ফাইবার পাউডার কি শাকসব্জির বিকল্প হতে পারে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শাকসব্জি একেবারে না-পসন্দ! রোজের ডায়েটে মুরগির মাংস আর ডিমেরই আধিক্য বেশি বছর ৩৫-এর অরিন্দম দাশগুপ্তের। তাঁর জীবনের সমস্যা একটাই। শত চেষ্টা করেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুতেই দূর হচ্ছে না। পেট পরিষ্কার রাখতে কিনে ফেলেছেন নামী সংস্থার ফাইবার পাউডারও। সকাল-দুপুর-রাত তিনবেলা জলে মিশিয়ে খেতে শুরু করেছেন ফাইবার সাপ্লিমেন্ট! তবে আদৌ কি কোনও লাভ হচ্ছে? না কি খরচটাই বৃথা?
অরিন্দম একা নন, পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য ফাইবার যে উপকারী তা জানার পরে অনেকেই সকাল থেকে রাতের ডায়েটে ফাইবার পাউডার জুড়ছেন। তবে ফাইবার পাউডার কি শাকসব্জির বিকল্প হতে পারে? পুষ্টিবিদ এবং যাপন সহায়ক অনন্যা ভৌমিক বলেন, ‘‘শরীর চাঙ্গা রাখার জন্য ফাইবার ভীষণ জরুরি। শুধু মাত্র কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা নয়, হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, এমন কি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ফাইবার ভীষণ জরুরি। তবে যিনি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ফাইবার খাচ্ছেন, তিনি কি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেন, যে তাঁর এই সমস্যা ফাইবারের ঘাটতির কারণেই হচ্ছে? কিছু না জেনে বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া কিন্তু ঠিক নয়।’’
অরিন্দম মাস ছয়েক ধরে নিয়মিত ফাইবার সাপ্লিমেন্ট খাচ্ছেন। উপকার কি পেয়েছেন কিছু? অরিন্দমের মতে, নিয়ম করে ফাইবার খাওয়ার পরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা খানিকটা কমেছে বটে কিন্তু অন্য দিকে পেট ফাঁপা, হজমের সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। অনন্যা বলেন, ‘‘সাপ্লিমেন্ট আমরা তখন দিই যখন শরীরে কোনও বিশেষ উপাদানের ঘাটতি থাকে। রোগীর রোগ সম্পর্কে পুরোটা বিশদে জেনে-বুঝে তবেই সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। সবার জন্য সব সাপ্লিমেন্ট নয়, সাপ্লিমেন্টের পরিমাণও সবার ক্ষেত্রে সমান হয় না। তবে কয়েক বছর ধরে অনেকেই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করছেন। এর ফলে মেটাবলিক ডিজ়িজ়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।’’
শরীরে ফাইবারের মাত্রা বেশি হলে হজমজনিত সমস্যাও শুরু হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত।
শাকসব্জিতে শুধু ফাইবার থাকে না, থাকে অনেক রকম ভিটামিন আর খনিজও। পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ফাইবার পাউডার কখনওই শাকসব্জির বিকল্প হতে পারে না। বাজারচলতি যে ফাইবার পাউডার লোকে খাচ্ছেন, তাতে শাকসব্জির মতো ভিটামিন আর মিনারেল আছে কি না, তা যাচাই করা দরকার। বেশির ভাগ ফাইবার পাউডারেই সেগুলি থাকে না। তাই অযথা ফাইবার পাউডার খাওয়ার আমি পক্ষপাতী নই। বারে বারে শাকসব্জিই খেতে বলব রোগীকে। শাকসব্জি ছাড়া ডালিয়া, ওট্সেও ভাল মাত্রায় ফাইবার থাকে, তাই সেগুলিও রাখা যেতে পারে ডায়েটে।’’
প্রতিদিন শরীরের কতটা ফাইবার জরুরি?
১ থেকে ৩ বছর বয়সে: ১৪-১৯ গ্রাম
৪ থেকে ৬ বছর বয়সে: ২০-২৫ গ্রাম
৭ থেকে ৯ বছর বয়সে: ২৫-৩০ গ্রাম
১০ থেকে ১২ বছর বয়সে: ৩০-৩৫ গ্রাম
১৩-১৮ বছর বয়সে: ৩৫-৪০ গ্রাম
১৯ বছরের উপরে বয়স হলে: ২৫-৩৫ গ্রাম (মহিলাদের)
১৯ বছরের উপরে বয়স হলে: ৩০-৪০ গ্রাম (পুরুষদের)
অন্তঃসত্ত্বা হলে: ২৮-৩৫ গ্রাম
স্তনদুগ্ধ পান করানোর সময়ে: ৩০-৩৫ গ্রাম
৬০ বছরের উপরে বয়স হলে ২৫-৩৫ গ্রাম
(দৈনিক জল খাওয়ার পরিমাণ, খিদের পরিমাণ আর হজমশক্তির উপর নির্ভর করে)
শরীরে ফাইবারের মাত্রা বেশি হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
১) হজম করতে সমস্যা হতে পারে।
২) কোষ্ঠকাঠিন্য ও শরীরে জলশূ্ন্যতার সমস্যা বাড়তে পারে।
৩) শরীরে খনিজের শোষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।