Prosenjit-Dev Conflict

এক ফ্রেমে প্রসেনজিৎ-দেব, বৈঠকের ভুল বোঝাবুঝি মেটাতেই মুখোমুখি? না কি দেখা করলেন ‘এমনি’ই

অভিযোগ, বুধবারের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে নাকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, স্বরূপ বিশ্বাস-সহ কমিটির একাধিক সদস্যকে ‘অপমান’ করেছেন দেব! সত্যি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৬
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-দেবের ভুল বোঝাবুঝি মিটল?

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-দেবের ভুল বোঝাবুঝি মিটল? ছবি: ফেসবুক।

বুধবারের ভুল বোঝাবুঝির অবসান শুক্রবারে এসে? অভিযোগ, বুধবার তারকাখচিত স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক তারকা সদস্যকে অপমান করেছিলেন দেব। শুক্রবার প্রসেনজিৎ-দেব এক ফ্রেমে। এ ভাবেই কি মধুরেণ সমাপয়েৎ ঘটল?

Advertisement

এ দিন, প্রসেনজিৎ আর তাঁর একসঙ্গে তোলা ছবি প্রথম ভাগ করেন দেব। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে লেখেন ‘এমনি’! যেন বৈঠকে ‘দাদা-ভাই’য়ের মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝিই তৈরি হয়নি। শুধু দুই তারকা নন, ছবিতে এঁদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা গিয়েছে প্রসেনজিৎপুত্র তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও। সেই ছবিই কিছু ক্ষণ পরে ভাগ করে নেন প্রসেনজিৎও। তিনি কিন্তু ছবি প্রসঙ্গে দেবকে সম্বোধন করে লেখেন, “তুই এলি, কথা বললি, ভাল লাগল। নিজের খারাপ লাগাগুলো সরিয়ে বাড়ির ভুল বোঝাবুঝিগুলো সামলানোটাই মনে হয় বড়দের কাজ। ভাল থাক। আদর।”

পরস্পরের ‘কাছের মানুষ’ প্রসেনজিৎ-দেব।

পরস্পরের ‘কাছের মানুষ’ প্রসেনজিৎ-দেব। ছবি: ফেসবুক।

তা হলে কি সত্যিই বুধবার দেবের বক্তব্যে আহত-অপমানিত হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ?

বুধবার বৈঠকের আবহ দেখে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ধারণা করতে পারেননি, কাচের ঘরের অন্দরে কী ঘটেছে! বৈঠকের মাঝেই বেরিয়ে যান দেব, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। দেব জানান, তিনি অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। ঋতুপর্ণা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও বাক্যালাপ না করেই বেরিয়ে যান। তাঁর চোখেমুখে অসন্তোষের ছাপ ছিল স্পষ্ট।

বৃহস্পতিবার বৈঠকের অন্দরের খবর ফাঁস! জানা যায়, দেব নাকি অপমান করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি এবং কমিটির সদস্য স্বরূপ বিশ্বাস, অভিনেতা-প্রযোজক জিৎ-সহ অনেককেই! তিনি নাকি প্রসেনজিৎকে উদ্দেশ করে বলেন, “তুমি ‘পদ্মশ্রী টদ্মশ্রী’ পেয়েছ! তোমায় তো জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে।” শুধু এ-ই নয়। স্ক্রিনিং কমিটির অস্তিত্ব বা প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নাকি প্রশ্ন তোলেন তিনি। কমিটিকে অগ্রাহ্য করে তিনি নাকি এ-ও জিৎকে বলেন, “পুজোয় আসতে চাইলে এসো, তুমি-আমি বৈঠকে বসি। এর জন্য স্ক্রিনিং কমিটির মিটিংয়ের কী প্রয়োজন?” শোনা যায়, দেবের এই ধরনের বক্তব্যে নাকি যারপরনাই অসন্তুষ্ট সবাই।

সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম এর পরেই যোগাযোগ করে দেবের সঙ্গে। তিনি ঘটনা শুনে বিস্মিত। সন্ধ্যায় তিনি সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে আসবেন, শোনা গিয়েছিল এ কথাও। তবে তিনি আসেননি। বদলে শুক্রবার সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি ভাগ করে নেন তিনি।

স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক নিয়ে রানা সরকার, পিয়া সেনগুপ্ত।

স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক নিয়ে রানা সরকার, পিয়া সেনগুপ্ত। ফাইল চিত্র।

গত দু’দিন ধরে শোরগোল ফেলে দেওয়া ঘটনা নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তও। আনন্দবাজার ডট কম-কে সাফ বলেন, “আগের দিন যা রটেছিল, সেটা নিয়ে মুখ খুলিনি। এই ছবি দেখেও কিছু বলব না। কমিটির অন্দরের আলোচনা অন্দরেই থাকবে। সে সব প্রকাশ্যে আনার পক্ষপাতী নই।” জিৎকে অপমান করার প্রসঙ্গে অবশ্য আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে বক্তব্য জানিয়েছেন অভিনেতার দাদা গোপাল মদনানি। তিনিও বলেন, “দেব এমন কোনও আচরণ করেননি, যাতে জিৎ অপমানিত হন।” তা হলে কি পুজোর ছবি নিয়ে মিটিংয়ে বসবেন তাঁরা? “এখনই এই বিষয়ে কিছু বলা যাবে না,” জবাব তাঁর।

বরং ক্ষোভ উগরে দেন কমিটির আর এক প্রযোজক সদস্য রানা সরকার। তাঁর কথায়, “যিনি ভিতরের আলোচনা ফাঁস করেছেন, তিনি কমিটির জন্য ক্ষতিকারক।” দেব প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, “একা দেব নন, আমরা প্রত্যেকে কিছু না কিছু মতামত রেখেছি। তাতে অসন্তোষ তৈরি হলে কমিটি আলোচনা করে মেটাবে।”

শুক্রবারের দুটো ছবি আপাতত যাবতীয় জল্পনায় জল ঢেলেছে। দেবের ছবি যদিও সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। সবটাই তা হলে কি রটনা? দুই তারকা বুঝি মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘এমনি এমনি’ই! প্রসেনজিতের বক্তব্যে দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট সব কিছু। ‘যাহা রটিয়াছিল তাহাই কিন্তু ঘটিয়াছে’...।

Advertisement
আরও পড়ুন