নির্বাচন নিয়ে কথা বললেন সোহিনী সেনগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত।
সোহিনী: এমন এক মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই, যিনি সমাজে শান্তি আনবেন, সবাইকে ভালবাসবেন, চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। হয়তো অবাস্তব কথা বলছি, কিন্তু এমনটাই চাই।
সোহিনী: এটা না হয় আমার গোপন কথাটি হয়েই থাক।
সোহিনী: যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়েও কেউ কেউ খারাপ প্রার্থী হতে পারেন। বরং কেন এই কাজটি করছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট থাকা দরকার। মানুষের কল্যাণ করার জন্য ভোটে দাঁড়ালে, তিনি যোগ্য প্রার্থী। সেই বিষয়ে সৎ থাকলে আর পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। আর বিধায়ক হওয়ার জন্য তো শুনেছি প্রশিক্ষণ দেওয়াই হয়। তবে এখানেও একই মত আমার। ট্রেনিং নিয়েও কেউ খারাপ বিধায়ক হতে পারেন। উদ্দেশ্যটাই আসল।
সোহিনী: কখনওই নিজেকে ওই জায়গায় দেখতে চাই না। কাল্পনিক জগতেও নিজেকে বিধায়ক হিসেবে, বা ক্ষমতাসীন হতে দেখতে চাই না। অবশ্যই বদল চাই, পৃথিবীতে শান্তি চাই, কিন্তু আমি সেই বদল ঘটানোর মতো ক্ষমতা রাখি না। তবে এত বছর ধরে তো আমিও দল চালাচ্ছি। নাটকের দল। সবার কাছে আমি ভাল হতে পারব না। তাই বলব, ক্ষমতায় থাকাও কিন্তু খুব কঠিন কাজ।
সোহিনী: ছোট থেকেই থিয়েটারের পেশায় রয়েছি। দেখেছি, সরকার আসে ও যায়, কিন্তু কেউই থিয়েটার নিয়ে খুব একটা ভাবিত নয়। কোনও সরকার হয়তো থিয়েটারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করবেন। কেবল অর্থনৈতিক নয়, নিয়মিত এই সাধনাকে সমর্থন করা দরকার। আসলে থিয়েটার যে ভাবে মননশীল মানুষ তৈরি করে, তাতে বোধ হয় সব সরকারই ভয় পায়। সব সরকারই ভাবে, আমরা হয়তো বেশি প্রশ্ন করব। তাই ডানায় হাওয়া দেওয়ায় এত অনীহা সরকারের। কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই, থিয়েটারকে এগিয়ে দিলে পৃথিবী আরও সুন্দর হবে।
সোহিনী: আমি রাজনৈতিক ভাবে ভীষণ অজ্ঞ। কেবল অভিনয়টাই বুঝি। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে দেশের আইকানুন সম্পর্কে জানতে হবে। আমার মনে হয়, কেউই জানেন না এর উত্তর। তবে চেষ্টা করা যেতে পারে। এর দায় শুধু যাঁরা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের উপরে বর্তায় না। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।
সোহিনী: আমি সারাজীবন যে দলে কাজ করেছি, সেখানেই কাজ করছি। মানে থিয়েটারে। অন্য দলে অভিনয় করলেও নিজের দল ছেড়ে আসিনি। ব্যস, এই আমার উত্তর। রাজনীতি আমি বুঝি না।
সোহিনী: ঘৃণা, খারাপ শব্দ ব্যবহারের কোনও প্রয়োজন দেখি না ভাষণ বা প্রচারে। এটা আসলে শিক্ষার পরিচয় নয়। আমি মনে করি, অনেক ভাল কথাতেও অনেক বদল আসতে পারে। দোষারোপ করা ছাড়া নিজেরা কী কী করতে পারি, সেটার প্রচার করলেই হয়!
সোহিনী: সবগুলিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বেশি, কম নয়। উন্নয়ন প্রয়োজন, সাম্যবাদও প্রয়োজন, আবার দেশজ সংস্কৃতিকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। যেমন, আমি কোনও দিনও ভুলে যাব না যে, আমি বাঙালি। শিকড়ের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকাটা দরকার। অনেকেই সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু প্রত্যেকের ভাষা, পরিচয়, খাদ্যাভ্যাসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার। ভারত এত বড় একটা দেশ, তাই বৈচিত্রের প্রত্যেকটি দিককে রক্ষা করা উচিত।
সোহিনী: হ্যাঁ বা না-এ এই উত্তর দেওয়া মুশকিল। আমার স্কুলে যখন মিড ডে মিল শুরু হয়েছিল, তখন সত্যিই মনে হয়েছিল, এতে অনেক শিশুর উপকার হয়েছে। ভাতার ক্ষেত্রেও তা-ই। কিন্তু একই সঙ্গে বলব, কোনও জিনিস সহজে পেয়ে গেলে মানুষ কাজ করতে ভুলে যাবে। তাই এই বিষয়টির ভালমন্দ, দুই দিকই রয়েছে বলে মনে হয়।
সোহিনী: আবার থিয়েটারের উদাহরণ দিয়েই বলব। আমি একজন অভিনেত্রী। যদি দেখি, আমার কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষ নেই, তা হলে আমি কাকে দেখে আরও ভাল করার চেষ্টা করব? কার সঙ্গে লড়াই করব? আমার থেকে যদি কেউ ভাল অভিনয় করে, তার সঙ্গে যুদ্ধ করে তো আমার ভাল লাগবে।
সোহিনী: যে তারকারা জনপ্রিয়, জনগণ তো তাঁদের সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে দেখেই। তাই কোনও অভিনেতা বা খেলোয়াড় অথবা সঙ্গীতকারকে সেই জায়গায় দাঁড় করানোই যায়। তবে কাউকে তো জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। যাঁরা যোগ দিতে চান, তাঁরা রাজনীতিতে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জুড়তে চান না। সবশেষে আমার মনে হয়, এই প্রত্যেকটি প্রশ্নেরই হ্যাঁ বা না-এ উত্তর দেওয়া মুশকিল।
সোহিনী: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং এপিজে আব্দুল কালাম। এঁদের সম্পর্কেই সবচেয়ে বেশি পড়াশোনা করেছি। তাঁদের জীবন ও জীবনদর্শনে খুবই অনুপ্রাণিত হই।