হাতে বা পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা সূঁচ ফোটানোর মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি অনুভব করেন? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘প্যারেসথেসিয়া’ বলা হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলে বা রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে এটি হতে পারে। তবে যদি এই সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়, তবে এটি স্নায়ু বা নার্ভের সমস্যার একটি প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
১. দীর্ঘস্থায়ী ঝিঁঝিঁ বা অসাড়তা
হাতে বা পায়ের পাতা বারবার ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ হয়ে যাওয়া স্নায়ুর ক্ষতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ। একে বলা হয় ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’। যদি কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার আপনার হাত বা পা অবশ হয়ে আসে এবং সেই সঙ্গে পিন ফোটানোর মতো অনুভূতি হয়, তবে বুঝতে হবে প্রান্তীয় স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২. পেশির দুর্বলতা এবং ভারসাম্যহীনতা
স্নায়ু যখন মস্তিষ্ক থেকে পেশিতে সঠিক বার্তা পাঠাতে পারে না, তখন পেশি দুর্বল হতে শুরু করে। এর ফলে হাতে ধরা জিনিস বারবার পড়ে যাওয়া, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো বা সিঁড়ি বাইতে কষ্ট হতে পারে। কোনও কাজ করতে গিয়ে যদি পেশিতে টান লাগে বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি বোধ হয়, তবে তা স্নায়ুর সমস্যার সংকেত।
৩. তীক্ষ্ণ ব্যথা বা জ্বালা
সাধারণ ব্যথার চেয়ে স্নায়বিক ব্যথা কিছুটা ভিন্ন হয়। অনেক সময় মনে হতে পারে শরীরে বৈদ্যুতিক শক লাগছে অথবা আক্রান্ত স্থানটি আগুনের মতো জ্বলছে। বিশেষ করে রাতে এই জ্বালাভাব বা তীক্ষ্ণ ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এটি স্নায়ুর আবরণের ক্ষতির লক্ষণ।
উল্লিখিত লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই উপসর্গগুলো দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সঠিক সময়ে ভিটামিন বি১২-এর অভাব বা অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসা করালে বড় ধরনের পক্ষাঘাত বা স্থায়ী ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই এমন লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।