ইমরান খান। — ফাইল চিত্র।
নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ‘বিবেক বিক্রি’ করেছেন বিচারকেরা। জেলে বসে এমনই অভিযোগ করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ইদে নিজের পুত্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ে তিনি জানান, পাকিস্তানের আদালত থেকে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। ইমরানের সেই বক্তব্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে গ্রেফতার হন ইমরান। এখন তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে রয়েছেন। সেখানে বসেই পুত্র কাসিম খানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কাসিম জানান, ইমরান নিজের বক্তব্য সকলের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে কাসিম এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘এই দেশের বিচারকদের লজ্জা পাওয়া উচিত। বার বার আমরা বিচারবিভাগের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু নিজের সুবিধার জন্য তাঁরা বিবেক বিক্রি করে দিয়েছেন। সততা বিক্রি করে দিয়েছেন।’
নাম না-করে পাকিস্তানের সামরিক বিভাগকেও কটাক্ষ করেছেন ইমরান। তাঁর পুত্র সমাজমাধ্যমে তাঁকে উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘ওরা জানে আমাকে ভাঙতে পারবে না। তাই আমার স্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে। আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য ওরা বুশরা বিবি (তাঁর তৃতীয় স্ত্রী)-র সঙ্গে কী ভাবে এ রকম অমানবিক আচরণ করছে? ২৪ ঘণ্টা তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে কাটান। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট আমার সঙ্গে থাকেন।’ তিনি জানান, মহিলাদের সঙ্গে এই আচরণ ‘ইসলাম-বিরোধী’। বিচারকদের নিজেদের এই আচরণে লজ্জিত হওয়া উচিত।
২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ইমরান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরাকে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে পাকিস্তানের আদালত। দীর্ঘ দিন পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন তাঁর দুই পুত্র সুলেমান এবং কাসিম। ইমরানের প্রথম স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তাঁরা লন্ডনে থাকেন। ইমরানের দলের দাবি, শাহবাজ় শরিফ সরকার পরিবারের সঙ্গে ইমরানকে কথা বলতে দেন না। আইনজীবীর সঙ্গেও কথা বলতে দেন না। তাঁর দুই পুত্রের অভিযোগ, বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যেতে চান তাঁরা। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাঁদের ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তা তারার জানিয়েছেন, ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ় পাকিস্তানিস (এনআইসিওপি) ব্যবহার করে ইমরানের দুই পুত্র তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে আসতে পারেন। জেমিমা তা করতে অস্বীকার করেছেন। তাঁর অভিযোগ, তা করলে পাকিস্তানে গিয়ে তাঁর দুই পুত্রের ব্রিটিশ রক্ষাকবচ থাকবে না। আর সেটাই চাইছে পাকিস্তান।