রাহুলের মৃত্যুতে বিপাকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত।
দিঘার কাছে তালসারি সমুদ্র সৈকতে রবিবার শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনেতার এ ভাবে মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই উঠেছে বেশ কিছু প্রশ্ন। শুটিং ইউনিটের কর্মীদের বয়ানে অসঙ্গতির প্রশ্ন উঠেছে। শুটিংয়ে তারকাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ বার সুর চড়াল সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন (অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন)। যে ধারাবাহিকের শুটিং হচ্ছিল তার প্রযোজনা সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা ছাড়াও আরও কোন কোন বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে এই সংগঠন?
ওড়িশা পুলিশ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতি ছিল না ওই ইউনিটের। তা সত্ত্বেও কী ভাবে শুটিং হল? দ্বিতীয়ত, খবর ছড়ায়, প্যাকআপের পরে ঘটনাটি ঘটেছিল। পরে অবশ্য পরিচালক জানান, শুটিং চলাকালীনই এই ঘটনা ঘটে। কোনও দায় এড়াতেই কি প্রথমে ‘প্যাকআপ’-এর কথা বলা হয়েছিল?
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় রবিবার জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনও দৃশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে গভীর জলে শুটিং হল? শুটিং চলতে চলতে এত লোকজনের মধ্যে তিনি তলিয়ে গেলেনই বা কী ভাবে? সেই প্রশ্নও উঠছে টলিপাড়ায়। এই ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছে এই সংগঠন। সোমবার সংগঠনের এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘‘আমাদের সংগঠনের তরফে একাধিক বার সতর্ক করা হয়েছে যে, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর জন্য প্রায়শই শিল্পীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে আপস করে থাকেন। ফলত, কর্মী ও শিল্পীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রায় প্রতি বছরই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের সিনেজগতে এ হেন দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতি বছর ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে নিরাপত্তাহীন পরিবেশের জেরে ইউনিটের কর্মী এবং শিল্পীরা প্রাণ হারান। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের বিষয়গুলো প্রায়শই ধামা চাপা দেওয়া হয় এবং দোষীরা শাস্তিও পায় না।’’
রাহুলের মৃত্যুতে এই সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও তুলেছে। এ ছাড়াও প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত প্রযোজক, প্রযোজনা সংস্থা এবং চ্যানেলকেও কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে, রাহুলের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন তারা। এই প্রসঙ্গে আনন্দবাজার ডটকমের তরফে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়েকে ফোন করলে তাঁদের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি।