Bajre Ki Raab

স্বাস্থ্যকর, রোগ প্রতিরোধক ‘রাবড়ি’ খেয়েই উচ্ছ্বসিত ভাগ্যশ্রী, জিনিসটি আসলে কী? কী ভাবে বানায়

ফিটনেস সচেতন অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী এক বিশেষ ‘রাব’ বা ‘রাবড়ি’ খেয়ে উচ্ছ্বসিত। কী এমন আছে এতে, কী ভাবেই বা বানায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৭
স্বাস্থ্যসচেতন ভাগ্যশ্রী  ‘রাবড়ি’ খাচ্ছেন?

স্বাস্থ্যসচেতন ভাগ্যশ্রী ‘রাবড়ি’ খাচ্ছেন? ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

স্থানীয় লোকেরা বলেন ‘রাব’। রন্ধনশিল্পী বলছেন, রাবড়ি থেকে রাব। তবে এ রাবড়ি, সে রাবড়ি নয়। বঙ্গে রাবড়ি বলতে বোঝায় দুধ জ্বাল দিয়ে তার সর শুকিয়ে তৈরি করা মিষ্টি। কিন্তু রাজস্থানের ‘রাব’ একেবারেই তেমন নয়। আর তা খেয়েই উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী।

Advertisement

‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’-র নায়িকা, অভিনয় জগত থেকে দীর্ঘ দিন দূরে।তবে, ফিটনেসের দিক থেকে অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত সক্রিয় তিনি। ভাল থাকার নানা পরামর্শ দেন অনুরাগীদের। ভাগ্যশ্রী সমাজমাধ্যমে সম্প্রতি একটি পোস্টে বিশেষ এক খাবারের ছবি দেখিয়ে অনুরাগীদের প্রশ্ন করেছিলেন তিনি কী খাচ্ছেন, তা আন্দাজ করতে। সেটি ছিল বাজরার রাব।

রাজস্থানের এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। তরবীন কৌর নামে এক রন্ধনশিল্পী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন রাবড়িকেই সেখানে রাব বলা হয়। তবে এটি কোনও মিষ্টি পদ নয়, বরং এক ধরনের নোনতা মজানো স্যুপ। মিলেট বা বাজরার আটার সঙ্গে ছাস মিলিয়ে তৈরি হয় পানীয়টি। তার মধ্যে দেওয়া হয় আদা, গোলমরিচ। বরং একে স্বাস্থ্যকর স্যুপের সঙ্গে তুলনা করা চলে।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, পানীয়টা শীতের দিনে গা গরম রাখতে এবং সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ দূরে রাখতেই খাওয়ার চল। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম। পুষ্টিবিদদের মতে, এই জাতীয় খাবারে গ্লুটেন থাকে না। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের গুণে ভরপুর এই খাবার রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এবং শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এতে মেশানো হয় অল্প গুড়ও। গুড়ে খুব সামান্য হলেও আয়রন মেলে। আদা প্রদাহনাশক, হজমে সহায়ক, সর্দি-কাশিতে উপকারীও। এতে যোগ করা গোলমরিচের যেমন ঝাঁজ রয়েছে তেমনই মশলাটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। জিরেও দেওয়া হয় এতে। পেটফাঁপার সমস্যা কমায় জিরে, হজমেও সাহায্য করে। মূলত শীতের দিনে রাজস্থানে বাজরার রাব খাওয়ার চল।

কী ভাবে বানানো হয়?

বাজরার রাবের রন্ধনপ্রণালীতে ছোটখাটো তফাত রয়েছে। তবে সাধারণত যে ভাবে বানানো হয়— একটি কড়াইয়ে বাজরার আটার সঙ্গে সম পরিমাণ টক দই নিতে হবে। এবার জল দিয়ে সেটি মসৃণ করে গুলতে হবে। একবার মিশ্রণটি মসৃণ হয়ে এলে আরও জল দিয়ে সেটি পাতলা করুন। কিংবা বাজরার আটা ছাস (দই পাতলা করে বানানো পানীয়) দিয়েও গুলে নিতে পারেন। জিনিসটি হবে বেশ পাতলা। ভাল করে আটা, দই বা ছাস মিশিয়ে নেওয়ার পরে পাত্র বা কড়াইটি আঁচে বসানে। কম আঁচে নাড়তে হবে। যোগ করুন জিরে, গোল মরিচ, গুড়। দিন স্বাদমতো নুন। মিশ্রণটি ফুটে একটু ঘন হলে সেটি পরিবেশন করুন কাপ বা গ্লাসে। স্যুপের মতো বাটিতেও তা পরিবেশন করতে পারেন। এটি খেতে হয় গরম গরম।

Advertisement
আরও পড়ুন