Asthma Attack

ঠান্ডা বাড়ছে, হঠাৎ করে হাঁপানির টান উঠলে কী করবেন? হাতের কাছে ইনহেলার না পেলে কী করণীয়?

শীতে হাঁপানির রোগীদের কষ্ট আরও বাড়ে। ঠান্ডা লেগে হাঁচি বা কাশি এমনকি, শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। রাতে শুয়ে বুকে ব্যথা, হাঁপানির টান উঠতে পারে যখন তখন। যদি আচমকা এমন হয় এবং হাতের কাছে ইনহেলার না পান, তা হলে কী করবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬
A severe asthma attack is life-threatening and requires immediate medical attention, what you should do

হঠাৎ করেই হাঁপানির টান, চরম শ্বাসকষ্ট, কী করবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঠান্ডা কখনও কম, কখনও বেশি। খামখেয়ালি আবহাওয়ার সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে শরীরে নাজেহাল দশা। মরসুম বদলের এই সময়ে যেমন ভাইরাল জ্বর কাবু করছে, তেমনি ঠান্ডা-গরমে হেঁচে-কেশে অস্থির। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো আছে হাঁপানি। এক বার টান উঠলে আর দেখতে হবে না! বুকে যেন পাথর চেপে বসছে। কখনও চিনচিনে ব্যথা, কখনও দমবন্ধ, হাঁসফাঁস অবস্থা। ঘুমোতে গেলেই বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দ। শ্বাস নিতে গেলে কাশির দমকে অস্থির। ঘন ঘন বুকে কফ, লাগামছাড়া হাঁচি, ইনহেলার না নিলে গতি নেই। হাঁপানির টান যখন তখন উঠতে পারে। যদি হঠাৎ করেই টান ওঠে ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তা হলে কী করবেন? বিপদের সময় হাতের কাছে যদি ইনহেলার খুঁজে না পান, তা হলে কী করণীয় জেনে নিন।

Advertisement

হাঁপানির লক্ষণ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকমের। সবচেয়ে আগে লক্ষণ চিনে সতর্ক হতে হবে। সাধারণত অল্পেই হাঁপ ধরা, বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে গেলে সমস্যা, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাশি হওয়া, অনবরত হাঁচি, শ্বাস নিতে ও ছাড়তে গেলে বুকের ভিতর সাঁই সাঁই শব্দ, চোখ দিয়ে ক্রমাগত জল পড়া, চোখে জ্বালা করা— সবই হাঁপানির উপসর্গ। ভাইরাসের সংক্রমণ, ভাইরাল জ্বরে হাঁপানির সমস্যা অনেক বাড়ে। তাই সে ক্ষেত্রে হাতের কাছে ওষুধ, ইনহেলার মজুত করে রাখতেই হবে। বাতাসে থাকা ফুলের রেণু, পোকামাকড়, বিশেষ কোনও খাবার, বালিশ, লেপ তোশকের ধুলো, পোষ্যের লোম, নরম পানীয় ও কিছু ব্যথানাশক ওষুধের কারণেও হাঁপানি বাড়তে পারে। তাই যাঁদের সমস্যা আছে, তাঁদের এই সব জিনিস থেকে দূরেই থাকতে হবে।

হঠাৎ করে হাঁপানির টান উঠলে কী করবেন?

শুয়ে পড়বেন না। বাড়িতে কারও এমন হলে সোজা হয়ে বসতে বলবেন। পিঠ টানটান করে বসতে হবে। ঝুঁকে বসলেও কিন্তু শ্বাসকষ্ট বাড়বে।

সোজা হয়ে বসে গভীর ভাবে শ্বাস টানতে হবে। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিতে হবে। বার বার এই ভাবে যতটা সম্ভব শ্বাস লম্বা করে টেনে, কিছু সময় ধরে রেখে ছেড়ে দিতে হবে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এর পর নাক দিয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নিয়ে তা মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। দেখবেন, হাঁপানির কষ্ট কমে যাবে।

শ্বাসকষ্ট শুরু হলে গরম জলের বাষ্প নিন। এতেও আরাম হবে কিছুটা। তবে অনেকেই জলের সঙ্গে ইউক্যালিপটাস তেল বা নানা রকম এসেনশিয়াল অয়েল মেশান। এতে কিন্তু অ্যালার্জি বেড়ে যেতে পারে।

হাঁপানির টান উঠলে গরম জল খেতে পারেন। তাতেও উপকার হবে কিছুটা। কফি বা গ্রিন টি খেলেও অনেক সময় লাভ হয়।

আশেপাশে যদি ধোঁয়া, ধুলোবালি বা তীব্র সুগন্ধি থাকে, তবে দ্রুত সেই জায়গা পরিবর্তন করে খোলা বাতাসে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

ইনহেলার সঙ্গে না থাকলে অনুলোম-বিলোম করার চেষ্টা করুন। প্রথমে ডান দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, বাঁ দিক দিয়ে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার কাজ করতে হবে। পরে বাঁ দিকের নাকের ছিদ্র চেপে ধরে, ডান দিক দিয়ে শ্বাস গ্রহণ ও বর্জনের অভ্যাস করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি করতে থাকুন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

১) কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে বা কথা আটকে যাচ্ছে।

২) নখ বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাচ্ছে।

৩) বুকে চাপ চাপ ব্যথা হচ্ছে, মনে হবে ভারী পাথর চেপে বসেছে।

৪) হাত-পা ঠান্ডা হয়ে অসাড় হতে শুরু করেছে।

এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সম্ভব হলে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন