ছবি: সংগৃহীত।
হাঁটা ভাল না কি দৌড়ানো? শরীরচর্চার জগতে এই বিতর্ক চিরকালীন। বিশেষ করে কেউ যদি দিনে ৫ কিলোমিটার হাঁটবেন বলে ঠিক করে থাকেন, তবে তার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই হাঁটাটুকু যথেষ্ট হচ্ছে কি না কি শরীর ভাল রাখতে এর থেকেও বেশি কিছু করা দরকার। হাঁটার বদলে মাঠে দৌড়োলে কি কাজ বেশি হত? এ প্রশ্নের উত্তর এত সহজে দেওয়া সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে এবং মেদ ঝরাতে দুটি পদ্ধতিরই নিজস্ব কার্যকারিতা রয়েছে। তবে আপনার জন্য কোনটি বেশি উপযোগী, তা শারীরিক অবস্থা এবং লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে বদলে যেতে পারে।
১. ক্যালোরি
সহজ গাণিতিক হিসেবে দৌড়ানো সবসময় এগিয়ে। ৫ কিলোমিটার দৌড়ালে শরীর যে পরিমাণ পরিশ্রম করে, তাতে সমপরিমাণ দূরত্ব হাঁটার চেয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি ক্যালোরি খরচ হয়। কারণ, দৌড়ানোর সময় হৃদস্পন্দন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের প্রতিটি পেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করে।
২. হার্ট কি বলছে?
হাঁটা এবং দৌড়ানো—উভয়ই কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার। তবে দৌড়ানো হৃদপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা দ্রুত বাড়ায়। অন্যদিকে, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দ্রুত হাঁটা রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দৌড়ানোর মতোই কার্যকর হতে পারে, যদি পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়।
৩. ঝুঁকি কোথায়?
এখানে হাঁটা নিশ্চিতভাবেই জয়ী। দৌড়ানো একটি 'হাই-ইমপ্যাক্ট' ব্যায়াম। দৌড়ানোর সময় প্রতি পদক্ষেপে শরীরের ওজনের প্রায় তিনগুণ চাপ হাঁটু এবং গোড়ালির ওপর পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে লিগামেন্ট বা জয়েন্টে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যারা বয়স্ক বা যাদের ওজন একটু বেশি, তাদের জন্য ৫ কিলোমিটার হাঁটা অনেক বেশি নিরাপদ।
৪. ধারাবাহিকতাও জরুরি
হাঁটার সময় ক্লান্তি কম হয় বলে এটি প্রতিদিন চালিয়ে যাওয়া সহজ। ৫ কিলোমিটার দৌড়ানো যেখানে বেশ কষ্টসাধ্য এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির ব্যাপার, সেখানে ৫ কিলোমিটার হাঁটা তুলনামূলকভাবে কম ক্লান্তিকর। মানসিক চাপ কমাতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে হাঁটার জুড়ি নেই।
৫. ওজন কমাতে
যদি আপনার হাতে সময় কম থাকে এবং দ্রুত ওজন কমাতে চান, তবে দৌড়ানোই সেরা পথ। কিন্তু আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই অভ্যেস গড়তে চান যেখানে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না, তবে নিয়মিত দ্রুত হাঁটাই শ্রেয়।
কোনটি বেছে নেবেন?
দৌড়ান যদি..
অল্প সময়ে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে চান এবং আপনার হাঁটু ও হার্ট সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে।
হাঁটুন যদি...
ব্যায়াম সদ্য শুরু করে থাকেন, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে বা খুব বেশি হাঁপিয়ে না গিয়ে শরীরকে সচল রাখতে চান।
তবে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ‘ইন্টারভাল ট্রেনিং’। অর্থাৎ ৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কিছুক্ষণ দ্রুত হাঁটুন এবং কিছুক্ষণ হালকা দৌড়োন। এতে শরীরের ওপর চাপও কম পড়বে আবার ক্যালরিও বেশি খরচ হবে।