাঁর পরিবারের বাকিরাও যে অনেকটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন, সে কথা জানাতে ভোলেননি জীবনের বড় একটা ‘অঘটন’ থেকে সদ্য ফিরে আসা গায়িকা।
কিন্তু দুনিয়াটা কি এতটাই সহজ? ভাল থাকতে চাইলেই ভাল থাকা যায়? অনেকে কটাক্ষ ছুড়েছেন, জনপ্রিয়তার লোভে পুরোটাই ‘নাটক’ নয় তো? এ কথা তুলতেই একটু চুপ থেকে দেবলীনা জানালেন, তিনি সবটাই জানেন। “সমাজমাধ্যমে পড়েছি সে সব মন্তব্য। আমার একটাই বক্তব্য, নাটক করিনি। এত নাটক করতে পারি না! তা হলে গানের দুনিয়ায় নয়, অভিনয়দুনিয়ায় আজ থাকতাম।”
এই জায়গা থেকেই তাঁর এখন মনে হচ্ছে, এত লোক জানাজানি বোধহয় না হলেই ভাল হত!
এত কিছু পেরিয়ে দ্রুত প্রত্যাবর্তন তাঁর। পুরস্কারপ্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিতি। ছবিতে নেপথ্যশিল্পী হিসাবে গাওয়ার সুযোগ পাওয়া। নিন্দকেরা তো আবার বলবে, এই লক্ষ্যে পৌঁছোতেই তো দেবলীনা এত কাণ্ড ঘটালেন!
নেপথ্যশিল্পী সে বিষয়েও ওয়াকিবহাল। শান্ত গলায় বললেন, “জানি, লোকে বলবে ছবিতে গাইব বলেই এত ‘নাটক’ করেছি। আমি এখনই এত কিছু নিয়ে ভাবতে চাই না।” তিনি বিশ্বাস করতে চাইছেন, দ্বিতীয় বার সুযোগ পেয়েছেন। সেই সুযোগ তাঁকে কাজে লাগাতে হবে। তাঁকে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে দাঁড়াতে হবে।
ছবির গান প্রসঙ্গে কথা বলেছেন প্রযোজকও। ছবির গান কে লিখবেন, এখনও ঠিক হয়নি। সুরকার সপ্তক সানাই দাস। মহুয়ার ছবিতে ব্যবহৃত কিছু পুরনো গান আর কিছু নতুন গান এই ছবিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা তাঁর। দেবলীনা প্রসঙ্গে তাঁর কী ভাবনা? কেন নিলেন গায়িকাকে? রানার কথায়, “মহুয়ার জীবনের সঙ্গে দেবলীনার জীবনের অনেক মিল। মহুয়াও এ ভাবে নীরবে অত্যাচার সহ্য করেছিলেন। সেই যন্ত্রণা দেবলীনাই গানে ফোটাতে পারবেন। তাই তাঁকে নেওয়া।”
দেবলীনার জনপ্রিয়তাকেই কি তিনি আদতে ব্যবহার করলেন? প্রযোজকের সাফ জবাব, “দেবলীনার জনপ্রিয়তাকে যদি ব্যবহার করেই থাকি, তা হলেই বা ক্ষতি কী! সবাই তো সেই জন্যই ওঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। আমি না হয় ইতিবাচক ভাবেই গায়িকার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করলাম।” প্রযোজক আরও যোগ করলেন, “আর দেবলীনা যদি সবটাই ‘নাটক’ করে থাকেন, তা হলে কথা দিচ্ছি, আগামী দিনে ওঁকে নিয়ে সিনেমা বানাব।”