(বাঁ দিকে) রঘু রাম, (ডান ডিকে) অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত।
এই মুহূর্তে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাঁদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিট-ইউজি, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসি-তে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। সেই অনিয়মের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে এই ‘আরশোলা’র দল। পার্টির বয়স মাত্র এক মাস। তার মধ্যেই এরা সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তার নিরিখে অভিজিতের দল পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও জাতীয় কংগ্রেসকেও। এ হেন অভিজিৎকে গালিগালাজ করলেন জনপ্রিয় সঞ্চালক রঘু রাম? কী বলেছেন তিনি?
রিয়্যালিটি শো ‘রোডিজ়’ এক সময় তাঁর হাত ধরেই জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু ১১ বছর একটানা বিচারকের আসনে থাকার পর, শো থেকে বেরিয়ে যান সঞ্চালক রঘু রাম। তার পরে শো চললেও, তা জনপ্রিয়তা হারায়। যদিও একটা সময়ে রঘু তাঁর দুর্ব্যবহারের জন্যই আলোচনায় থাকতেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই দেখা যায় যে, অভিজিৎকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন রঘু।
কিন্তু কেন এমন করলেন তিনি? আসলে বহু বছর আগে ‘রোডিজ়’-এ অডিশন দিতে যান অভিজিৎ। প্রতিযোগী হিসাবে অভিজিৎকে পছন্দ হয়নি রঘুর। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘‘এই জীবনে তোকে যেন আর কোনও দিন না দেখি।’’ তবে সে কথা বহু দিন আগের। সেই ভিডিয়োই নতুন করে ছড়িয়েছে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ও ভারতীয় রাজনীতিতে অভিজিতের উত্থান নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি রঘু। যদিও এই মুহূর্তে গোটা দেশে হইচই ফেলেছে সিজেপি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজ়াদ সিজেপির সদস্যপদ ‘গ্রহণ’ করেছেন। দলে ‘যোগ’ দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, বলিউডের অনুরাগ কাশ্যপ এবং কঙ্কনা সেনশর্মার মতো ব্যক্তিত্বেরাও। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ একজন ‘পলিটিক্যাল কমিউনিকেশন স্ট্র্যাটেজিস্ট’ বা রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ, যাঁর কাজের মূল বিষয় হল রাজনৈতিক আখ্যান তৈরি, জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রদান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি কী ভাবে রাজনৈতিক মতামতকে প্রভাবিত করে তা দেখা।
২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘আম আদমি পার্টি’র সমাজমাধ্যম দলে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবেও কাজ করেছেন অভিজিৎ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ-এর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের সময়, তিনি দলের হয়ে মিম-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রচার চালানোর কাজ করেন, যা সে সময় দিল্লির যুবসমাজকে প্রভাবিত করেছিল বলে মনে করা হয়।