শোয়েব ইব্রাহিম জিমে গিয়ে শরীরচর্চা শুরুর আগে রক্তপরীক্ষা করার কথা ভাবছেন কেন? ছবি: সংগৃহীত।
পারিবারিক দুশ্চিন্তা, সমস্যা সরিয়ে আবার ছন্দে ফিরছেন শোয়েব ইব্রাহিম। মুম্বইয়ের টেলিভিশন অভিনেতা সম্প্রতি নিজের বাড়িতে ট্রেড মিলে হাঁটার ছবি ভাগ করে নিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। শরীরচর্চা শুরু করার কথা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন কিছু দিনের মধ্যেই জিমেও যাওয়া শুরু করবেন, তবে তার আগে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেবেন।
প্রশ্ন এখানেই, শরীরচর্চায় অনেকেরই মাঝেমধ্যে ছেদ পড়ে। লম্বা বিরতিও থাকে। কিন্তু জিমে যেতে হলে কে আবার রক্তপরীক্ষা করান? তা কি জরুরি?
মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস নিয়ে চর্চাকারী গরিমা গয়াল জানাচ্ছেন, বিষয়টি অনেকের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও আদতে তা নয়। বরং এমন ভাবনা সচেতনতার পরিচায়ক। শোয়েবের স্ত্রী দীপিকা কক্কড় একজন ক্যানসার যোদ্ধা। ফলে এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে থাকতে গিয়ে শোয়েবকেও মানসিক-শারীরিক ধকল নিতে হচ্ছে। সেই ধকলের প্রভাব পড়ে নিঃশব্দে। ঘুমের ঘাটতি, ক্রমাগত মানসিক চাপ, উদ্বেগে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তার ফলে শরীরেও ক্লান্তি বাসা বাঁধে, পুষ্টির ঘাটতি হয়।
পুষ্টিবিদের কথায়, এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে শরীরচর্চার আগে রক্ত পরীক্ষা ভুল সিদ্ধান্ত নয়। কার্ডিয়োভাস্কুলার এক্সারসাইজ় শুরুর আগে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রনের মাত্রা জানতে ফেরিটিন টেস্ট করানো যেতে পারে। শরীরে হিমোগ্লোবিন কম থাকলে, আয়রনের ঘাটতি হলে ট্রেড মিলে দৌড়োনোর সময়েই কেউ হাঁপিয়ে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মনে হতে পারে এটা বুঝি বেশি পরিশ্রমের ফল। আদতে কিন্তু তা নয়।
একই সঙ্গে ভিটামিন ডি-এর মাত্রাও দেখে নিতে বলেছেন গরিমা। কারণ, তুলনামূলক কম বয়সেও অনেকের ভিটামিনের ঘাটতি হয়। ভিটামিন ডি কম থাকলে, সামান্য শরীরচর্চাতেও ক্লান্তি আসবে, কষ্ট হবে। এ ছাড়াও, থাইরয়েড, শর্করা, লিপিড-প্রোফাইলের মাত্রাও ঠিক আছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভাল।
কেউ সমতলে হাঁটাহাটি করলে খুব বেশি শারীরিক শ্রম হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের শরীরচর্চা করতে গেলে, তার আগে নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।
পুষ্টিবিদ জোর দিচ্ছেন শরীরচর্চার সময়ে পুষ্টির দিকেও। কার্ডিয়োভাস্কুলার এক্সারসাইজ় করতে হলে পেশি সবল হওয়া দরকার। সেই জন্য জোর দিতে হবে প্রোটিনে। আবার শক্তির জন্য বেছে নিতে হবে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। সঙ্গে ভিটামিন-খনিজ জরুরি। মানসিক চাপ এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসও শরীরের ক্ষতি করে। সেই কারণে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক খাওয়া-দাওয়ায় গুরুত্ব দিচ্ছেন গরিমা।