Dehydration Risk

প্রবল গরমে জলাভাব দেখা দিচ্ছে কি শরীরে? পরখ করে নিন সহজ ৩ পরীক্ষাতেই

গরমকালে জল কম খেলে, বিপদ বাড়তে পারে আরও বেশি, কারণ জলশূন্যতা বা জলের ঘাটতি তেমন পর্যায়ে পৌঁছলে তা থেকে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। সহজ পরীক্ষায় বুঝে নিন, শরীরে জল কম রয়েছে কি না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৬
শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে বুঝে নিন সহজ পরীক্ষায়।

শরীরে জলের ঘাটতি হচ্ছে বুঝে নিন সহজ পরীক্ষায়। ছবি: সংগৃহীত।

ক্রমশই বাড়ছে গরমের দাপট। তার উপর আর্দ্রতার বাড়াবাড়িতে ঘামও হচ্ছে যথেষ্ট। এক দিকে গরম, অন্য দিকে ঘাম— তাতেই জল বেরিয়ে যায় শরীর থাকে। গরমের দিনে ঘাম হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য। কিন্তু ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে শুধু জল নয়, দ্রুত বেরিয়ে যায় লবণ এবং খনিজও। তা থেকেই ঘটতে পারে জলশূন্যতা। গরমকালে জল কম খেলে, বিপদ বাড়তে পারে আরও বেশি, কারণ জলশূন্যতা বা জলের ঘাটতি তেমন পর্যায়ে পৌঁছোলে তা থেকে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অত্যন্ত বাড়াবাড়ি হলে বিশেষ কিছু প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

Advertisement

চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, জলের ঘাটতি মোটেই সাধারণ বিষয় নয়। সময়ে সতর্ক না হলেই বিপদ। কিন্তু শরীরে যদি জলের ঘাটতি হয়ে থাকে, সেটাই বা টের পাবেন কী করে? বাড়াবাড়ি রকমের ঘাটতির উপসর্গ বোঝা গেলেও, অল্পবিস্তর ঘাটতি বাইরে থেকে তেমন টের পাওয়া যায় না। এমন সমস্যার সমাধান হতে পারে ৩ পরীক্ষায়।

পরীক্ষা ১: দিনভর রোদে ঘোরাঘুরি করলে প্রস্রাবের মাত্রা কমে যায়। সেটাই উপসর্গ জলশূন্যতার। প্রসাবের রং গাঢ় হলুদ হলে, পরিমাণ কমলেও সতর্ক হতে হবে। নিয়ম করে জল খেলে প্রসাবের রং হালকা হলুদ হতে পারে, গাঢ় নয়। প্রস্রাবের মাত্রা কমলে বারে বারে জল খাওয়া দরকার। শুধু জলের বদলে কখনও কখনও ডাবের জল খেতে পারেন। এ ছাড়া, ঘরে তৈরি পাতিলেবুর শরবত, দইয়ের ঘোলও তালিকায় রাখা যেতে পারে।

পরীক্ষা ২: জিভ দিয়ে দাঁত এবং মুখগহ্বরের নানা অংশ স্পর্শ করুন। স্বাভাবিক অবস্থায় তা ভিজে ঠেকবে। কিন্তু জিভ ঠেকালেও যদি শুকনো বোধ হয়, জিভে যথেষ্ট লালার অভাব থাকে তা হলে বুঝতে হবে শরীরে জলের পরিমাণ পর্যাপ্ত নেই। বার বার করে জল খেতে হবে। দিনের শুরুতে মৌরি, মেথির জল খেতে পারেন। চিনি মেশানো কৃত্রিম শরবতের বদলে পাতিলেবুর রস, টাটকা ফলের রসও তালিকায় রাখতে পারেন।

পরীক্ষা ৩: হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করে দেখুন। যদি তা আচমকা বৃদ্ধি পায়, সতর্ক হতে হবে। জলের অভাব হলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। হার্ট সেই রক্ত পাম্প করার জন্য দ্রুত গতিতে কাজ করে। এক বার শুয়ে থাকা অবস্থায় নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করুন। পর ক্ষণেই দাঁড়িয়ে তা আবার পরীক্ষা করুন। নাড়ির স্পন্দন আচমকাই বেশ কিছুটা বেড়ে গেলে সতর্ক হতে হবে।

হার্ট বা কিডনির সমস্যা না থাকলে এক জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দিনে অন্তত আড়াই থেকে ৩ লিটার জল খাওয়া দরকার। তবে একবারে নয়, বারে বারে। আধ থেকে এক ঘণ্টা অন্তর এক গ্লাস করে জল খাওয়া দরকার। ঘাম বেশি হলে ডাবের জল, টাটকা ফলের রস, নুন-লেবু দিয়ে দইয়ের ঘোল খাওয়া জরুরি। তেষ্টা পেলে অনেকেই বাজারচলতি কার্বোনেটেড পানীয়, এনার্জি ড্রিংকে গলা ভেজান। কার্বোনেটেড পানীয়ে চিনি থাকায়, উল্টে জলের প্রয়োজন বাড়তে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন