Payel Sarkar's Birthday Special

ইন্দ্রাশিসের ঠোঁটে গাঢ় চুম্বন, ঋষভের সঙ্গে শয্যাদৃশ্য! ২২ বছর পরেও টলিউডের ‘পাটরানি’ পায়েল?

প্রেমের মাসে জন্ম। তবু প্রেমহীন জীবন? পর্দায় বার বার বিস্ফোরক। বাস্তবে কেমন অভিনেত্রী?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৬
‘টেডি ডে’-তে পায়েল সরকারের জন্মদিন।

‘টেডি ডে’-তে পায়েল সরকারের জন্মদিন। ছবি: ফেসবুক।

পায়েল সরকার। শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয় তাঁর নাম। দেব, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শাকিব খান, সোহম চক্রবর্তী, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা— পর্দায় তাঁর নায়ক।

Advertisement
জন্মদিনের উদ্‌যাপনে পায়েল সরকার।

জন্মদিনের উদ্‌যাপনে পায়েল সরকার। ছবি: ফেসবুক।

ছবিতে কত বার যে টেডি বিয়ার জড়িয়ে শট দিয়েছেন! ক্যালেন্ডার বলছে, ১০ ফেব্রুয়ারি ‘টেডি ডে’-তে জন্মদিন পায়েলের। কখনও তিনি ‘ভোলেভালা’ পাশের বাড়ির মেয়ে। কখনও একটু নাক উঁচু, উচ্চশিক্ষিত, বিত্তবান বাবার আদুরে কন্যে। তিনি ‘মশালা’ ছবিতেও আছেন, সমান্তরাল ছবিতেও। ২২ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজপাট পায়েলের।

পর্দায় বারবার বিস্ফোরক পায়েল। ছোটপর্দা দিয়ে পেশাজীবনে পা। ‘একদিন প্রতিদিন’ তাঁকে প্রতি দিন বাঙালির অন্দরমহলে পৌঁছে দিয়েছে। বড়পর্দায় এসেছেন সুদেষ্ণা রায়-অভিজিৎ গুহের ‘শুধু তুমি’ ছবি দিয়ে। এই ছবিতে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোন। তার পর দেবের সঙ্গে ‘আই লাভ ইউ’, ‘লে ছক্কা’, আবীরের সঙ্গে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, সোহমের সঙ্গে ‘প্রেম আমার’, শাকিবের সঙ্গে ‘ভাইজান এলো রে’ হয়ে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘চতুষ্কোণ’। ইন্দ্রাশিস রায়ের ঠোঁটে গাঢ় চুম্বন এঁকে পর্দা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন!

এক ফ্রেমে দেব আর পায়েল সরকার।

এক ফ্রেমে দেব আর পায়েল সরকার। ছবি: ফেসবুক।

বিশেষ দিনে ২২ বছরের যাপিত পেশাজীবন যদি ফিরে দেখা যায়, তা হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, শুরুর দিনগুলোর মতোই কি অভিনেত্রী আজও টলিউডের ‘পাটরানি’?

সময় এগিয়েছে। বাকিদের মতো নিজেকে সমসাময়িক রাখতে ছবির ধারা বদলেছেন পায়েল। তিনি যেমন অভিনয় করেছেন ‘জামাই বদল’-এর মতো ছবিতে, তেমনই তাঁকে দেখা গিয়েছে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘অনুসন্ধান’ বা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ‘দ্য একেন’-এ। পরিচালক জয়ব্রত দাসের প্রথম ছবি ‘দি অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’-এ ঋষভ বসুর সঙ্গে শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করে হইহই ফেলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। পায়েলের জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কম সে প্রসঙ্গ তুলতেই অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন জয়ব্রত, ঋষভ দু’জনেই। পরিচালকের কথায়, “টানা তিন ঘণ্টা ধরে খুঁটিয়ে চিত্রনাট্য শুনেছিলেন। নিজের চরিত্র বুঝেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে দিদি জানিয়েছিলেন, তিনি রাজি। শুটিংয়ে আসার আগে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। যে কোনও অভিনেত্রী এত সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের আগে ইতস্তত করেন। পায়েলদি ভীষণ সাবলীল!” ছবির প্রয়োজনে লম্বা চুল কাটতেও দ্বিধা করেননি।

