Kubbra Sait ADHD

এডিএইচ়ডি-তে আক্রান্ত কুবরা এই মানসিক রোগকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন

এডিএইচডি এখনকার প্রজন্মের আলোচনায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। চেনে। ব্রিটনি স্পিয়ার্স থেকে শুরু করে আলিয়া ভট্ট, ফহাদ ফাসিল থেকে জাস্টিন টিম্বারলেক, বিশ্বব্যাপী তারকারা এই নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্ত অভিনেত্রী কুবরা সৈত নিজের সীমাবদ্ধতাকেই বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে চেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২২
কুবরা সৈতের অকপট স্বীকারোক্তি।

কুবরা সৈতের অকপট স্বীকারোক্তি। ছবি: সংগৃহীত।

মানসিক অসুস্থতাকে দুর্বলতার তকমা দিয়ে নিজেকে আর গুটিয়ে রাখতে চান না বলিউড অভিনেত্রী কুবরা সৈত। বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে চিনতে চান তিনি। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললেন নতুন ভিডিয়োয়। কুবরা জানালেন, তিনি ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজ়অর্ডার’-এ আক্রান্ত।

Advertisement

এই রোগ এখনকার প্রজন্মের আলোচনায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। দুর্বোধ্য এই নামের বদলে এই রোগকে অনেকেই ‘এডিএইচডি’ নামে বেশি চেনেন। ব্রিটনি স্পিয়ার্স থেকে শুরু করে আলিয়া ভট্ট, ফহাদ ফাসিল থেকে জাস্টিন টিম্বারলেক, বিশ্বব্যাপী তারকারা এই নিয়ে কথা বলেছেন। এবং এই রোগের লক্ষণের সঙ্গে অনেকেই নিজেদের আচরণের মিল পান। কিন্তু আদপে এই রোগটি বেশ জটিল এবং ততটাও সাধারণ নয়।

অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজ়অর্ডার এক ধরনের নিউরোডেভেলপমেন্টাল কন্ডিশন। একটি শিশু বড় হওয়ার সময়ে তার মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে। সেই সময়েই ধীরে ধীরে এই রোগের লক্ষণগুলি দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জিনগত ভাবে পরের প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হলেও এডিএইচডি-র ক্ষেত্রে পরিপার্শ্বকে অস্বীকার করা যায় না। আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলি সৃষ্টি হয় পরিবেশের প্রভাবেই। কখনও শৈশবেই এই রোগ ধরা পড়ে, কখনও বা বড় হওয়ার পর। প্রাপ্তবয়সে এডিএইচডি-র লক্ষণ দেখা গেলে তাকে ‘অ্যাডাল্ট এডিএইচডি’ বলা হয়।

কুবরা জানান, দীর্ঘ বছরের আত্মোপলব্ধি এবং থেরাপির মাধ্যমে তিনি তাঁর মস্তিষ্ককে আরও ভাল ভাবে বুঝতে পেরেছেন। আর এই পদ্ধতিই তাঁকে মানসিক স্বচ্ছতা ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আগে হয়তো তিনি নিজের স্বভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন, কিন্তু এখন তিনি এই ‘উন্মাদনা’র মধ্যেও শৃঙ্খলা খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, এডিএইচডি-কে আলিঙ্গন করার ফলে কুবরা নিজের সৃজনশীলতা এবং স্বকীয়তাকে আরও বেশি কাজে লাগাতে পারছেন জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে। থেরাপির ফলেই মনোযোগে সমস্যা কম হয় তাঁর। এখন তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং খুশি। থেরাপির মাধ্যমে তিনি স্থৈর্য্যকে পেয়েছেন, অন্তরের কণ্ঠস্বরকে চিনতে শিখেছেন। আর সম্প্রতিই এই বিষয়টিকে নিজের শক্তি বা ‘সুপারপাওয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারছেন কুবরা।

চঞ্চল, অস্থির প্রকৃতি, মনোযোগের অভাব, হুজুগে চলা, অল্পে রেগে যাওয়া বা কান্নাকাটি করা, আবেগকে ধরে রাখতে না পারা, সামাজিক পরিবেশে মানিয়ে চলতে না পারা, কোনও কাজে অনুপ্রাণিত হতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা— যে রোগের উপসর্গ এমন, তার সঙ্গে যুঝতে পারেন না অনেকেই। কিন্তু সেখানেই জয়ী কুবরা। ছোটদের ক্ষেত্রে যদিও ওষুধ দিয়ে সারানো হয়, কিন্তু অ্যাডাল্ট এডিএইচডি-র জন্য রুটিনমাফিক জীবনযাত্রা মেনে চলা এবং থেরাপি করানোই মূল চিকিৎসা। গুরুতর পরিস্থিতিতে ওষুধ দেওয়া হয়। কুবরা ওষুধ খেয়েছেন কি না, সেই বিষয়ে মন্তব্য করেননি। কিন্তু থেরাপি থেকে যে তিনি উপকৃত, সেই কথা স্বীকার করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে এ কথাও জানিয়েছেন যে, তিনি অতিরিক্ত মাত্রায় নিঃসঙ্গতায় বেড়ে উঠলেও যৌথ যাপনের মধ্যে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। এডিএইচডি-কে তিনি ‘সুখের ঘরের চাবিকাঠি’ হিসেবেই দেখতে ভালবাসেন।

কুবরার অকপট স্বীকারোক্তির নেপথ্যে অনুরাগীদের অনুপ্রাণিত করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের গল্প ভাগ করে নিয়ে সামাজিক জড়তা কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, অন্যদেরও উৎসাহিত করেছেন। এই রোগে আক্রান্তেরা যেন নিজেদের ভিন্নতাকে খামতি হিসেবে না দেখেন, যেন সীমাবদ্ধতাগুলিকে শক্তি হিসেবে দেখতে শেখেন।

Advertisement
আরও পড়ুন