মা জ়রীনের সঙ্গে জ়ায়েদ ছবি: সংগৃহীত।
গত বছর নভেম্বর মাসে প্রয়াত হন অভিনেতা জ়ায়েদ খানের মা তথা হৃতিক রোশনের প্রাক্তন শাশুড়ি জ়রীন কতরক। মুসলিম পরিবারে বিয়ে করেন সুজ়ান খানের মা জ়রীন। যদিও তাঁর জন্ম হয় জিউ পরিবারে। অর্থাৎ তাঁর বাবার বাড়ি ইহুদি ধর্মে বিশ্বাসী। কিন্তু, সুজ়ানের মায়ের শেষকৃত্য হয় হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি অনুযায়ী। তাঁর মৃত্যুর পর কেন তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। অবশেষে সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন জ়রীনের পুত্র জ়ায়েদ।
সুজ়ানের বাবা সঞ্জয় খানের সঙ্গে জ়রীনের যখন আলাপ হয়, তখন তাঁর ১৪ বছর বয়স। তার পর অভিনেত্রী হন জ়রীন। সেই সময়ে প্রেম গাঢ় হয় তাঁদের। ১৯৬৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। মুসলিম রীতিনীতি মেনেই বিয়ে হয় তাঁদের। আসলে জ়রীন জন্মসূত্রে জিউ ছিলেন। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হন। যদিও তাঁর ইচ্ছে ছিল শেষকৃত্য যাতে হিন্দু মতে হয়। তাঁর তিন সন্তান সুজ়ান, জ়ায়েদ ও ফরাহ মায়ের সেই ইচ্ছাই পূরণ করলেন। যদিও তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের উদ্দেশে জ়ায়েদ বলেন, ‘‘তোমার মায়ের শেষ ইচ্ছা যা-ই হোক, তা পূর্ণ করা উচিত। অন্যরা কী বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। লোকে যতই বিদ্বেষ ছড়াক, আমি তাঁদের দোষ দিই না। দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতি এমনই। সেই পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগবে। কিন্তু আমরা নিজেদের একটি ধর্মনিরপেক্ষ পরিবার হিসেবেই পরিচয় দিই এবং এর কারণে কেন এমনটা করলাম সেটার ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না।’’
পাশপাশি জ়ায়েজ জানান, তাঁর মা একবার নদীর ধারে বসে থাকার সময়ে তাঁকে বলে যান তিনি যখন মারা যাবেন, তখন যেন তাঁর চিতাভস্ম নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। তিনি মুক্তি চেয়েছিলেন।