পরিচালক জয়ব্রত দাস, অভিনেতা ঋষভ বসু।

পরিচালক জয়ব্রত দাস, অভিনেতা ঋষভ বসু। ছবি: ফেসবুক।

অভিনেত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম দৃশ্যে অভিনয়ের আগে বরং একটু ভয়ে ভয়ে ছিলেন তাঁর নায়ক। ঋষভ বললেন, “আমার নায়িকা শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছিল, যেন নাম ধরে ডাকি! নইলে পর্দায় রসায়ন জমবে না। ব্যস, আমার ভয় কেটে গেল।” আলোচনা করে, আড্ডা দিয়ে এর পর সহজ করার পালা। অভিনেতার কথায়, “পায়েলকে কবে থেকে অভিনয় করতে দেখছি! সৃজিতদার ‘চতুষ্কোণ’ ছবির সময় আমিও অভিনয় শুরু করেছি। পায়েল অবশ্যই ক্রমশ এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে তখনকার মতোই এখনও অনায়াস! ওর আবেদন, আকর্ষণ অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা বাঙালি দর্শকের নেই।”

বাস্তবের পায়েল আর পর্দার নায়িকা নাকি বিপরীত দুই মেরুর। একদম মাটির কাছাকাছি, দাবি অভিনেত্রীর আর এক বন্ধু অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের। বন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “খুবই সাদামাঠা। খুবই আন্তরিক। সকলের সঙ্গে সমান ভাল ব্যবহার করে।” ঋষভের অভিজ্ঞতা বলছে, ছেলেমানুষি পায়েলকে এখনও ছেড়ে যায়নি! “মনে আছে, শুটিংয়ের ফাঁকে সবাই মিলে আড্ডা দিতাম। তখন পায়েলকে কিছু প্রশ্ন করা হলে ও সবার মুখের দিকে তাকাত। যেন জবাব হাতড়াচ্ছে! তার পর মিষ্টি হেসে বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরটা নিজেই দিত। এ রকম ছেলেমানুষি দুষ্টুমি আজকের দিনে কম দেখা যায়।”

অভিনেতা-নেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

অভিনেতা-নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। ছবি: ফেসবুক।

তবে পায়েলের ‘রাজপাট’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রুদ্রনীল। বলেছেন, “যে চার অভিনেত্রী একদা বাংলা বিনোদনদুনিয়া শাসন করেছে, তাদের থেকে একটু হলেও যেন ছিটকে গিয়েছে পায়েল। ওরা যে সময়ে কাজ করতে, সেই ধারার ছবি এখন আর হয় না। নতুন ধারায় শ্রাবন্তীর প্রত্যাবর্তন ‘দেবী চৌধুরাণী’ দিয়ে। শুভশ্রী ফিরেছে ‘পরিণীতা’ ছবিতে। পায়েলের জন্যও এ রকম একটি ছবির দরকার।” তাঁর মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে ‘পিআর’ করতে হয়। শুধু অভিনয় বা কাজ দিয়ে টিকে থাকা যায় না। নতুন ধারার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের থেকে ‘পছন্দের মানুষ’ অগ্রাধিকার পান। পায়েল কোনও দিন এই রাস্তায় হাঁটেননি। তাই প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর মাপ বা মানের ছবিতে হয়তো ডাক পাচ্ছেন না। “অন্য অনেকের থেকে পায়েলের অভিনয় ধারালো। সমসাময়িক থাকতে একটু ‘পিআর’ করতে পারলেই আর পিছন ফিরে দেখতে হবে না ওকে।”

পরিচালক রবি কিনাগির পাঁচটি ছবির নায়িকা পায়েল সরকার।

পরিচালক রবি কিনাগির পাঁচটি ছবির নায়িকা পায়েল সরকার। ছবি: ফেসবুক।

পরিচালক রবি কিনাগি। তাঁর পাঁচটি ছবির নায়িকা পায়েল। প্রিয় নায়িকা কি আগের মতোই জনপ্রিয়? প্রশ্ন তুলতেই পাল্টা প্রশ্ন তিনি করেছেন, “কেন নয়! কোন খামতি রয়েছে পায়েলের মধ্যে?” উদাহরণ হিসাবে তিনি ‘এবার শবর’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘একটু সরে বসুন’, ‘হেমন্ত’র মতো ছবির নাম নিয়েছেন। বলেছেন, “বাণিজ্যিক বা সমান্তরাল ছবির মধ্যে ফারাক ইন্ডাস্ট্রির বাইরের লোকেরা খোঁজেন। আমি বলি, দুই ধারার ছবিতেই অভিনয় করতে হয়। পায়েল সেই পরীক্ষায় অনায়াসে পাশ।”

Advertisement
আরও পড়ুন