Holi Special

রঙের ছুতোয় শরীর ছোঁয়ার ছাড়পত্র! বলিউডের এই সব গানে শুধুই কি নারী শরীরের উদ্‌যাপন?

বলিউডের ছবির কয়েকটি গানেও বোঝানো হয়েছে, স্পর্শের প্রশ্নে নারীর সম্মতি এই দিন গুরুত্বহীন। গানের কথায়, দৃশ্যায়নে অথবা পোশাকেও তা ফুটে উঠেছে। কয়েক প্রজন্ম ধরেই বলিউডে এই ধারা বজায় রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৮
Five Bollywood songs that reportedly objectified women’s body

রঙের অজুহাতে কি স্পর্শ করাই শেখায় বলিউডের এই সব গান? ছবি: সংগৃহীত।

‘বুরা না মানো হোলি হ্যায়’! রঙের উৎসবে এই বাক্যবন্ধ অনেক দিন ধরেই প্রচলিত এ দেশে। এই দিনটা যেন ‘সম্মতি’ শব্দটাই অভিধান থেকে বাদ। রুপোলি পর্দাতেও সেই বার্তাই বার বার উঠে এসেছে। মহিলাদের স্পর্শ করার যেন অলিখিত ছাড়পত্র দিয়ে দেয় রঙের উৎসব। যাকে রং মাখানো হচ্ছে, তার আদৌ সম্মতি আছে কি না, বা তার অস্বস্তি হচ্ছে কি না, সে সব কোনও গুরুত্বই পায় না উৎসবের আড়ালে।

Advertisement

বলিউডের ছবির কয়েকটি গানেও দেখানো হয়েছে, নারীর সম্মতি এই দিন গুরুত্বহীন। গানের কথায়, দৃশ্যায়নে অথবা পোশাকেও তা ফুটে উঠেছে। কয়েক প্রজন্ম ধরেই বলিউডে এই ধারা বজায় রয়েছে। দেখা যাক, সেই তালিকায় রয়েছে কী কী গান।

১) রং বরসে (সিলসিলা, ১৯৮১): হোলির আবহে এই গান প্রথম এত জনপ্রিয় হয়। আজও হোলির উৎসবে অনেকে এই গান বাজিয়ে মাতামাতি করেন। তবে এই গান সমালোচনার মুখেও পড়েছে অনেক বার। অমিতাভ বচ্চনের গলায় ও ঠোঁটে এই গানের কথায় বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে নারীর সিক্ত শরীরের বর্ণনা। পুরো গান এবং গানের দৃশ্যায়ন পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরিই। এমনকি, এই গানের দৃশ্যায়নে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ককেও মান্যতা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। স্ত্রীর সামনেই অন্য মহিলাকে রং মাখাতে শুরু করে মূল পুরুষ চরিত্র অমিতাভ। সেই নারী বা স্ত্রীর সম্মতি নিতেও দেখা যায় না তাকে। অথচ এই গানই উদ্‌যাপন করা হয়েছে বছরের পর বছর।

২) অঙ্গ সে অঙ্গ লগানা (ডর, ১৯৯৩): গানের কথাই স্পষ্ট করে দেয়, রঙের উৎসবে শরীরের সমস্ত অঙ্গ স্পর্শ করাই মূল উদ্দেশ্য। ‘ক্যায়সি খিচা টানি ভিগি চুনরি ভিগি চুনরি’— এমনই কথা রয়েছে গানে। রঙের উৎসবে এই গানেও মহিলার ভিজে যাওয়া পোশাকের কথা টেনে আনা হয়েছে।

৩) সোনি সোনি (মহব্বতেঁ, ২০০০): শাহরুখ খানের এই ছবির প্রতিটি গান জনপ্রিয়। দোল উৎসবে এই গানটিও বেজে ওঠে। একটি দৃশ্যে দেখা যায়, শমিতা শেট্টীকে রং মাখানোর জন্য ব্যাকুল উদয় চোপড়া। শমিতা কিছুতেই সম্মতি দিচ্ছেন না। অতঃপর, সম্মতির বালাই না করে প্রথমেই তাঁকে কাঁধে তুলে নেন উদয় এবং পরে রং মাখিয়ে দেন। এই দৃশ্য বাস্তবে ঘটলে, তাকে কি হেনস্থা বলা যায় না? এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

৪) ডু মি আ ফেভার, লেট্স প্লে হোলি (ওয়াক্ত, ২০০৫): নারী লজ্জা পাবে, মুখে ‘না না’ বলতে থাকবে। তখনই পুরুষ ভেবে নেবে, ‘নারীর না মানে হ্যাঁ’। এই ধারা বজায় থাকে এই গানের দৃশ্যায়নে। বার বার নানা ভাবে প্রিয়ঙ্কা চোপড়াকে রং মাখাতে যান অক্ষয় কুমার। সম্মতি ছাড়াই রং মাখিয়েও দেন। নারী চরিত্র বলছে, ‘ডোন্ট টাচ মাই চোলি’। কিন্তু সে সব তোয়াক্কা না করেই তাকে স্পর্শ করছে নায়ক।

৫) আজ না ছোড়েঙ্গে (কাটি পতঙ্গ, ১৯৭০): গানের কথাই বলে দিচ্ছে, ‘আজ ছাড়া যাবে না’। মহিলার অস্বস্তি হোক বা না হোক, তাতে কিছুই যায় আসে না। তাই পুরুষ চরিত্র অনায়াসেই ছুঁয়ে দেয় মহিলা চরিত্রের শরীর।

Advertisement
আরও পড়ুন