কেন রেগে গেলেন নেহা? ছবি: সংগৃহীত।
একের পর এক ঘটনা। দু’দিন আগে বিরক্তি প্রকাশ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিন্হা। প্রবীণ অভিনেত্রী জয়া বচ্চন মাঝে মাঝেই এই বিভিন্ন জায়গায় ছবি তোলা নিয়ে নিজের আপত্তি তোলেন। এ বার বিরক্তি উগরে দিলেন নেহা ধূপিয়া।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিয়ো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছবিশিকারিদের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন নেহা। অভিনেত্রীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর অজান্তে বা আপত্তি সত্ত্বেও পিছন দিক থেকে ভিডিয়ো তোলা হচ্ছে। যা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। বার বার অনুরোধ করার পরও সেই প্রবণতা বন্ধ না হওয়ায় এ বার প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ জানান অভিনেত্রী।
ভিডিওতে নেহাকে বলতে শোনা যায়, “অসভ্যের মতো পিছন দিক থেকে ছবি ভিডিয়ো কেন তোলেন? বন্ধ করুন এগুলো।” শুধু নিজের প্রসঙ্গেই নয়, কোনও শিল্পীর ক্ষেত্রেই এমন ভিডিয়ো করা উচিত নয় বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। তাঁর কথায়, “শুধু আমার নয়, কারও ক্ষেত্রেই এটা করা উচিত নয়। বার বার বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত। এ সব আর চলবে না। আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলি, আপনারাও সেই সম্মান বজায় রাখুন।”
নেহার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিপুল আলোচনা। একাংশের মতে, অভিনেত্রী যা বলেছেন তা যথার্থ। কোনও ব্যক্তির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিশেষ ভঙ্গিতে তাঁর ছবি তোলা বা ভিডিয়ো করে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি অসম্মান বলেই মনে করছেন তাঁরা। বিশেষত অভিনেত্রীরা সহজ শিকার। সমাজমাধ্যমে ‘ভিউ’ বাড়ানোর জন্য এ ভাবে ছবি তোলা হয় বলে দাবি।
যদিও অনেকে মনে করছেন জনসমক্ষে তারকাদের ছবি বা ভিডিয়ো তোলা আলোকচিত্রীদের পেশারই অঙ্গ। ফলে কোথায় সংবাদ সংগ্রহের সীমা শেষ হয় এবং কোথা থেকে ব্যক্তিগত পরিসর শুরু— তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
তবে নেহা ধূপিয়াই প্রথম নন। এর আগেও বলিউডের একাধিক অভিনেত্রী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। জাহ্নবী কপূর, রশ্মি দেশাই, শানায়া কপূর এবং আয়েশা খান— প্রত্যেকেই বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের পিছন দিক থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভিডিও করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা সকলেই এই প্রবণতাকে অনভিপ্রেত, অস্বস্তিকর এবং অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছিলেন।
বিনোদন জগতের পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ডিজিটাল যুগে ‘পাপারাৎজ়ি সংস্কৃতি’ আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো বা একটি ‘ভাইরাল’ ক্লিপ মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সেই প্রতিযোগিতায় কখনও কখনও নৈতিকতার সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে বলেও মত তাঁদের। ফলে শিল্পীদের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য, সম্মান এবং সম্মতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।