ছবি: সংগৃহীত।
নতুনদের মধ্যে প্রতিভার সন্ধান, তাঁদের পর্দায় তুলে ধরা, ঘষেমেজে তারকা অভিনেতা তৈরি করা — দীর্ঘ দিন ধরে এই কাজ করে আসছেন কর্ণ জোহর। ঝুলিতে ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা। শাহরুখ খান, রানি মুখোপাধ্যায়, কাজল, আলিয়া ভট্ট মতো তারকারা তাঁর প্রযোজনা সংস্থার পরিচিত মুখ। একাধিক নতুন মুখও কর্ণের সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সম্প্রতি তাঁর সংস্থা ছেড়ে অন্য সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন জাহ্নবী কপূর। এর পরেই এক সাক্ষাৎকারে কর্ণ বলেন, ‘‘এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও নয়।’’
জাহ্নবী তাঁর সংস্থা ছেড়ে যাওয়ার পরেই কর্ণের এমন মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয় প্রবল। জল্পনা শুরু হয়, প্রযোজক-পরিচালক কি তা হলে জাহ্নবীর উদ্দেশেই এমন মন্তব্য করলেন? কর্ণ ও জাহ্নবীর সম্পর্কে চিড় ধরেছে, এমনও মনে করতে থাকে নেটপাড়ার একাংশ। এ বার সকলের উদ্দেশে কর্ণ বলেন, ‘‘আমি যে কোনও পডকাস্টে মনের আনন্দে কথা বলি, সাক্ষাৎকার দিতে যাই। কিন্তু আমার কথার থেকে একটা অংশ বার করে ‘থাম্বনেল’ বানানো ঠিক নয়। সকলকে সাবধান করছি। আমার বলা এমন কোনও বাক্যাংশ উদ্ধৃত করবেন না যা কোনও তথ্যকে বিকৃত করতে পারে।’’
কর্ণ ওই সাক্ষাৎকারে নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের যে মন্তব্য করেন, তাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক। তিনি বলেছিলেন, “এই প্রজন্মের অভিনেতাদের ধৈর্য নেই, স্থিরতাও নেই। আমি ওঁদের পিছনে দুটো বছর খরচ করতে রাজি। কিন্তু, ওঁরা রাজি নন। ফলে, একটি প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা চুক্তি ভেঙে চলে যান অন্যত্র। প্রলোভনের ফাঁদে পা দেন। যেখানে যান, সেখানেও কিছু দিনের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয়। তখন তাঁরা ফিরে আসতে চান পুরনো জায়গায়।” তিনি আরও জানান, সিনেমা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ৯০ শতাংশই অহঙ্কারি, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এঁদের সামলানো সহজ কাজ নয়। তাই ‘ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট’কে কেউ যদি ব্যবসার সুযোগ হিসাবে দেখেন, তা হলে তাঁকে কর্ণ ওই পথে না হাঁটারই পরামর্শ দেবেন।