ছবি: সংগৃহীত।
গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে তখনই যদি পেট ঠান্ডা থাকে। আর পেট ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজন যথাযথ খাবার খাওয়া। গরমে অতিরিক্ত তেল-মশলাদার বা ভারী খাবার খেলে পেটের সমস্যা হতে বাধ্য। তা ছাড়া গরমে ব্যাকটেরিয়া এবং নানা ধরনের সমস্যাও বাড়ে। পেটের স্বাস্থ্য এবং সার্বিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে বেছে নিন চেনা কিছু সব্জি বা আনাজ, যা এই সময়ে বাজারে সহজেই পাওয়া যায়।
১. লাউ ও পেঁপে
গরমে লাউ এবং পেঁপে—দুটিই সুপারফুড হিসেবে কাজ করে। লাউয়ের ৯০ শতাংশের বেশি জল, যা শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। অন্যদিকে, পেঁপেতে থাকা ‘প্যাপাইন’ এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে। এই দুটি সবজি দিয়ে হালকা মাছের ঝোল বা ডাল খেলে পেট ঠান্ডা হওয়ার পাশাপাশি শরীরও হালকা লাগে।
২. ঝিঙে ও চিচিঙ্গে
ঝিঙে এবং চিচিঙ্গে অত্যন্ত সহজপাচ্য এবং পেট ঠান্ডা করা সব্জি। এতে ক্যালোরি অত্যন্ত কম কিন্তু ফাইবার এবং জলীয় অংশ প্রচুর। যারা গরমে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ঝিঙে-চিচিঙ্গে আশীর্বাদস্বরূপ। এটি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে।
৩. পটল
পটল কেবল স্বাদে ভালো নয়, এটি প্রাকৃতিক থার্মোস্টেট হিসেবে কাজ করে যা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক। পটলে থাকা ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তবে এর আসল পুষ্টি পেতে কষানো ঝোলের বদলে হালকা ভাতে বা সেদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
৪. উচ্ছে বা করলা
তীব্র গরমে তেতো স্বাদের খাবার শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দিতে অনন্য। উচ্ছে লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্ত পরিষ্কার রাখে। গরমের ক্লান্তি দূর করতে এবং পিত্তরসের ভারসাম্য বজায় রেখে পেট শান্ত রাখতে উচ্ছে বা করলার কোনো বিকল্প নেই।
৫. কাঁচা আম
কাঁচা আমে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এর বিশেষ গুণ হলো এটি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে, যা আমাদের হিট-স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচায়। কাঁচা আমের পেকটিন ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজমশক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এক বাটি আমের টক ডাল বা আমপোড়া শরবত নিমেষেই শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ কমিয়ে প্রশান্তি আনে।