Anil Kapoor

বরফজলে স্নান থেকে ওজন তুলে ব্যায়াম, ফিট থাকতে কী ধরনের শরীরচর্চা করেন অনিল কপূর?

৬৯ বছর বয়সেও সুঠাম বাহু। শক্তপোক্ত পেশি। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েনি, বরং দিন দিন শরীর ও মনে আরও চনমনে হয়ে উঠছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনিল কপূর। তাঁর ফিটনেসের রহস্য কী?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০০
Anil Kapoor shares his intense workout routine

বরফ জলে ডুবে থাকেন, ফিটনেসের জন্য আর কী করেন অনিল কপূর? ছবি: সংগৃহীত।

হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারে মুখে মাস্ক পরে শুয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল অনিল কপূরকে। সে ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন আরও এক বর্ষীয়ান অভিনেতা, অনুপম খের। জানা গিয়েছিল, শরীরে যৌবনের তেজ অটুট রাখতেই এমন প্রচেষ্টা তাঁর। বয়স হবে, অথচ শরীর বুড়িয়ে যাবে না, তারকাদের মধ্যে এখন এই ধারাই চলছে। আর তা অনুকরণ করছেন সাধারণ মানুষেরাও। ৬৯ বছরে পৌঁছেও অনিল কপূর এখনও ফিট, চনমনে। বয়সের ছাপ সে ভাবে পড়েনি শরীরে। সিনেমায় এখনও রীতিমতো অ্যাকশন দৃশ্যে লম্ফঝম্ফ করতে দেখা যায় তাঁকে। এর কারণ হল নিয়ম মেনে শরীরচর্চা, এমনই জানিয়েছেন তারকা স্বয়ং। সুঠাম বাহু ও শক্তপোক্ত পেশি ধরে রাখতে শরীরের ‘আপার কোর এক্সারসাইজ়’ করেন অনিল। ওজন তুলে ব্যায়াম, স্ট্রেংথ ট্রেনিং, কার্ডিয়ো, সবই করেন নিয়ম মেনে।

Advertisement

পেশি ধরে রাখার ব্যায়াম

ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ওজন তুলে ব্যায়াম করার ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন অনিল। সেখানে তাঁকে ডাম্বেল শোল্ডার প্রেস, চেস্ট প্রেস, হ্যামার কার্লের মতো ব্যায়াম করতে দেখা গিয়েছে। তারকা জানিয়েছেন, প্রশিক্ষকের সহায়তায় নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলি করেন তিনি। কী ভাবে করতে হয়, সেই পদ্ধতিও দেখিয়েছেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, মেদ ঝরানো বা বাইসেপ বানানো যাঁদের লক্ষ্য, তাঁদের কাছে ডাম্বেল প্রেস খুব চেনা একটি ওয়ার্কআউট। এক হাতে বা দু’হাতে ডাম্বেল নিয়ে কসরত করতে হয়। শরীরের শক্তি বুঝে ডাম্বেল বেছে নিতে হয়। এর আরও একটি পদ্ধতি হল ইনক্লাইন ডাম্বেল প্রেস, যা করতে হলে ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে রাখা কোনও বেঞ্চের উপর শুতে হয়। এর পর এক হাতে বা দু’হাতে ডাম্বেল নিয়ে কসরত করতে হয়। শ্বাস নিতে নিতে ডাম্বেলগুলি বুকের কাছে নামিয়ে আনতে হয়, আবার উপরে তুলতে হয়। এই ব্যায়ামে কাঁধ শক্ত হয়, পিঠের মেদ ঝরানো যায়। বুকের পেশি প্রশস্ত হয়, হার্টে রক্ত চলাচল ভাল হয়। দক্ষিণী অভিনেতা রজনীকান্তও এই ধরনের ব্যায়াম করেন।

ডাম্বেল প্রেস করলে চেস্ট প্রেসও করতে হয়। মেশিনে বসে বা ডাম্বেল অথবা বারবেল হাতে নিয়ে ব্যায়ামটি করতে হয়। মেশিনে করলে সোজা হয়ে সিটে বসে মেশিনের হাতলগুলি টেনে বুকের কাছে আনতে হয়, আবার ছাড়তে হয়। মেশিনে না করলে ডাম্বেল বা বারবেল নিয়েও একই পদ্ধতিতে ব্যায়ামটি করা যায়।

এই ব্যায়ামগুলি স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মধ্যে পড়ে, পেশির জোর বৃদ্ধি পায় এতে। কাঁধ, বুক, হাত ও পেটের পেশি সুগঠিত হয়। একই ভাবে করতে হয় বাইসেপ কার্ল। দু’টি ডাম্বল বা বারবেল রড দিয়ে এটি করা যায়। ব্যায়াম করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, হাত কাঁধ বরাবর উঠবে আর কনুই যেন শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে।

হ্যামার কার্লও পেশির জোর বৃদ্ধির ব্যায়াম। কিছুটা হাতুড়ি মারার ভঙ্গিতে হাত তুলতে হয়, তবে কনুইয়ের অংশ শরীরে সঙ্গে লেগে থাকবে।

ট্রাইসেপ বেঞ্চ ডিপ ব্যায়ামটিও হাত ও কাঁধের পেশির জোর বৃদ্ধি করে। পেশিবহুল বাহু চাইলে এই ব্যায়ামটি করা যেতে পারে। বেঞ্চ বা চেয়ারের ধারে হাত দুটো রেখে বাকি শরীর বাইরে থাকবে। এ বার হাতের চাপে ওঠা-বসা করতে হবে।

বরফজলে স্নান

বাথটবে জলের তাপমাত্রা রাখতে হয় প্রায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই জলের মধ্যে গোটা শরীর ডুবিয়ে বসে থাকতে হয় প্রায় মিনিট পনেরো। একে বলে ক্রায়োথেরাপি। এই থেরাপি বিপাকহার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে বলে দাবি। এতে ওজন কমে বলেও দাবি করা হয়। শরীরচর্চা করার পর ক্রায়োথেরাপি করলে প্রদাহ কমে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, এতে চর্বি দ্রুত গলে। অনিল কপূর জানিয়েছেন, ওয়ার্কআউটের পরে ক্রায়োথেরাপি তাঁর খুবই পছন্দের। এতে পেশির দুর্বলতা দূর হয়, শরীরও অনেক ঝরঝরে লাগে।

Advertisement
আরও পড়ুন