Kidney Health Tips

কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু কী? অঙ্গটির সুরক্ষায় যাপনে কয়েকটি ছোট বদল জরুরি

কিডনির প্রতি যত্নবান হওয়া দরকার প্রত্যেকের। আর তার জন্য বড় কোনও পরিবর্তনের দরকার নেই। যাপনে ছোটখাটো বদল আনলেই অঙ্গটির স্বাস্থ্যরক্ষা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১১:৪১
জীবনযাত্রায় বদল আনলেই সুস্থ থাকবে কিডনি

জীবনযাত্রায় বদল আনলেই সুস্থ থাকবে কিডনি ছবি: সংগৃহীত।

নীরবে শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিডনি। প্রতি দিন রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বার করা, দেহে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা এবং বিভিন্ন খনিজের মাত্রা ঠিক রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। কিন্তু সমস্যা হল, কিডনির অসুখে অনেক সময়েই প্রথম দিকে কোনও স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। ফলে রোগ ধরা পড়তে পড়তে ক্ষতি অনেকটাই হয়ে যেতে পারে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে রোজের যাপনের কিছু অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement
কিডনির স্বাস্থ্যরক্ষায় কী প্রয়োজন?

কিডনির স্বাস্থ্যরক্ষায় কী প্রয়োজন? ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবিটিস, স্থূলত্ব, একটানা বসে থাকা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি কিডনির রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে। তাই কিডনির প্রতি যত্নবান হওয়া দরকার প্রত্যেকের। আর তার জন্য বড় কোনও পরিবর্তনের দরকার নেই। যাপনে ছোটখাটো বদল আনলেই অঙ্গটির স্বাস্থ্যরক্ষা হয়।

কিডনির স্বাস্থ্যরক্ষায় কোন কোন দিকে নজর দিতে হবে?

দেহে জলের পরিমাণ: চিকিৎসকদের মতে, কিডনি ভাল রাখার অন্যতম চাবিকাঠি হল সঠিক মাত্রায় জল খাওয়া। অনেকেই মনে করেন, যত বেশি জল পান করা যাবে, ততই ভাল। কিন্তু সে ধারণা আদপে ভুল ও বিপজ্জনক। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করতে হবে। নয়তো কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্টে। পর্যাপ্ত জল কিডনিকে বর্জ্য পদার্থ বার করে দিতে সাহায্য করে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, সফ্‌ট ড্রিঙ্ক, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা চিনি মেশানো ফলের রসের উপর নির্ভর করা উচিত নয়।

ডায়াবিটিস ও রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ: কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। দীর্ঘ দিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার উচ্চ রক্তচাপ কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, সুষম আহার, শারীরচর্চা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যথেচ্ছ ওষুধে নিয়ন্ত্রণ: মাথায় বা দেহের নানা অংশে ব্যথা বা সামান্য অস্বস্তি হলেই ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যথানাশক ওষুধ খেলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টও কিডনির উপর চাপ ফেলতে পারে। তাই দীর্ঘ দিন কোনও কিছু ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রক্তপরীক্ষা: কিডনির অসুখের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময়ে কোনও উপসর্গই থাকে না। কিন্তু সাধারণ রক্তপরীক্ষা এবং মূত্রপরীক্ষা করিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা আগেভাগে ধরা পড়ে। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনির অসুখের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত।

Advertisement
আরও পড়ুন