ফের রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব? ছবি: সংগৃহীত।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তোলপাড় টেলিদুনিয়া। অভিনেতার মৃত্যুর সঠিক কারণ না জানা পর্যন্ত লীনা ও শৈবালের সঙ্গে কাজ করবেন না অভিনেতা, কলাকুশলীরা— এক সাংবাদিক বৈঠকে যৌথ ভাবে এই ঘোষণা করে আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন। এ বার এই দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেন ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র প্রযোজক ও লীনা-পুত্র অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়।
অর্ক কথা বলেছেন আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে। আইনি পদক্ষেপ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “আমার তো মনে হয় না, এই জিনিসটি আইনত কেউ করতে পারেন। যদিও কারও কিছু মনে হলে, তিনি হয়তো অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু তাঁর তো একটা আইনি সীমা থাকবে! তার বাইরে বেরিয়ে যদি কেউ কোনও কাজ করেন, তা হলে আইন তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।” অভিযোগ, এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত অর্ক। তাঁর অভিযোগ, “আমার ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র কাহিনিকার আমার মা। তিনি আমার প্রযোজনা সংস্থারও অন্যতম সদস্য। এর ফলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন।” অর্কের আরও দাবি, তাঁর আরও দুটো ধারাবাহিক আনার কথা ছিল। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের ‘গুন্ডামি’তে নাকি ভয় পেয়েই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পিছিয়ে গিয়েছেন। এ ছাড়াও ১১ দিন শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল ‘কনে দেখা আলো’র। তাতেও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অর্কের, অভিযোগ এমনই।
সেই জায়গা থেকেই এ বার আইনি পদক্ষেপ করেছেন অর্ক। তাঁর অভিযোগ যে দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে, সেখানকার সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ফোরামের পক্ষে কথা বলেছেন সহ-সম্পাদক রানা মিত্র। তাঁর পাল্টা দাবি, “কী ভাবে রাহুলের মৃত্যু, লীনাদি, শৈবালদার উন্নাসিকতা— সবটা জানেন অর্ক। তার পরেও ওঁর যদি আইন-আইন খেলতে মনে চায়, কী বলব আমরা?” তাঁর পাল্টা অভিযোগ, সেই সময়ে লীনা-শৈবাল উদাসীনতা এবং উন্নাসিকতা না দেখালে এই পরিস্থিতিই তৈরি হত না।
কিন্তু অর্ক যে দাবি করছেন, ছোটপর্দার অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের ভয় দেখিয়ে ফোরাম-ফেডারেশন নাকি লীনা-শৈবালের সঙ্গে কাজ করতে দেয়নি? ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের দুই নায়ক, দুই নায়িকা সোমরাজ মাইতি, মৈনাক ঢোল, সাইনা চট্টোপাধ্যায় এবং নন্দিনী দত্তকে নাকি পেশাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়? এই অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন রানা। ফোরামের সহ-সভাপতি বলেছেন, “আর্টিস্ট ফোরাম গুন্ডামি করে বেড়ায় নাকি? না কি গুন্ডা পোষে? লীনাদি-শৈবালদার সঙ্গে কাজ করা নিয়ে আমরা ভোট করেছিলাম। যাঁরা কাজ করতে চেয়েছেন, তাঁরা লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। যাঁদের আপত্তি, তাঁরাও। এখানে জোর করা, ভয় দেখানোর প্রশ্ন আসছে কী করে?”
সংগঠনও কি এবার আইনি পথে হাঁটবে? জানতে চাইলে রানা জানান, সব সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ঠিক করা হবে। প্রসঙ্গত, কমিটির কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এখন দিল্লিতে। ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান আনতে গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ভবনে। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি দিল্লিতে। তাই সবিস্তার না জেনে এখন কিছু বলতে পারবেন না।
আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন দুটো আলাদা সংগঠন। প্রথমটি অভিনেতাদের ভাল-মন্দ দেখে। দ্বিতীয়টির দায়িত্বে কলাকুশলীরা। লীনা-শৈবালের বিরুদ্ধে কী করে দুটো আলাদা সংগঠন জোট বাঁধলেন? প্রশ্ন তুলেছেন অর্ক। তাঁর অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও। কী বলবেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি? স্বরূপের বক্তব্য, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফিরুন। বিষয়টি আগে জেনে নিই। সবার সঙ্গে আলোচনা করি। তার পর না হয় পদক্ষেপ করার কথা ভাবব।”