মেয়ের অভিনয়ে মুগ্ধ মুনমুন সেন। ছবি: সংগৃহীত।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘আবার হাওয়া বদল’। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবির সকলের অভিনয়ে মুগ্ধ অভিনেত্রী মুনমুন সেন। আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন তাঁর প্রতিক্রিয়া। কেমন লেগেছে পরিচালক হিসাবে পরমব্রতের কাজ? মেয়ে রাইমা সেনের চরিত্র বাছাই নিয়েই বা কী বললেন তিনি?
পরিচালনার পাশাপাশি ছবিতে অভিনয়ও করেছেন পরমব্রত। মুনমুনের কথায়, “পরমব্রত আমার খুব প্রিয় পরিচালক। গুণী ছেলে। ঋত্বিকদার (ঘটক) লেগাসি ও ধরে রেখেছে। দারুণ অভিনেতা। তবে এই ছবিতে নিজের অভিনয়ের পরিসর কমই রেখেছে। হাতখোলা পরিচালক। রুদ্রনীলের চরিত্রটাকে অনেকটা জায়গা দিয়েছে। বুদ্ধিমানের মতো চিত্রনাট্য তৈরি করে সুন্দর কাজ করেছে।” একইসঙ্গে মুনমুন জানিয়ে দেন, তাঁর প্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল। অভিনেত্রী যোগ করেন, “রুদ্র তো আমার ভীষণই প্রিয়। কী অসাধারণ অভিনেতা। এই ছবিতে ওর কাঁধে অনেকটা দায়িত্ব ছিল। খুব সুন্দর করে সেটা সামলেছে ও।”
ছবিতে পরমব্রত, রুদ্রনীল, রাইমা ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনুষা বিশ্বনাথন। তাঁর কাজেও মুগ্ধ মুনমুন। তিনি বলেন, “অনুষা এখনও ছোট। তাও কী পরিণত কাজ! বড় অভিনেতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজের কাজটা করেছে। আশা করছি, এই ছবির পরে ও আরও বেশি নজরে পড়বে সকলের।” মন ছুঁয়েছে মেয়ের কাজও। গর্বিত মা বলেন, “আমার রাইমাও খুব ভাল অভিনয় করেছে। খুব সাবলীল অভিনয় করেছে। যেটুকু দরকার, যথাযথ কাজ করেছে। ওর জন্য আমি প্রচণ্ড গর্বিত।”
মেয়েকে নিয়ে মুনমুন আরও বলেন, “রাইমা কখনও গ্ল্যামারের পিছনে ছোটেনি। এই চরিত্রের জন্যও হয়তো কেশসজ্জা অন্য ভাবে করতে পারত। আসলে বাংলা ধারাবাহিকে দেখি যে, মেকআপ, গয়না, পোশাকের উপরে এত বেশি জোর দেওয়া হয়, যার ফলে অভিনয় থেকে দৃষ্টি সরে যায়। যদিও ধারাবাহিক খুব একটা আমার দেখা হয় না। যেটুকু ভিডিয়ো ঘুরেফিরে আসে, তার ভিত্তিতেই বললাম। তবে রাইমা কোনও দিনই তেমন চরিত্র করেনি। রাইমা কিন্তু কোনও দিন ভাবেনি যে, ‘আমাকে সুন্দর দেখতে লাগবে এই চরিত্রটা করলে’! সেটাই হওয়া উচিত।
কিন্তু, বড়পর্দায় অনেকদিনই মুনমুনকেও দেখা যাচ্ছে না। আবার কবে অভিনয়ে দেখা যাবে তাঁকে? প্রশ্ন শুনেই স্পষ্ট উত্তর, “এখনও তেমন ভাল কোনও চিত্রনাট্য পাইনি তো। পেলে নিশ্চয়ই করব। এত দিনে আমাকে সবাই ভুলে গিয়েছে। এখন সবাই রাইমাকে বেশি চায়।”