কোন কোন প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি? ছবি: সংগৃহীত।
শুটিং করতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরলেন শববাহী গাড়িতে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে স্তব্ধ টলিপাড়া। দুর্ঘটনা ঘিরে নানা খবর নানা বয়ান উঠে আসছে। তবে এখনও আসল ঘটনা স্পষ্ট নয়। শুধু মৃত্যুর ঘটনা নয়। আরও আনুষঙ্গিক প্রশ্ন উঠে আসছে টলিপাড়ার অভিনেতা ও পরিচালকদের মুখে। নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছেন রাহুলের অনুরাগী ও সাধারণ মানুষও।
ওড়িশা পুলিশ সূত্রের দাবি, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে শুটিং হল? দ্বিতীয়ত, খবর ছড়ায়, প্যাকআপের পরে ঘটনাটি ঘটেছিল। পরে অবশ্য পরিচালক জানান, শুটিং চলাকালীনই এই ঘটনা ঘটে। কোনও দায় এড়াতেই কি প্রথমে ‘প্যাকআপ’-এর কথা বলা হয়েছিল?
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার তরফে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় রবিবার জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনও দৃশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে গভীর জলের দিকে এগিয়ে গেলেন রাহুল? তাঁকে বাধাই বা কেন দেওয়া হল না? এত মানুষের মধ্যে তিনি তলিয়ে গেলেনই বা কী ভাবে? সেই প্রশ্নও উঠছে টলিপাড়ায়।
আরও বড় প্রশ্ন উঠছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আসার পরে। জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে রাহুলের। অন্তত এক ঘণ্টা তিনি জলের তলায় ছিলেন। কী ভাবে এতক্ষণ জলের তলায় তিনি আটকে থাকার পরেও উদ্ধার করা গেল না? সমুদ্রে শুটিংয়ের পরিকল্পনা হয়। তা-ও লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোট, জরুরিকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থার আয়োজন কেন ছিল না সমুদ্রসৈকতে? এমন নানা প্রশ্ন তুলেছেন টলিপাড়ার শ্রীলেখা মিত্র, সুদীপ্তা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। প্রয়োজনীয় আপৎকালীন চিকিৎসক কেন ছিলেন না শুটিংস্থলে? চিকিৎসক থাকলে অভিনেতা বেঁচে যেতে পারতেন বলেও মনে করছেন তাঁর অনুরাগীরা।
এর মধ্যেই পরিচালক পারমিতা মুন্সী আরও একটি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের আর কোথাও অন্য কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে শুটিং করতে গিয়ে কারও মৃত্যু হতে পারে? তবে এই প্রশ্ন অভিনেতা থেকে দর্শক সকলেরই।