হাড়-দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালশিয়ামের প্রয়োজন। তবে এর কার্যকারিতা শুধু এটুকুই নয়। ক্যালশিয়াম এমন একটি খনিজ যার অভাবে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ কঠিন হয়ে যেতে পারে পারে। ক্যালশিয়ামের অভাবে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। খনিজটির অভাবে পেশির সংকোচন-প্রসারণে সমস্যা হতে পারে, মস্তিষ্কের বার্তা প্রেরণে অসুবিধা হতে পারে, অনিয়িমত হৃদস্পন্দনও ঘটতে পারে।
দুধ, ডিম-সহ বেশ কিছু খাবার ক্যালশিয়ামের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। আবার দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু ভুল, বিশেষ কয়েকটি খাবার ক্যালশিয়াম শোষণের পথেও বাধা হতে পারে। খাদ্যতালিকার কোন খাবারগুলি নিয়ে সতর্কতা জরুরি?
সোডা: সোডা যুক্ত কার্বেনেটেড পানীয় ছোট থেকে বড় সকলেরই পছন্দ। তবে নিয়মিত এমন পানীয় খেলে ক্যালশিয়াম শোষণের পরিমাণ কমতে পারে। এই ধরনের পানীয়ে ফসফরিক অ্যাসিড খনিজটি শোষণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে, ফলে শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়।
প্রক্রিয়াজাত মাংস: সসেজ, বেকন-সহ প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার চল এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে চিকিৎসকেরা বার বারই বলছেন এই ধরনের খাবার এড়িয়ে যেতে। প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে যা হাড়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ক্যালশিয়াম শোষণের ক্ষেত্রে তা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
মিষ্টি, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট: চিনি, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে। প্রদাহ হতে পারে তা থেকে। যার ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। বদলে বাদাম, দুধ, ডিম জাতীয় খাবার তালিকায় রাখা দরকার।
চা-কফি: চা-কফির মতো পানীয়ে থাকা ক্যাফিনও ক্যালশিয়াম শোষণের পথে বাধা হতে পারে। অতিরিক্ত চা-কফি খেলে এমনটা হতে পারে। ক্যাফিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া হাড়ের পক্ষে ক্ষতিকর। ফলে চা-কফির মাত্রা কমানো জরুরি।
মদ্যপান: মদ্যপানে শরীরে নানা রকম ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত মদ্যপানে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অ্যালকোহল।
এই ধরনের খাবারগুলি পুরোপুরি বাদ না দিতে পারলেও যথা সম্ভব এড়িয়ে যেতে বলছেন চিকিৎসকেরা। ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমলেও তার প্রভাব পড়তে পারে ক্যালশিয়াম শোষণে। শরীরে ক্যালশিয়ামের সামগ্রিক মাত্রা কমে গেলে, শরীর হাড় থেকে ক্যালশিয়াম শুষে নেয়। এ কারণে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
ভিটামিন ডি-র মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত রোদে হাঁটাহাটি করা জরুরি। তালিকায় রাখা দরকার দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসব্জি, বাদাম, বীজের মতো খাবার।