খাওয়ার আগে এক পানীয়েই জব্দ হবে ডায়াবিটিস। ছবি: সংগৃহীত।
ভারতে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই খুঁজলে অন্তত এমন এক জন পাওয়া যাবে, যাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক নয় এবং তার জন্য নিয়মিত ওষুধও খান। গত কয়েক বছর ধরে ডায়াবিটিস দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে। ল্যানসেটের সমীক্ষা বলছে, বিশ্ব জুড়ে ৪৫ বছরের উপরে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিক। অনেক সময় দেখা যায় কড়া ডায়েট মেনে চলেও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিকদের ডায়েটে ফাইবার রাখা ভীষণ জরুরি। ডায়াবেটিকদের জন্য ইসবগুল দারুণ কাজের জিনিস।
১ গ্লাস জলে ১ টেবিল চামচ ইসবগুল গুলে খাওয়াদাওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে খেয়ে নিন। এই পানীয় প্রাকৃতিক ফাইবার হিসাবে কাজ করবে। খাওয়াদাওয়ার পর রক্তের শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়তে দেবে না।
ইসবগুল এক প্রকার দ্রবণীয় ফাইবার যা জল শোষণ করে অন্ত্রে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এটি কার্বোহাইড্রেটের হজম ও শোষণকে ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে না গিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ে। যদিও ইসবগুল কখনওই ডায়াবিটিসের ওষুধের বিকল্প নয়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজের ডায়েটে এই ফাইবারের সংযোজন করা যেতেই পারে।
খাবার গ্রহণের প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে ইসবগুল খেলে তা পরিপাকতন্ত্রের ভিতরের অংশে একটি আস্তরণ তৈরি করে। কিছু খাবারে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে বেড়ে যায়। এটি হতে বাধা দেয় ইসবগুলের এই আস্তরণটি। টাইপ ২ ডায়াবিটিস বা প্রি-ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, কিংবা যাঁরা প্রায়শই খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন—তাঁদের জন্য এই অভ্যাসটি স্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন তাঁরাও খাওয়ার আগে ইসবগুল খেতে পারেন। ফাইবার পেট ভরাট রাখে অনেক ক্ষণ।ফলে ইচ্ছে থাকলেও বেশি খাওয়া যায় না, ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। ডায়াবেটিক রোগীরা ডায়েটে বদল আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।