ছবি: সংগৃহীত।
গরমে নানা সমস্যার মধ্যে একটি মাথা ধরা। ঘুম থেকে উঠে বা রাস্তায় বেরিয়ে কিংবা বাইরে থেকে ঘুরে এসে বাতানুকুল পরিবেশে ঢুকে আচমকাই শুরু হয় দপদপিয়ে মাথা যন্ত্রণা। যা হলে আর কোনও কাজ করা যায় না। গরমে এই সমস্যা হওয়ার নানা কারণ থাকেতে পারে।অতিরিক্ত রোদে ঘোরাঘুরি, শরীরে জলের ঘাটতি, সোডিয়ামের ঘাটতি বা ‘হিট স্ট্রেস’ থেকেও হতে পারে যন্ত্রণা। যদি হাতের কাছে ওষুধ না থাকে তবে চটজলদি আরাম পেতে কিছু ‘টোটকা’ কাজে লাগতে পারে।
১. তর্জনী ও বুড়ো আঙুলের সংযোগস্থলে চাপ
হাতের তালুর পেছনের দিকে তর্জনী এবং বুড়ো আঙুলের মাঝখানের মাংসল অংশে চাপ দিলে মাথা ব্যথায় দ্রুত আরাম মেলে।
পদ্ধতি: এক হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে অন্য হাতের ওই অংশে কিছুটা জোরে চেপে ধরুন। তার পরে বৃত্তাকারে ১-২ মিনিট মাসাজ করুন। এটি স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করবে। মাথা ব্যথা কমবে অবিলম্বে।
২. ভ্রু-র মাঝখানে মাসাজ
দুই ভ্রু-র ক মাঝখানের অংশটিকে অল্প চাপ দিয়ে মাসাজ করলে মানসিক চাপ ও মাথা ব্যথা দুই-ই কমে।
পদ্ধতি: তর্জনী দিয়ে দুই ভুরুর মাঝখানের বিন্দুতে হালকা চাপ দিন এবং ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাসাজ করুন। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে সাইনাসের চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
৩. সঠিক পদ্ধতিতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস
শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলে মাথা ব্যথা বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে ‘অনুলোম-বিলোম’ প্রাণায়ম বা গভীর শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে।
পদ্ধতি: মন শান্ত করুন। নাকের একটি ছিদ্রপথ চাপ দিয়ে বন্ধ করে অন্য নাসারন্ধ্র দিয়ে গভীর শ্বাস নিন, তারপর অন্য নাক দিয়ে ছাড়ুন। অথবা জিভটি নলের মতো করে তা দিয়ে শ্বাস টেনে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এতে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে এবং মাথা শান্ত হয়।
৪. জল এবং বরফ
গরমে মাথা ব্যথার প্রধান কারণ ডিহাইড্রেশন। তাই প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল বা ইলেকট্রোলাইট পান করুন। যদি খুব বেশি ব্যথা হয়, তবে একটি রুমাল বরফ ঠাণ্ডা জলে ভিজিয়ে কপালে এবং ঘাড়ের পেছনের অংশে ১০-১৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। এটি রক্তনালীকে সংকুচিত করে ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে
৫. আদার রস বা পুদিনার ব্যবহার
আদা এবং পুদিনা উভয়ই প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহনাশক। তাই মাথা ব্যথা হলে এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন বা আদা চা পান করতে পারেন। অথবা পিপারমিন্ট অয়েল কপালে এবং রগে মাসাজ করলে আরাম পেতে পারেন।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত জ্বর বা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সেটি হিট স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে।