Madhavan Breakfast Recipe

সকালের একটিই খাবার ওজন বাড়তে দেয় না, ৫৫ বছরে এমন সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার রহস্য বললেন মাধবন

বয়স যেন থমকে গিয়েছে। ৫৫ বছরে আর পাঁচজনের চেহারায় যে ছাপ পড়ে, তা মাধবনের নেই। বরং বয়সের ছেয়ে অনেকটাই ছোট মনে হয় তাঁকে। এর কারণই হল নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা ও খাওয়াদাওয়ার সংযম। গড়পড়তা ডায়েট নয়, সকাল সকাল একটি খাবারেই ভরসা রাখেন অভিনেতা। তাতেই এমন সুস্বাস্থ্য ধরে রেখেছেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫৭
Actor Madhavan reveals his breakfast that keeps him fit and healthy at 55

প্রাতরাশে কী খেয়ে এত ফিট মাধবন, বয়সও থমকে গিয়েছে তাঁর? ফাইল চিত্র।

বয়স ৫৫ পেরিয়েছে। কিন্তু চেহারায় সে ছাপ পড়েনি। উল্টে বয়সের চেয়ে অনেকটাই ছোট লাগে মাধবনকে। এক সময়ে তাঁর গ্ল্যামারে পাগল ছিলেন অগুন্তি মহিলা ভক্ত। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘শয়তান’ ছবির সাফল্যের পরে মাধবনের ভক্ত সংখ্যা বেড়েছে বই কমেনি। এর পরে একাধিক ছবি ও ওয়েব সিরিজেও নজর কেড়েছেন। সবচেয়ে বেশি যা চোখে পড়েছে, তা হল মাধবনের ফিটনেস। যে সময়ে বয়সের ছাপ পড়াকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হয়, সেই বয়সে গিয়ে এমন তারুণ্য আলাদা করে নজর কাড়েই। আর সেখানেই মাধবনের সাফল্য। কী করে এমনটা সম্ভব হল, তার জবাবও দিয়েছেন সম্প্রতি। এর নেপথ্যে রয়েছে সকালের জলখাবার। সেটিই এক আশ্চর্য উপায়ে বয়স কমিয়ে দিয়েছে অনেকটাই।

Advertisement

মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া মাধবন গড়পড়তা ডায়েটে বিশ্বাস করেন না। ঘরোয়া খাবারেই রুচি তাঁর। বাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ওজন কমাতে যেমন হরেক রকম খাবারের তালিকা সামনে আনেন, মাধবন সেখানে ব্যতিক্রম। তাঁর এখন যেমন টানটান ঝরঝরে চেহারা, যার জন্য বয়েস অনেকটাই কম দেখায়, তা পেতে জিমেও যেতে হয়নি তাঁকে। তবে কী করেছেন? মাধবন জানিয়েছেন, তাঁর দিন শুরু হয় দই-পান্তা খেয়ে। তবে সাধারণ পান্তা নয়। ভাত মজিয়ে তৈরি করা এই খাবারটিকে দক্ষিণে বলা হয় ‘কাঞ্জি ভাত’ (রাইস কাঞ্জি)। ‘কাঞ্জি’ মানেই হল ফার্মেন্টেটেড বা গেঁজিয়ে ওঠা পানীয়। রান্না করা ভাত মজিয়ে তার সঙ্গে দই ও নানা মশলার ফোড়ন দিয়ে খাবারটি আরও সুস্বাদু করে তোলা হয়। এর পুষ্টিগুণও বাড়ে।

গ্ল্যামার জগতের দামি প্রোটিন শেক ও বিদেশি সুপারফুডের ধারণা ভেঙে দিয়েছেন মাধবন। জানিয়েছেন, তাঁর মেদহীন শরীরের রহস্য লুকিয়ে এক বাটি কাঞ্জিতেই। নিয়ম করে প্রাতরাশে এই খাবারটিই খান। শুটিং থাকলেও। এর কারণও আছে। ভাত মজিয়ে তৈরি করা কাঞ্জি খুবই উপকারী প্রোবায়োটিক। পেট ভাল রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। কাঞ্জি খেলে হজমশক্তি বাড়ে, পেট ঠান্ডা থাকে। সকাল সকাল কাঞ্জি খাওয়ার আরও একটি কারণ হল, এটি খুব দ্রুত শক্তির জোগান দেয়। ফলে শরীর চনমনে থাকে। কাঞ্জি খেলে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা হয় না। শরীরের ভিটামিন ও খনিজগুলির ভারসাম্য বজায় থাকে। আর এর প্রতিফলন ঘটে ত্বক ও চুলে। চেহারায় জেল্লা ফিরে আসে।

রাইস কাঞ্জি কী ভাবে বানাবেন?

মাধবনের মতো সুস্বাস্থ্য পেতে হলে রাইস কাঞ্জি খেতে পারেন। খুব সহজ বানানো।

উপকরণ:

আধ কাপ সেদ্ধ চাল

৩-৪ কাপ জল

২ চামচ টক দই বা দইয়ের ঘোল

১ চামচ আদাকুচি

১ চামচ কাঁচালঙ্কাকুচি

১ টি গোটা পেঁয়াজ

একমুঠো পুদিনাপাতা

ফোড়নের জন্য: ঘি, কারিপাতা, কালো সর্ষে, হিং

নুন স্বাদমতো

প্রণালী:

ভাত করে তাতে জল ঢেলে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। ফ্রিজে রাখলে চলবে না। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতে রাখতে হবে। রাতভর সেই ভাত গেঁজিয়ে উঠবে। এ বার সকালে সেই গেঁজানো ভাত ভাল করে মেখে নিয়ে তার সঙ্গে নুন এবং দই বা দইয়ের ঘোল মিশিয়ে নিন। একটি প্যানে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে তাতে সর্ষে, আদাকুচি, কাঁচালঙ্কাকুচি, হিং, কারিপাতা ফোড়ন দিন। হালকা নেড়ে সেটি কাঞ্জির সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এ বার পেঁয়াজ ও পুদিনাপাতা ছড়িয়ে দিন।

Advertisement
আরও পড়ুন