কর্নাটকের বাসিন্দা রিনা রাজুর সঙ্গে সলমন খান। ছবি: সংগৃহীত।
সলমন খানকে নিয়ে নানা মানুষের নানা মত। কারও কাছে তিনি দেবদূত, আবার তিনি নাকি অনেকের কেরিয়ার নষ্টও করেছেন! সলমনের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রয়েছে যা বহু মানুষকে সাহায্য করে। ২০১০ সালে সলমন নিজেই এক বালিকাকে অস্থিমজ্জা দান করেন। এ বার প্রকাশ্যে আরও এক নারী। কর্নাটকের বাসিন্দা রিনা রাজুকে তাঁর হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনে সাহায্য করেন সলমন। শুধু তা-ই নয়, রিনা জানান, ১০ মিনিটের জন্য দেখা করতে গিয়ে সারা রাত থেকে যান সলমনের বাড়িতে।
রিনা জানান, সলমনের কথা উঠলেই তাঁর চোখ ভিজে আসে। রিনা বলেন, ‘‘হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপনের আগে থেকেই আমার কাছে ওঁর নম্বর ছিল। সারা দিনে তো অনেকেই তাঁকে মেসেজ করে, কিন্তু তিনি আমাকে উত্তর দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম যে, আমার ‘হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট’ হচ্ছে। তিনি তখন অস্ট্রেলিয়ায় শুটিং করছিলেন। যে দিন আমার অস্ত্রোপচার হয়, সেই রাতেই তিনি ফোন করে আমাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলেছিলেন। আমার পরিবারকে খুব সাহায্য করেছিলেন। আমাকে এই কঠিন সময়টা পার করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।”
এর পরে দু’বছর অবশ্য সলমনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তাঁর। কিন্তু, পরে মেসেজ করলে অভিনেতা আবার তাঁকে চিনতে পারেন। ২০১৮ সালে, দ্বিতীয় বার হৃদ্যন্ত্র প্রতিস্থাপন হয় তাঁর। সেই সময় সলমনের বাড়িতেই তাঁর সঙ্গে প্রথমবার দেখা। রিনা বলেন, ‘‘যে সাক্ষাৎটি মাত্র ১০ মিনিটের হবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তা শীঘ্রই সুন্দর কিছু মুহূর্তে পরিণত হয়। আমরা ওঁর বাড়িতে সারা রাত গান-বাজনা, নাচানাচি করে কাটিয়েছিলাম। আমার দ্বিতীয় ট্রান্সপ্ল্যান্টের চার মাস পরে আমার রক্তে শর্করা ধরা পড়ে ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। কিন্তু, আমি বেশ ভাল সময় কাটাচ্ছিলাম। তিনি আমাদের ‘রেস ৩’-র সেটে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং আমরা সেখানে পুরো দিনটা কাটিয়েছিলাম। সলমন আমাকে ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ডের একটি সাদা বাইসাইকেল উপহার দিয়েছিলেন।’’ রিনা জানান, আসলে সলমন অত্যন্ত সহৃদয় ব্যক্তি, কিন্তু তিনি নিজের ভাল কাজের কোনও প্রচার চান না।