Jacqueline Fernandez

সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনই প্রত্যাহার জ্যাকলিনের ! ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলা গড়াবে কোন দিকে?

জ্যাকলিন-সুকেশের ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় নতুন মোড়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বিশেষ অনুমতির আবেদন (স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন) প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৪:৩৪
জ্যাকলিন-সুকেশের মামলা মোড় নেবে কোন দিকে?

জ্যাকলিন-সুকেশের মামলা মোড় নেবে কোন দিকে? ছবি: সংগৃহীত।

২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় আপাতত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথ থেকে সরে এলেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বিশেষ অনুমতির আবেদন (স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন) প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর (ইডি) দায়ের করা অভিযোগপত্র এবং তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত অভিযোগ খারিজের আবেদন আর শীর্ষ আদালতে বিবেচিত হবে না।

Advertisement

বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্ন এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে জ্যাকলিনের আইনজীবী আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।

এর আগে মামলাটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি অতুল এস. চান্দুরকরের বেঞ্চে তালিকাভুক্ত ছিল। কিন্তু বিচারপতি মিশ্র জানান, একটি সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁর ছেলে সরকারের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। সেই কারণে তিনি নিজেকে শুনানি থেকে সরিয়ে নেন এবং মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জ্যাকলিন তাঁর আবেদনে দিল্লি হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে ইডি-র অভিযোগপত্র এবং নিম্ন আদালতের অভিযোগ গঠনের নির্দেশ খারিজ করতে অস্বীকার করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আবেদনই প্রত্যাহার করে নিলেন অভিনেত্রী।

জ্যাকলিন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

জ্যাকলিন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত।

কয়েক সপ্তাহ আগেই জ্যাকলিন এই মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই আবেদনের বিরোধিতা করে ইডি দাবি করেছিল, তদন্ত চলাকালীন তাঁর আচরণ সন্তোষজনক ছিল না এবং তিনি ঘটনার পূর্ণ ও সত্য তথ্য প্রকাশ করেননি।

ইডি-র অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরেও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুকেশ অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে অভিনেত্রীকে বিলাসবহুল উপহার, মূল্যবান সামগ্রী এবং নানা সুবিধা দিয়েছিলেন। ইডি-র হিসাব অনুযায়ী, সেই উপহারের মোট মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা।

যদিও জ্যাকলিন শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁর দাবি, সুকেশের কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উপহারের অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।

সম্প্রতি দিল্লির পটিয়ালা হাউস আদালতে হাজিরা দেন জ্যাকলিন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জানান, তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই মামলায় সুকেশ, তাঁর স্ত্রী লীনা মারিয়া পল-সহ আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধেও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সকলেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

মামলাটির পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৬ জুলাই। ফলে আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী অধ্যায় এখন নিম্ন আদালতেই গড়াবে।

Advertisement
আরও পড়ুন