একটি বিনোদনমূলক চ্যানেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্ত্রী অনামিকা চক্রবর্তীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন অভিনেতা উদয়প্রতাপ সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।
এই মুহূর্তে টেলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ উদয়প্রতাপ সিংহ। একটা সময় একাধিক ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন। কিন্তু ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় উদয়ের। সম্প্রতি একটি বাংলা বিনোদনমূলক চ্যানেলের অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হন তিনি। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্ত্রী অনামিকা চক্রবর্তী। স্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কারটি পাওয়ার পরই মঞ্চে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করে বসেন উদয়। অভিনেতার এমন আচরণে নেটপাড়ার একাংশ তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যদিও অনেকেই উদয়ের সঙ্গে মিল পেয়েছেন রণবীর সিংহ, রীতেশ দেশমুখদের। সত্যিই কি বলিউডের নায়কদের দেখেই এমন কাজ উদয়ের? আনন্দবাজার ডট কমকে জানালেন অভিনেতা।
বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রায়ই ক্যামেরার সামনে সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীকে ভালবাসায় ভরিয়ে দেন। যার পোশাকি নাম (পিডিএ) ‘পাবলিক ডিসপ্লে অফ অ্যাট্রাকশন’। ক্যামেরার সামনে স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রণবীর সিংহের ভালবাসার এমন একাধিক মুহূর্ত বহু আলোচিত। বছরখানেক আগেই অভিনেতা রীতেশ দেশমুখ একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হওয়ার পরে স্ত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। কিন্তু উদয়ের বক্তব্য, তিনি অবশ্য কাউকে দেখে বা কারও থেকে অনুপ্রাণিত কিংবা প্রভাবিত হয়ে কিছু করেননি। বরং তিনি প্রতি দিন ভাল স্বামী হওয়ার চেষ্টা করছেন।
উদয়ের কথায়, ‘‘এটা আসলে আমার পারিবারিক শিক্ষা। যে ভাবে আমি বড় হয়েছি সেখানে ছেলেমেয়ের বিভেদ দেখা হয় না। আসলে সেদিন অনামিকার পা ছুঁয়েছিলাম অন্তরের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা থেকে। সম্পর্কে চড়াই-উতরাই দেখেছি। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ও আমার পাশে ছিল। আসলে আমি আমার চেয়ে ছোটদের পা ধরতে কুণ্ঠাবোধ করি না। আর যদি লোককে দেখানোর জন্য কিছু করি, সেটা দর্শক ধরে ফেলত।’’ উদয় আসলে এটা নিয়ে কোনও ‘ট্রেন্ডসেট’ করতে চান না। বরং, নিজেদের সম্পর্কটা ভাল করতে চান।
উদয়ের কথায়, ‘‘আমি কখনও এটা দাবি করব না যে, আমি ভীষণ ভাল স্বামী। আমি শিখছি, চেষ্টা করছি। প্রতিটা দিন সকলেই আমরা চেষ্টাটা করতে পারি।’’ তবে লোকের তো নানা কথা নানা মুখ। সেটা বন্ধ করেন কী ভাবে? উদয় জানান, তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে নানা কথা শোনেন। যদিও তিনি এ সবে পাত্তা দেন না। যদিও স্ত্রী অনামিকার উপর এ সব বিতর্কের প্রভাব পড়ে। কিন্তু উদয় জানেন, কাজটাই তাঁর পরিচয়।