Bombay High Court

গান্ধীজিকে নিয়ে প্রবন্ধ লেখায় সাজা কমে গেল ধর্ষকের! আজীবন কারাদণ্ড থেকে ১২ বছরের জেল, নির্দেশ বম্বে হাই কোর্টের

২০১৬ সালে ৫ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করেন যুবক। ২০২০ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। ওই রায়ে কোনও ভুল নেই বলে জানিয়েও অপরাধীর শাস্তির মেয়াদ কমিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৪
Bombay High Court

গ্রাফিক: এআই সহায়তায় প্রণীত।

পকসো মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। ৫ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত হন ২০ বছরের যুবক। পকসো আদালতের বিচারে ভুল নেই বলে জানিয়েও দোষীর সাজা কমিয়ে দিল বম্বে হাই কোর্ট। কারণ, ধর্ষক মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন দোষী। কারাবাসে থাকাকালীন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি ভাল ফল করেছেন।

Advertisement

দিন কয়েক আগে বম্বে হাই কোর্টে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের ঘাটকোপর অঞ্চলের বাসিন্দা যুবকের মামলার শুনানি। উচ্চ আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিবেশীর ৫ বছরের কন্যাকে ধর্ষণ করেন ওই যুবক। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। চার বছর ধরে পকসো আদালতে মামলা চলার পর ২০২০ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক।

ওই রায়ে কোনও ভুল নেই বলে জানিয়েও অপরাধীর শাস্তির মেয়াদ কমিয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। বিচারপতিদের নির্দেশ, আজীবন কারাদণ্ডের বদলে ১২ বছরের কারাবাস হবে দোষীর।

মামলাকারীর আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে বেশ কিছু তথ্য দেন। তাঁরা জানান, কারাবাসে থাকাকালীন বেশ কিছু সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় যোগ দেন তাঁদের মক্কেল। তিনি পুণের টিলক মহারাষ্ট্র বিদ্যাপীঠ থেকে গ্রন্থ সমালোচনায় শংসাপত্র পেয়েছেন। মুম্বইয়ের রামচন্দ্র প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় লেখালেখি করে শংসাপত্র পেয়েছেন। তার পর মুম্বই সর্বোদয় মণ্ডল সংগঠন একটি শংসাপত্র দিয়েছে আসামিকে। যেখানে তিনি মহাত্মা গান্ধীর বিচার এবং চিন্তাধারা নিয়ে দীর্ঘ লেখালেখি করেছেন। একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি সারং কোতওয়াল এবং বিচারপতি সন্দেশ পাটিলের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, মামলাকারী কারাবাসে থাকাকালীন কোনও গন্ডগোলে জড়াননি। বরং একের পর এক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করেছেন। তা ছাড়া একবারও জামিন পাননি। করোনাপর্বেও জেলে ছিলেন তিনি।

ইতিমধ্যে ৯ বছর কারাবাসে কেটে গিয়েছে ধর্ষণে দোষীর। আর তিন বছর পর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। দুই বিচারপতি বলেন, ‘‘মামলার গুরুত্ব বিচার করলে কম করে ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়া উচিত। আমাদের মত, ১২ বছর কারাদণ্ড হলেই আসামির শাস্তি শেষ হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন