কোন খাবার ভাল, কোনটা ক্ষতিকর বুঝবেন কী ভাবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হবে। তাই পরিচিত খাবার বদলে ফেলছেন অনেকে। সাধারণ মানুষ সব খাবারেই স্বাস্থ্য ভাল রাখার রসদ খুঁজছেন। সে কারণেই বদলাচ্ছে খাবারের ধরন। আবার পুরনো চেনা খাবারও আসছে নতুন মোড়কে, নতুন প্রচারে। বিভিন্ন সংস্থাই দাবি করছে, তাদের পণ্যে চিনি নেই, ফ্যাট কম। সেই সব দেখেই জিনিস কেনেন? কিন্তু কোনটি বিশ্বাস করবেন, আর কোনটি নয় সে ব্যাপারে সতর্ক করলেন পেটের রোগের চিকিৎসক সৌরভ শেট্টি।
এমস এবং হার্ভার্ডে পড়াশোনা করা চিকিৎসক এই মুহূর্তে ক্যালোফোর্নিয়া নিবাসী।সমাজমাধ্যমে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। নেটপ্রভাবী এই চিকিৎসক বলছেন, রঙচঙে মোড়কে বা বিজ্ঞাপনী প্রচারে না ভুলে জিনিস কেনার সময়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন উপকরণের তালিকায়।
তালিকায় নজর দিন: খাবারের প্যাকেটের সামনের দিকে নজর কাড়ার জন্য লেখা থাকে ‘ন্যাচারাল’, ‘লো ফ্যাট’, ‘সুগার ফ্রি’, ‘কিটো’। তবে এগুলি দেখে বোঝা সম্ভব নয়, এই খাবার খেলে রক্তে শর্করার ওঠা-পড়া কতটা হবে বা তা বিপাকহারকে প্রভাবিত করবে কি না। সেটি বুঝতে হলে প্যাকেটের পিছনে উপকরণ তালিকায় চোখ বোলাতে হবে।
প্রথম তিনে নজর: খাদ্যদ্রব্য কী দিয়ে তৈরি তা উপকরণ তালিকা দেখে জানা যায়। চিকিৎসকের মত, প্রথম তিন উপাদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত উপকরণগুলি একেবারে প্রথমের দিকে থাকে। সেই তালিকায় যদি শুরুতেই ‘সুগার’, ‘রিফাইনড স্টার্চ’, ‘রিফাইনড অয়েল’ থাকে তা হলে বুঝতে খাবারটি খেলে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
চমক: পণ্যের গায়ে অনেক সময় লেখা থাকে ‘লো ফ্যাট’, ‘ফ্যাট ফ্রি’। তার পরেও তাতে চিনি বা শর্করা থাকতে পারে। উপকরণের তালিকা দেখলে তবেই বোঝা যাবে কী কী দেওয়া হয়েছে।
নাম না জানা উপকরণ: ‘সুগার’ বলে উল্লেখ না থাকলেও অনেক সময় অন্য নামের আড়ালে চিনি থাকে। তা ছাড়া খাবার প্যাকেটে উপকরণের তালিকায় যত বেশি অজানা নাম থাকে, ততই তা দীর্ঘ প্রক্রিয়াজাত হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয়।
ফাইবার: খাবারে ফাইবার রয়েছে কি না দেখা দরকার। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফাইবার থাকলে একই খাবার খেলে পরিপাক ক্রিয়া ধীরে হয়, দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে না।
কী কী দেখা দরকার?
· খাবার জিনিসটি চেনা এবং স্বল্প উপকরণে তৈরি কিনা
· খাবারে প্রোটিন, ফাইবার আছে কি
· অল্প চিনি আছে না একেবারেই নেই
· মূল খাবারটি কী