Dharmendra

মরণোত্তর পদ্মসম্মান ধর্মেন্দ্রকে, অলকা যাজ্ঞিককে পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী পাচ্ছেন মাধবন

সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। প্রথামতো আগের দিন, রবিবার রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ঘোষণা করা হল পদ্মসম্মান প্রাপকদের নাম। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য বলিউড থেকে এই তালিকায় রয়েছেন তিনজন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫১
(বাঁ দিক থেকে) অলকা যাজ্ঞিক, ধর্মেন্দ্র, আর মাধবন।

(বাঁ দিক থেকে) অলকা যাজ্ঞিক, ধর্মেন্দ্র, আর মাধবন। ছবি: সংগৃহীত।

এ বছর পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ এবং পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ১৩১ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন বাংলা থেকে। সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। প্রথামতো তার আগের দিন, রবিবার ঘোষণা করা হল এ বছরের পদ্মসম্মান প্রাপকদের নাম। বলিউড থেকে এ বার তিনজন ভূষিত হচ্ছেন এই সম্মাননায়। মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র। গায়িকা অলকা যাজ্ঞিক পাচ্ছেন পদ্মভূষণ। পদ্মশ্রী পাচ্ছেন আর মাধবন।

Advertisement

গত বছর ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র। ছ’দশক ধরে দাপটের সঙ্গে রুপোলিজগৎ শাসন করেছেন ধর্মেন্দ্র। ৩০০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে বহু সফল হিন্দি ছবি। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ ছবি দিয়ে কেরিয়ার শুরু ধর্মেন্দ্রের। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ২০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনও ছবিই বক্সঅফিসে তেমন সফল হয়নি। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘ফুল অউর পত্থর’। ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে এই ছবিতে ছিলেন মীনা কুমারী। এই ছবি বক্সঅফিসে ভাল উপার্জন করেছিল। তার পর থেকে ধর্মেন্দ্রকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘সত্যকাম’, ‘শোলে’, ‘আঁখে’, ‘কর্তব্য’-এর মতো হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়োতে শুরু করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। অভিনেতার শেষ ছবি ছিল ‘ইক্কিস’। যদিও নিজের শেষ ছবি দেখে যেতে পারেননি অভিনেতা। গত ২৪ নভেম্বর তিনি মারা যান।

এক সময়ে বলিউড মাতিয়ে রাখত অলকা যাজ্ঞিকের গান। প্রায় ২০ হাজার গান গেয়েছেন তিনি। অধিকাংশ গানই হিট। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মায়ানগরীতে যাত্রা শুরু তাঁর। দু’হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। গান গেয়েছেন অন্তত ১৬টি ভাষায়। ‘তেজাব’ ছবিতে ‘এক দো তিন’ গানের মাধ্যমে হিট্ ‌গায়কের তকমা পান অলকা। তার পর নব্বইয়ের দশকে কুমার শানু ও উদিত নারায়ণের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রচুর হিট গান উপহার দেন।

প্লেব্যাক থেকে মঞ্চ সমান তালে জনুপ্রিয় তিনি। বর্তমানে ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও তাঁর গানের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউটিউবে গায়িকার গান বেজেছে প্রায় ১ হাজার ৫৩০ কোটি বার! ফলে ২০২২ সালের ‘মোস্ট স্ট্রিমড আর্টিস্ট অন ইউটিউব’ খেতাব পেয়েছেন তিনি।

যাঁরা নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছেন, তাঁরা জানেন, আর মাধবনকে ঘিরে মহিলা ভক্তদের পাগলামি কোন জায়গায় পৌঁছেছিল একটা সময়! গড়পড়তা প্রেমের ছবিতে আত্মপ্রকাশ। নায়কোচিত চেহারাও নয়। শ্যামলা রং, মাঝারি উচ্চতা, তবে মুখ-চোখে একটা সাদামাঠা সৌন্দর্য ও হাসিতেই মাত করে দিয়েছেন বহু ছবিতে। তাতেই ভারতীয় তরুণীরা মজেছিলেন। বলিউডে পা দেওয়ার আগে দক্ষিণী ছবিতে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করে নেন মাধবন। তবে দিয়া মির্জার সঙ্গে ‘রহনা হ্যায় তেরে দিল ম্যায়’ ছবির মাধ্যমে গোটা দেশে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যান। প্রেমিকসুলভ চরিত্র থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির ফারহান হোক কিংবা সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অজয় স্যান্যালের চরিত্র— সব চরিত্রেই সমান সপ্রতিভ তিনি। এ বার পদ্মশ্রী সম্মান তাঁকে সেই স্বীকতিই দিল।

Advertisement
আরও পড়ুন