‘যে ভাবে ছোটপর্দায় ব্যান সংস্কৃতির দাপট, ইন্ডাস্ট্রি থাকবে তো’? তাই যাত্রায় রাজা-মধুবনী!

“আমরা টেলি ইন্ডাস্ট্রির হাল-হকিকত জানি। তাই অনেক বছর ধরেই শুধু ছোটপর্দার উপরে নির্ভরশীল নই”, বললেন মধুবনী।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১৪:৪৮
মধুবনী আর রাজা গোস্বামী।

মধুবনী আর রাজা গোস্বামী। ছবি: ফেসবুক।

ছোটপর্দার দৌলতেই তাঁরা জনপ্রিয়। রাজা এবং মধুবনী গোস্বামীকে এখনও একডাকে বিনোদনদুনিয়া চেনে ‘ওম আর তো়ড়া’ হিসাবে। সৌজন্যে ধারাবাহিক ‘ভালবাসা ডট কম’। তার পরেও জুটিতে ফিরছেন যাত্রামঞ্চে। ছোটপর্দায় নয়!

Advertisement

খবর, আগামী যাত্রাপালার সিজ়নে রাজা-মধুবনীকে দেখা যাবে ভারতরত্ন অপেরার ‘কুঁড়েঘরে রাজকন্যা’ যাত্রাপালায়। পরিচালনায় মঞ্জিল বন্দ্যোপাধ্যায়। মহড়া শুরু অগস্টে। নায়কের ভূমিকায় রাজা। “‘কুঁড়েঘরে রাজকন্যা’ আমি”, আনন্দবাজার ডট কম-কে হাসতে হাসতে বললেন মধুবনী। রাজা ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও মধুবনী পাঁচ বছর ধরে বিনোদনদুনিয়া থেকে দূরে। তাঁর প্রত্যাবর্তন ছোটপর্দায় নয় কেন? ধারাবাহিক বা ছোটপর্দা যখন তাঁদের এত পরিচিতি দিয়েছে...!

কেশবকে নিয়ে মধুবনী এবং রাজা গোস্বামী।

কেশবকে নিয়ে মধুবনী এবং রাজা গোস্বামী। ছবি: ফেসবুক।

প্রশ্ন শেষের আগেই জবাব হাজির। মধুবনী বললেন, “যাত্রায় এটা আমাদের ষষ্ঠ বছর। করোনাকালে কেশবের জন্ম। প্রত্যেককে সম্মান জানিয়েই বলছি, আমি বা রাজা চাইনি, বাইরের কারও হাতে কেশব বড় হোক। তার উপরে অতিমারির সময়ে বাইরে থেকে যিনি আসবেন, তাঁকে নিয়েও বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকবে। সব মিলিয়ে আমি সন্তানকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব তুলে নিই। সঙ্গে রাজা এবং আমার দুই পরিবার ছিল।” এখন কেশব পাঁচ। স্কুলে যাচ্ছে। তার পরেও তার মায়ের যত্নের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন মধুবনী। তাঁর কথায়, “ছোটপর্দায় অনেকটা সময় দিতে হয়। আর কাজ করতে গিয়ে আমি নিজের সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট নানা দাবি তুলতে পারব না। এটা আমার স্বভাববিরুদ্ধ।” তাই ছোটপর্দা থেকে অনবরত ডাক পাওয়ার পরেও যাত্রামঞ্চকেই বেছে নিয়েছেন তিনি এবং রাজা।

এ প্রসঙ্গে মধুবনীর যুক্তি, “যাত্রার সিজ়ন শুরু হয় অক্টোবর থেকে। শেষ মার্চ মাসে। মহড়ার জন্য সারা দিন থাকতে হয় না। শো শুরু হয় সন্ধ্যায়। অর্থাৎ পুরো সকাল কেশবকে দিতে পারব। যদি মনে হয়, কেশবের ১০ বছরে হয়তো ছোটপর্দায় ফেরার কথা ভাবব।” আরও পাঁচ বছর কি ইন্ডাস্ট্রি মধুবনী বা রাজা-মধুবনীকে মনে রাখবে? তখন কি কাজের ডাক পাবেন তাঁরা? একটু থেমে বড় করে শ্বাস নিয়েছেন মধুবনী। তার পর বলেছেন, “হয়তো ছোট মুখে বড় কথা হয়ে যাচ্ছে। তবু আমার প্রশ্ন, যে হারে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ চালু হয়েছে, তাতে আগামী পাঁচ বছরে ইন্ডাস্ট্রি থাকবে তো?” তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, ভাল টিআরপি থাকা সত্ত্বেও ‘ব্যান সংস্কৃতি’র কোপে পড়ে বন্ধ ধারাবাহিক ‘চিরসখা’। রাজা ওই ধারাবাহিকে কাজ করতেন। মধুবনী এবং রাজা তাই আর টেলিভিশন দুনিয়ার উপরে নির্ভর করেন না!

মধুবনীর সাফ জবাব, “আমাদের পেশাজগৎ বরাবরই অনিশ্চিত। তা সত্ত্বেও কোথাও নিশ্চিন্ততা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি যা হচ্ছে, সেটা অনেক আগেই টের পেয়েছিলাম। তাই অনেক বছর ধরে আমরা শুধুই ধারাবাহিকে অভিনয়ের উপরে নির্ভরশীল নই। অন্যান্য ব্যবসা করছি। প্রয়োজনে আগামী পাঁচ বছর পরে অন্য ব্যবসার কথা ভাবব। টেলিভিশনে ফিরতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।”

ছোটপর্দায় না হয় না-ই গেলেন, বড়পর্দা বা সিরিজ়ে তো কাজ করতেই পারেন! ইদানীং সবাই তা-ই করছেন। এ প্রসঙ্গেও মধুবনী অকপট। বললেন, “সিরিজ়ে অনেক সাহসী বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে। সিনেমাতেও থাকে। আমরা ওই ধরনের দৃশ্যে এখনও অনায়াস নই। তাই ওই দুই মাধ্যম থেকে দূরে।”

Advertisement
আরও পড়ুন