কোন ধরনের অভ্যাস কাজের হয়েও কাজ পন্ড করতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
সকালে উঠছেন, নানা রকম কাজ করছেন। কিন্তু আদতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভোরে উঠেও কর্মক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পৌঁছোনো যাচ্ছে না। সকাল থেকে মিটিং, ইমেলে চোখ রেখেও সময়ের কাজ সময়ে শেষ হচ্ছে না। দিনের শেষে বাড়ছে চাপ, চেপে বসছে একরাশ ক্লান্তি।
এমন পরিস্থিতির সঙ্গে বোধহয়, কম-বেশি অনেকেই মিল খুঁজে পাবেন। পেশার জগতে গত কয়েক বছরে আমূল বদল এসেছে। বিশেষ করে কর্পোরেট জগতে সময়ের অভাব যেন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। তা সামাল দিতেই কেউ ঘুম অপূর্ণ রেখেই তাড়াতাড়ি উঠে পড়ছেন, কেউ কাজের চাপ এবং সংসার সামলাচ্ছেন দশভুজা হয়ে। কিন্তু প্রাপ্তির ভাঁড়ারে কী থাকছে? মনোবিদ থেকে যাপন সহায়কেরা বলছেন, অভ্যাসের ভুলত্রুটিও মস্তিষ্কের শক্তি অপচয় বা কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে। কোন ধরনের অভ্যাস কাজের হয়েও কাজ পণ্ড করতে পারে?
ভোরে মোবাইল: ঘুম ভেঙেই মোবাইল খোঁজেন এমন মানুষের সংখ্যাই বোধহয় এখন সবচেয়ে বেশি। বয়স যা-ই হোক না কেন, ঘুমভাঙা ভোরে মোবাইলটি চাই-ই চাই। কারও নজর তখন সমাজমাধ্যমে, কেউ এক ঝলকে কাজের প্রয়োজনীয় জিনিসটি খুঁজছেন, কেউ একটু অলস হয়ে বিনোদনের স্বাদ পেতে চাইছেন।আর তাতেই বয়ে যাচ্ছে সময়। এ এমন এক আসক্তি যা থেকে নিস্তার পাওয়া কঠিন। তাই মনোবিদেরা অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন, ঘুম থেকে ওঠার পরে ঘণ্টাখানেক মোবাইলে হাত নয়।
ইমেলে উদ্বেগ! সকালে মোবাইল হাতে পেয়েই ইমেলে চোখ চলে যাচ্ছে? ভাবছেন তড়িঘড়ি সে সব দেখে প্রয়োজনীয় প্রত্যুত্তর দিয়ে ফেললেই কাজ খানিক হালকা হবে। আদতে তাই হচ্ছে কি? সকাল সকাল ইমেল নিয়ে বসে পড়লেও মানসিক ক্লান্তি আসতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পরে মস্তিষ্ক চনমনে থাকে। কিন্তু তখনই যদি একগাদা ইমেলে চোখ যায়, মস্তিষ্ককে প্রতিটি ইমেলের জন্য ভাবনাচিন্তা শুরু করতে হয়। কোন ইমেলের উত্তর দেওয়া দরকার, কী উত্তর হবে, কোনটি এড়িয়ে যাবেন, কোনটি ডিলিট করবেন, কোনটি পরে পড়ার জন্য রাখবেন। বিষয়টি খুব সাধারণ মনে হলেও, একসঙ্গে এতকিছু ভাবতে হলে মস্তিষ্কও ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
একসঙ্গে অনেক কাজ: সকালটা প্রায় প্রত্যেকেরই ব্যস্ততায় কাটে। অনেকেই সময়ে কাজ শেষ করতে গিয়ে একসঙ্গে একাধিক কাজে মন দেন। শরীরচর্চা করতে করতে অফিসের জরুরি ফোন নেওয়া, তার মধ্যেই হয়তো সন্তানকে স্কুলের জন্য প্রস্তুত করা— এই সব চলতে থাকে। একসঙ্গে দুই দিকে গ্যাস অভেনে রান্না চাপিয়ে খবরের কাগজ দেখা, কাজের ফোন করে নেওয়া। এই সব একসঙ্গে করলে মনে হয় সুবিধা হচ্ছে, তবে এতে যেমন কাজে ভুল হতে পারে, তেমনই এত কাজ করতে গেলে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ক্লান্তিকর হয়ে যায় পরিস্থিতি। তার চেয়ে বরং একটা সময়ে একটা কাজ করলে ভুলের ঝুঁকি কমে, কম সময়ে কাজটিও শেষ হতে পারে।
শরীরচর্চার সময়সীমা: সকালে উঠে শরীরচর্চা করা ভাল। কিন্তু কতক্ষণ? কেমন শরীরচর্চা? ঘুম থেকে উঠেই যদি অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের ব্যায়াম, ওজন তোলার মতো কসরত লম্বা সময় ধরে চলতে থাকে, তাতে সাময়িক ভাবে তরতাজা লাগলেও, বিশ্রামের অভাব হলে শরীর ক্লান্ত হয়ে যাবে। তার পরে দিনভরের ব্যস্ততা, কাজ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণে অনেকেই কাজের শেষে শরীরচর্চা পছন্দ করেন। এতে মাথা ঠান্ডা করে জিমে ব্যায়াম করা যায়, তার পরে বিশ্রামও নেওয়া যায়।
কম ঘুম: ব্যস্ততা সামাল দিতে আগেই ঘুম থেকে উঠছেন। তবে ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম হচ্ছে কি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে, সকালে উঠে হাঁটাহাটি অর্থহীন হতে পারে। ঘুমের ঘাটতি হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিভিন্ন প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাও কমতে পারে। তাই সকালে উঠতে হলে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোনো জরুরি।