জৈসমীন স্যান্ডল্স ছবি: সংগৃহীত।
‘ধুরন্ধর’ ছবিতে তাঁর ও মধুবন্তী বাগচীর গাওয়া ‘শরারত’ গানটি এখনও শ্রোতাদের মনে টাটকা। এর পরে ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতে একাধিক গান গেয়েছেন জৈসমীন স্যান্ডল্স। এখন তিনি ভাসছেন প্রশংসায়। যদিও একটা সময়ে নাকি তিনি মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করতেন। জৈসমীন জানান, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মদ খেয়েছেন একটা সময়ে। কিন্তু, এর নেপথ্যে কী কারণ?
লুধিয়ানার মেয়ে জৈসমীন, বড় হয়ে ওঠা ক্যালিফোর্নিয়ায়। পঞ্জাবি পপ গানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। ‘এবিসিডি ২’, ‘কিক্’ ছবিতে একাধিক গান গেয়েছেন তিনি। খ্যাতিও পেয়েছিলেন। কিন্তু একটা সময়ে নেশায় ডুবতে শুরু করেন জৈসমীন। তাঁর নেপথ্যে রয়েছে শৈশবের কিছু স্মৃতি যার ক্ষত এখনও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘আমি অনেক সংগ্রাম করেছি। বড় হয়ে ওঠার সময়ে জীবনের বেশ কঠিন কিছু পর্যায় পেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনের যাত্রাপথটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। জীবন তো এমনই হয়। ছোটবেলাটা যে কোনও বাবা-মায়ের জন্য যেমন কঠিন, তেমনই সন্তানদের জন্যও। সেই সময়ে আমার যত্নের প্রয়োজন ছিল।’’ জৈসমীনের আক্ষেপ, ছোটবেলায় তাঁর প্রাপ্য যত্ন তিনি পাননি পরিবারের থেকে। নিজের মধ্যেই যেন একটা দ্বন্দ্ব চলছিল তাঁর। এ ছাড়াও তিনি নাকি বাবা-মায়ের থেকে শৈশবে এমন কিছু আঘাত পেয়েছেন, যার স্মৃতি তিনি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন।
‘শরারত’ গানের একটি দৃশ্যে জৈসমীন।
জৈসমীনের কথায়, ‘‘আমি মদ্যপান করতাম। কারণ, সেই সময়ে নিজের কিছু কাজের জন্য আমার অনুশোচনা হত। অনেক কিছু একসঙ্গে জমে গিয়েছিল। একদিকে আমার খ্যাতি বাড়ছিল। যার ফলে আমার মধ্যে কিছু বিশেষ অনুভূতি কাজ করছিল। অন্য দিকে, আমার পারিবারিক সম্পর্ক ভাঙতে শুরু করে। আমার বাবার মৃত্যু হয়, সব কিছু নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। প্রয়োজনের বেশি মদে আসক্তি আসে। হয়তো খানিক শান্তির খোঁজে ছিলাম। এর জন্য আমি অনুতপ্ত, কিন্তু সেই সময়ে ওটাই হয়তো আমার জন্য জরুরি ছিল।”