Parvathy Baul

আমেরিকায় নিষিদ্ধ পার্বতী বাউল, বিমানবন্দর থেকেই ভারতে ফেরানো হল কোন সন্দেহের বশে?

চলতি মাসেই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠান করার কথা ছিল পার্বতীর। আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, সে দেশের সঙ্গীতশিল্পী জর্জ ব্রুকসের তরফে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৫ ১৩:৫২
Image of Parvathy Baul

গত ২৫ বছর ধরে বাউল গান নিয়ে সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পার্বতী বাউল। ছবি: সংগৃহীত।

তাঁকে চেনে গোটা বিশ্ব। বাউলের দর্শন প্রাণে বেঁধে গানের দুনিয়ায় তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব এক ঘরানা, পরিচিতি। তবু, ‘অপমানিত’ হতে হল বিশ্বের দরবারেই। গান গাওয়ার আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও পার্বতী বাউলকে ঢুকতে দিল না আমেরিকা।

Advertisement

তাঁর পায়ের মল আর হাতের ডুগি-একতারা বেজে উঠলেই দুলে ওঠে মাথার জটা। গলায় উঠে আসে প্রাণঢালা উদাসী সুর— কখনও হর, কখনও হরি, কখনও সহজ সাধনার সরল কথা। চলতি মাসেই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠান করার কথা ছিল পার্বতীর। আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, সে দেশের সঙ্গীতশিল্পী জর্জ ব্রুকসের তরফে। তাঁর সঙ্গেই যুগলবন্দি দেখবে দর্শক, এমনই কথা ছিল। কিন্তু ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা। জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে সানফ্রান্সিসকো বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয় পার্বতীকে। শিল্পীর দাবি, তাঁর কাছে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বৈধ ভিসা ছিল। কোনও নথির ক্ষেত্রেই কোনও অসঙ্গতি ছিল না, তাঁকে এমনই জানিয়েছেন আইনজ্ঞেরা। পার্বতীর কথায়, “শুধু মাত্র সন্দেহের বশেই আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আগামী পাঁচ বছর যাতে আর ও দেশে যেতে না পারি, সেই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

কিন্তু কেন এমন হল?

পার্বতী জানিয়েছেন, এর আগে বহু বার তিনি আমেরিকায় অনুষ্ঠান করেছেন। কোনও বার কোনও অসুবিধা হয়নি। এমনকি, এ বারও যখন তাঁকে ফিরে আসতে হল, তিনি যোগাযোগ করেছিলেন আমেরিকার এক অ্যাটর্নির সঙ্গে। তিনিও সাফ জানিয়েছেন, কাগজপত্র সংক্রান্ত কোনও বিচ্যুতি পার্বতীর ক্ষেত্রে ছিল না। বাউলের কথায়, “ভিত্তিহীন কারণে আমাদের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হল। যে আধিকারিক সীমান্তে অভিবাসন সংক্রান্ত কাজ দেখছিলেন, তাঁর সন্দেহ হয়, আমি আমেরিকায় থেকে যেতে পারি জীবিকার কারণে। শুধুমাত্র এই সন্দেহের বশেই আমাকে ঢুকতে দিতে অস্বীকার করে প্রশাসন। এই সন্দেহ একটা বড় অস্ত্র।”

পার্বতী জানান, তাঁর পাসপোর্টের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তিনি কী ভাবে সারা বিশ্ব চষে বেড়ান। এমনকি, আজ পর্যন্ত কোনও দেশে গিয়ে সামান্য কোনও আইন ভেঙেছেন বলেও অভিযোগ ওঠেনি তাঁর বিরুদ্ধে। জীবিকার জন্য নয়, আমেরিকা গিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে। তাঁর কথায়, “গত ২৫ বছর ধরে বাউল গান নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি। কোনও দিন এমন ঘটনা ঘটেনি। কোনও দিন ভিসা চেয়ে পাইনি, বা বাতিল হয়েছে, এমনও ঘটেনি। সুতরাং, এটা পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই করা হয়েছে। কোনও প্রমাণ না পেয়ে লিখে দিলেন সন্দেহের কথা! এটাকে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসাবেই দেখছি। বোধহীন ক্ষমতা রয়েছে ওই আধিকারিকদের হাতে।”

Image of Parvathy Baul

ভিত্তিহীন কারণ তাঁকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পার্বতীর। ছবি: সংগৃহীত।

এর পর কি ফের তিনি আমেরিকা যাবেন? এ প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই পার্বতীর কাছে। গানের টানে যেতে হতেই পারে কখনও। সে ক্ষেত্রে আইনি পথে আবার আবেদন করতে হবে, জানালেন তিনি। তবে এখনই এ সব বিষয় নিয়ে ভাবছেন না। বাতিল অনুষ্ঠানে আর্থিক ক্ষতির থেকেও তিনি বেশি চিন্তিত বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়ে। বাউল দর্শনে যিনি বাঁচেন তাঁর ভাবনায় বার বার উঠে আসে মানুষের কথা। তাই তিনি বলেন, “পরিচিত একজনের যদি এমন হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা!”

গত কয়েক মাসে আমেরিকার অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। দ্বিতীয় পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ‘অবৈধবাসী’দের দেশছাড়া করতে সক্রিয় হয়েছেন তিনি, এমনই দাবি প্রশাসনের। বার বার ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের দুর্বলতার সুযোগেই আমেরিকায় জাঁকিয়ে বসছিল অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী এবং মানসিক ভাবে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তিরা।

হোয়াইট হাউসের হিসাব বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর ট্রাম্প প্রথম মাসেই মোট ৩৭ হাজার ৬৬০ জন ‘অবৈধবাসী’কে আমেরিকা থেকে তাড়িয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন