ছেলের রাগের পিছনে কোন যুক্তি দিলেন সেলিম খান? ছবি: সংগৃহীত।
সলমন খানের মেজাজের তল পাওয়া নাকি বেশ শক্ত। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের কানাঘুষো, কারও উপরে যদি তিনি অসন্তুষ্ট হন, তার প্রভাব নাকি গিয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কেরিয়ারে। সেই সলমনেরই ভিন্ন দিক রয়েছে। তিনি দানধ্যানও করেন। নিজের অস্থিমজ্জা দান করতেও দু’বার ভাবেন না। যাঁরা ছেলের রাগ নিয়ে আলোচনা করেন, তাঁদের উদ্দেশে একদা সেলিম বলেন, ‘‘রাগই হল মানুষের শ্রেষ্ঠ আবেগ। মহাত্মা গান্ধী কিংবা রাজা মার্টিন লুথারের কি রাগ ছিল না?’’
সলমনের প্রতাপের কথা বলিউডে সকলেরই জানা। পাশাপাশি, সলমনের সতীর্থদের একটা বড় অংশের দাবি, তাঁর মতো হৃদয় নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে কম মানুষের রয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে সলমনের রাগ নিয়ে সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আসলে সলমন মোটেও বদমেজাজি নন, বরং ওর মধ্যে অনেক রাগ রয়েছে। তাতে কোনও দোষ নেই। আসলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোনও রাগ নেই। কোথাও অন্যায় হলে, সলমন চোখ বন্ধ করে থাকে না। কোনও নারীকে কেউ উত্যক্ত করলে, ও মুখ ফিরিয়ে নেয় না। বরং হয়তো ওই লোকগুলোকে মারধর করতে পারে। আমার মতে, রাগ শ্রেষ্ঠ অনুভূতি, যদি তাকে ঠিক ভাবে পরিচালিত করা যায়।’’
সেলিম আরও বলেন, “অবিচার, দারিদ্র্য, নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে সলমনের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে! ব্রিটিশ শাসন বা অবিচারের বিরুদ্ধে তো মহাত্মা গান্ধীর ক্ষোভ ছিল, তাই না? আর মার্টিন লুথার কিং-এর কথাই ধরুন, তাঁর মধ্যেও কি ক্ষোভ ছিল না?” সলমনের বাবার আক্ষেপ, মানুষের জন্য যে মানবিক কাজগুলো অভিনেতা করেন, সেগুলি নিয়ে কেউ আলোচনা করে না। সলমন দুর্ঘটনায় আহত মানুষজনকে বাঁচিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কত কত নবাগত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছে সে। এ সব নিয়ে কেউ তেমন কথা বলে না বলে আক্ষেপ অভিনেতার বাবার।