Detox Drinks Advantage and Risk

গরম পড়তেই ‘ডিটক্স’ পানীয়ে চুমুক! শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার হচ্ছে কি? ক্ষতিও কি হয় এতে?

দিনভর ‘ডিটক্স’ পানীয়ে চুমুক দেওয়া কি আদৌ ভাল? এতে কি সত্যি শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৭:১৮
ডিটক্স পানীয়ে সত্যি কি ডিটক্স হয়? আদৌ কতটা উপকারী এই পানীয়?

ডিটক্স পানীয়ে সত্যি কি ডিটক্স হয়? আদৌ কতটা উপকারী এই পানীয়? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দিতে অনেকেই ভরসা রাখেন রকমারি ‘ডিটক্স’ পানীয়ে। শসা, রকমারি ফল টুকরো করে কেটে জলের মধ্যে দিয়ে, সেই জল ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে খাওয়া হয়। এর বাইরেও অনেকে নানা রকম ডিটক্স পানীয় খান। কিন্তু দিনভর এমন পানীয় চুমুক দিলেই কি লাভ হয়?

Advertisement

নানা রকম শারীরবৃত্তীয় কাজের ফলে শরীরে অপ্রয়োজনীয়, দূষিত পদার্থ তৈরি হয়। যা শরীর থেকে বার করে দেওয়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, এই পানীয় খাওয়া হয় সেই জন্যই। তবে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছেন, ‘‘শরীর সচল রাখতে যে ধরনের জিনিস বার করে দেওয়া দরকার বা ডিটক্স করা প্রয়োজন, তা শরীর নিজেই করতে পারে। এ জন্য লিভার, কিডনি, অন্ত্র এবং ত্বক রয়েছে। লিভার নিজেই এই কাজ করে। কিডনি অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়। অন্ত্র এবং ত্বকও ডিটক্স করতে সাহায্য করে।’’

তা হলে ডিটক্স পানীয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন থাকতেই পারে। পুষ্টিবিদ বলছেন, শরীর ভাল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া জরুরি। জল খেতে সব সময় ভাল লাগে না। তবে জলে ফল মেশানো থাকলে, সুন্দর গন্ধ যোগ হয়। ঠান্ডা জল খেতে ভাল লাগে। তা ছাড়া, ফলেরও কিছু উপকারিতা রয়েছে। জলে সেই নির্যাস মিশলে বাড়তি ভিটামিন জুড়তে পারে।

‘ডিটক্স’ পানীয়ের উপকারিতা

  • লেবুর টুকরো যোগ করলে জলে মিশবে ভিটামিন সি (জলে দ্রবীভূত ভিটামিন), বেরি জাতীয় ফল থেকে পাওয়া যায় পলিফেনলের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এ ছাড়াও ফলে থাকা কিছু কিছু খনিজও মিশে যায় এতে। ফলে সাধারণ জলের চেয়ে পুষ্টিগুণের বিচারে ডিটক্স পানীয় খাওয়া ভাল।
  • অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরকে বাঁচায়। এতে কলা এবং কোষ ভাল থাকে।
  • ডিটক্স পানীয়ে কেউ আদাকুচি, পুদিনা মেশান। আদা হজমে সহায়ক। পুদিনাও পেটের জন্য ভাল। সারা দিনে অল্প অল্প করে ডিটক্স পানীয় খেলে শরীরে জলের জোগান ঠিক থাকে, ফলে পেট ভার হয় না। কোষ্ঠও পরিষ্কার হয়।
  • ডিটক্স পানীয় সরাসরি দূষিত পদার্থ বার করতে না পারলেও শরীরে জলের অভাব হয় না বলে লিভার, কিডনির কাজ করতেও সুবিধা হয়। পর্যাপ্ত জল খেলে যে সব উপকার পাওয়া সম্ভব, ডিটক্স পানীয় সেই কাজটি করে। ডিটক্স পানীয় খেলে অস্বাস্থ্যকর চিনি মেশানো পানীয় খাওয়ার ঝোঁক কমে, ফলে সামগ্রিক ভাবেই শরীর ভাল থাকে। ওজনও কমে।

ক্ষতিকর দিক কি আছে?

রকমারি ফল, আদা, পুদিনা দিয়ে তৈরি পানীয়ে ক্ষতির সমস্যা তেমন নেই। তবে দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়ার দরকার, অতিরিক্ত নয়। খুব বেশি জল খেলে কিডনির উপর চাপ পড়বে।

লেবু মেশানো থাকলে, জল খানিক টক হয়ে যায়। অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ে। বার বার এমন পানীয় খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। আবার অম্বল বা বদহজমের সমস্যা থাকলে লেবু থেকে অসুবিধা হতে পারে। তাই শরীর বুঝে পানীয়টি তৈরি করা দরকার। বেশি আদা খেলেও সমস্যা হতে পারে।

যে কোনও উপকারী জিনিসই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া দরকার, মনে করান পু্ষ্টিবিদেরা। অনন্যা বলছেন, ‘‘শরীর ভাল রাখতে গেলে টাটকা ফল, শাকসব্জি খাওয়া দরকার। পর্যাপ্ত জল, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, খনিজ, ফাইবারের সঠিক সামঞ্জস্যই শরীর ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।’’

ডিটক্স পানীয় বানাবেন কী ভাবে: শসা, লেবু, আদা, পুদিনা দিতে পারেন। আবার আপেলের টুকরো দারচিনি দিয়েও হতে পারে। তরমুজ-তুলসী, আনারস-আদা মিশিয়েও পানীয় বানাতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন