সুনীতা রাজওয়ার। ছবি: সংগৃহীত।
বিনোদন জগত মানেই ঝলমলে ব্যাপার। তবে পর্দার সামনে যা দেখা যায়, সেটাই কি সত্যি? প্রথম সারির তারকারা সব সময়ে প্রচারের আলোয় থাকেন ঠিকই, কিন্তু ছবির চরিত্রাভিনেতারা ছবির সেটে ঠিক কেমন আচরণ পান? এই বিষয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন সুনীতা রাজওয়ার।
ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা-র প্রাক্তনী সুনীতা রাজওয়ার গত ২৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন। বহু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি হিন্দি বিনোদন জগতের চেনা মুখ। ‘পঞ্চায়েত’, ‘গুল্লক’-এর মতো ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়াও ছোট ও বড় পর্দায়ও একাধিক কাজ করেছেন। কাজের সেটে তাঁর মতো চরিত্রাভিনেতাদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়, তা জানান অভিনেত্রী।
সুনীতা বলেন, “সেটে প্রধান অভিনেতা এবং চরিত্রাভিনেতাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এটা অনেকটা আমাদের সমাজের মতো। যার চরিত্র প্রধান, সব কিছু তাঁকে ঘিরেই হয়। সেই অভিনেতার জন্য ভাল ঘর থাকে, নির্দিষ্ট কর্মীরাও থাকেন। কিন্তু আপনি যদি ছোট কোনও চরিত্রে অভিনয় করেন, তাহলে অনেক সময় সেটের কর্মীরাও আপনাকে সম্মান দেন না।”
যতীন নেগি। ছবি: সংগৃহীত।
খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও নানা রকমের বিভাজন থাকে বলে শোনা যায়। এই প্রসঙ্গে আর এক চরিত্রাভিনেতা যতীন নেগি কথা বলেছেন।তিনি ‘বেলবটম’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তিনি বলেন, “এ, বি ও সি— এমন ভাবে ভাগ থাকে শিল্পীদের। ‘এ’ বিভাগে থাকেন বর্ষীয়ান শিল্পী বা যাঁরা প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। তৃতীয় সারির চরিত্র বা ‘এক্সট্রা’দের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এটা দেখে আমার খুব খারাপ লাগে। আমি কখনও এই বিভাজন পছন্দ করিনি, কিন্তু বড় প্রযোজনাতেও এটা দেখা যায়। প্রধান অভিনেতারা সাধারণত পরিচালকের সঙ্গে বসে খাবার খান। কিন্তু এই বিভাজন সেটে খুব অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। অনেক সময় মনে হয়, যেন জাতিভেদের মতো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।”
এখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির চরিত্রের শিল্পীদের পারিশ্রমিক দিতেও অনেক সময়ে দেরি করা হয় বলে জানান দুই অভিনেতা। প্রধান অভিনেতাদের কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু একজন চরিত্রাভিনেতার জন্য সামান্য টাকা পাওয়াও নাকি কঠিন হয়ে যায়।
সুনীতা রাজওয়ারও যতীনের কথার সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, “সবাই আলাদা পারিশ্রমিক পান। এটা নির্ভর করে বাজারে তাঁর অবস্থানের ওপর। এমনকি, প্রধান অভিনেত্রীরাও অনেক সময় নায়কের মতো পারিশ্রমিক পান না। আমি এ-ও শুনেছি, ছবির বাজেট কমানোর সময়ে প্রথমে চরিত্রাভিনেতাদের পারিশ্রমিকেই প্রভাব পড়ে।”