হাড় মজবুত রাখতে কী কী খাবার খাবেন? ছবি: সংগৃহীত।
বয়স বাড়লেই হাড়ে ব্যথা, হাঁটুতে জড়তা আসা, পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সমস্যাগুলির অনেকখানি নির্ভর করে প্রতি দিন কী খাওয়া হচ্ছে, তার উপর। হাড়, পেশি আর অস্থিসন্ধি ভাল রাখতে শুধু ব্যায়াম নয়, খাদ্যাভ্যাসও ভীষণ জরুরি। হাড়, পেশি আর অস্থিসন্ধিকে ভাল রাখতে আলাদা কোনও কঠিন ডায়েটের দরকার নেই। দরকার শুধু সচেতন ভাবে খাবার বেছে নেওয়া।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই হাড়ের যত্ন নেবে। ছবি: সংগৃহীত।
মুম্বইয়ের অস্থিরোগ চিকিৎসক মনন ভোরা জানাচ্ছেন, এমন পাঁচটি খাবারের গোষ্ঠী আছে, যেগুলি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে দীর্ঘ দিন শরীর মজবুত ও সচল থাকে।
১. ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: হাড়ের ভিত গড়ে ওঠে ক্যালশিয়াম দিয়েই। দুধ, দই, ছানা বা পনির, চিজ়, সয়াজাতীয় খাবার আর বাদাম নিয়মিত খেলে হাড়ের ঘনত্ব ভাল থাকে, বয়সের সঙ্গে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে।
২. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: পেশির জোর বাড়াতে এবং অস্থিসন্ধির চারপাশের টিস্যু ঠিক রাখতে প্রোটিন একান্ত প্রয়োজন। ডাল, মাছ, ডিম, কাবলি ছোলা, পনির, টোফু কিংবা মুরগির মাংস শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেয়। প্রোটিনের অভাবে পেশি শিথিল হয়ে পড়ে, ফলে অস্থিসন্ধিতে চাপ বাড়ে। প্রয়োজনে প্রোটিন পাউডারও খাওয়া যায়।
৩. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার: শুধু ক্যালশিয়ামে ভরপুর খাবার খেলেই হবে না, শরীরকে তা শোষণ করার সুযোগও দিতে হবে। সেই কাজটি করে ভিটামিন ডি। নিয়মিত সকালের রোদে কিছু ক্ষণ থাকলে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করে। এতে হাড় আরও মজবুত হয়। তা ছাড়া ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণ করার জন্য কিছু খাবারও খাওয়া দরকার। ডিমের কুসুম, মাশরুম, ইত্যাদি। প্রয়োজনে ভিটামিন ডি-র সাপ্লিমেন্টও নিতে হতে পারে।
৪. প্রদাহনাশী খাবার: অস্থিসন্ধিতে ব্যথা বা আড়ষ্ট ভাব অনেক সময় শরীরের ভিতরের প্রদাহের কারণে তৈরি হয়। হলুদ, আদা, শাকসব্জি (পালংশাক, কেল, ব্রকোলি) আর রঙিন ফল (বেরি) এই প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এতে অস্থিসন্ধি নমনীয় থাকে, সচল থাকাও সহজ হয়।
৫. স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার: সব চর্বি খারাপ নয়। কিছু ভাল চর্বি অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের জন্য দরকার। নির্দিষ্ট কিছু বীজ (চিয়া বা তিসি), বাদাম আর তেলযুক্ত মাছ অস্থিসন্ধির শুষ্কতা কমায় এবং নমনীয়তা বাড়ায়। ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টও নিতে হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শে। এগুলি প্রদাহ নাশ করে অস্থিসন্ধিকে সুরক্ষা দেয়।