ফ্যাটি লিভার সারাতে পারবে গাঁজা, কেন বললেন গবেষকেরা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ক্ষতিকর নেশার দ্রব্য হিসেবে গাঁজা ও চরসকে নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় ফেলেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। আর এখন গাঁজা নিয়েই এত হইচই। অ্যালেন গিন্সবার্গ, বব মার্লেরা এক সময়ে গাঁজার সপক্ষে গলা চড়িয়েছিলেন। বাংলার গাঁজা প্রেম তো রীতিমতো প্রসিদ্ধ ছিল। উনিশ শতকের বাংলার কবিগানের দল ‘পক্ষীকুল’ ও তার দলপতি কবি রূপচাঁদ পক্ষী ছিলিমের পর ছিলিম গাঁজা টানতে পারতেন এক লপ্তে। তার প্রতিযোগিতাও হত। সে যা-ই হোক, গাঁজা নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় থাকলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর উপকারিতা নিয়ে এখন আর কোনও সন্দেহই নেই বিজ্ঞানীদের। তাঁদের বক্তব্য, নেশাভাঙের জন্য গঞ্জিকা সেবন নয়, বরং ওষুধ হিসেবে খেলে কোনও ক্ষতি নেই।
অথর্ববেদে গাঁজাকে ‘পবিত্র উদ্ভিদ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, যার ঔষধি গুণ আছে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই সারসত্য বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। তাঁরা বলেছিলেন, গাঁজার ক্যানাবিনয়েড যে কোনও ব্যথা-বেদনা কমাতে সিদ্ধহস্ত। সে ক্রনিক ব্যথা হোক, স্নায়ুর রোগ হোক বা ক্যানসারের চিকিৎসা— সবেতেই গাঁজার ওই উপাদানকে কাজে লাগানো যেতে পারে। নিদ্রাহীনদের চোখে ঘুম আনতে এবং মানসিক চাপে বিধ্বস্তদের মন ভাল রাখতেও গাঁজা উপকারী। গাঁজা নিয়ে হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা যখন ভাল ভাল কথা বলছেন, তখন সুদূর ইজরায়েলে আরও একদল বিজ্ঞানী গাঁজার ভাল দিকগুলি নিয়ে গবেষণারত ছিলেন। সম্প্রতি জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দীর্ঘ দিনের গবেষণার পরে দাবি করেছেন, গাঁজার দু’টি উপাদান ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসাতেও কাজে আসতে পারে। লিভারের চর্বি গলাতে গাঁজার চেয়ে ভাল কিছু হতে পারে না।
ক্যনাবিডল (সিবিডি) এবং ক্যানাবিজেরল (সিবিজি)— গাঁজার এই দুই উপাদানের কোনও ক্ষতিকর দিক নেই বলেই দাবি ইজরায়েলের গবেষকদের। এই দুই উপাদান পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেছেন, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে এগুলি কাজে আসতে পারে। মানুষের দেহকোষে ক্যাথেপসিন নামে এক ধরনের উৎসেচক থাকে। এদের কাজ হল কোষের ভিতরের ময়লা পরিষ্কার করা। ক্যাথেপসিন রক্তে জমা হওয়া দূষিত পদার্থও পরিষ্কার করে দিতে পারে। ফ্যাটি লিভার বা লিভারের রোগ হলে, এই প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। তখন ক্যাথেপসিন অচল হয়ে পড়ে। ফলে রক্তে দূষিত পদার্থ জমা হতে থাকে ও কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। গাঁজার সিবিডি ও সিবিজি রক্তে ঢুকলে ক্যাথেপসিনকে পুনরায় সচল ও সক্রিয় করে তুলতে পারে। লিভারে জমা চর্বিও গলিয়ে দিতে পারে অবলীলায়।
গবেষণাটি আপাতত পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্বেই রয়েছে। তবে গবেষকেরা আশাবাদী, গাঁজার ভাল দিকগুলিকে কাজে লাগাতে পারলে অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি সারানো সম্ভব। লিভারের রোগ যে হারে বাড়ছে, তাতে গাঁজা টানা নয়, বরং গাঁজা দিয়ে তৈরি ওষুধই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।