স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়াতে কী বাদ দেবেন? ছবি: সংগৃহীত।
সংসারের চাপ, ব্যস্ততার মধ্যে নিজের খেয়াল রাখা হয় না। তবে বয়স ৪০-এর কোঠায় পৌঁছোলে এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ, এই বয়সে এসে শুধু শরীর নয়, মনোজগতেও বদল ঘটে। কারণ, এই সময়ে মহিলাদের শরীরে যেমন হরমোনের বদল হয়, তেমনটা হয় পুরুষের শরীরেও।
এমন বয়সে পৌঁছে ক্লান্তি, খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মেজাজ বদলে যাওয়াকে অনেকে বেশি পরিশ্রমের ফল হিসাবে দেখেন। অনেকে ভাবেন, এটা হচ্ছে মানসিক চাপ থেকে। কিন্তু আদতে তা নয়। নেপথ্যে থাকে হরমোনের হেরফের।
আর তার ফলেই শারীরবৃত্তীয় নানা কাজে বদল আসে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ওজন বাড়ে, বিপাকহারের গতি কমে, ক্লান্তি আসে, পেশিক্ষয়ও হয়। আর এই সবের প্রভাবেই এমন বয়সে এসে হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়ে।
আমেরিকা নিবাসী হার্টের চিকিৎসক ইভান লিভাইন বলছেন, বয়সকালে সুস্থ থাকতে হলে এই বয়সে এসে কিছু অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। না হলেই অসুখের ঝুঁকি বাড়বে।
ধূমপান: ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, তা ক্যানসারের কারণ জানা সত্ত্বেও ধূমপায়ীরা তা ছাড়তে পারেন না। তবে হার্ট, কিডনি, ফুসফুসের কথা ভাবলে অতি অবশ্যই ধূমপান ছাড়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া উচিত। গবেষণা বলছে, ধূমপান অকাল বার্ধক্যের কারণ। তা ছাড়া, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের হেরফের হয়, শরীরের শক্তি কমতে থাকে। এই সময়ে তামাক আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
মদ্যপান: অ্যালকোহল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, হার্টের জন্যও ক্ষতিকর। বিশেষত, মহিলাদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। পুরোপুরি মদ্যপান ছাড়া না গেলে, ধীরে ধীরে মদ্যপানের পরিমাণ কমিয়ে ফেলা দরকার। চল্লিশোর্ধ্বদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও বাড়ে। মদ্যপান পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
শারীরচর্চা: শারীরচর্চা করা অবশ্যই জরুরি কিন্তু কতটা কায়িক শ্রমসাধ্য ব্যায়াম করতে হবে, তা বোঝা প্রয়োজন। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের কারণে পেশিক্ষয় হতে থাকে। ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি সবল থাকে। তবে সেই ব্যায়াম করতে হবে শরীর এবং প্রয়োজন বুঝে। প্রশিক্ষকের নির্দেশমতো শারীরচর্চা করা জরুরি, না হলে পেশি বা হাড়ে চোট পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মুখরোচক খাবার: মুখরোচক খাবার খেতে ভাল হলেও, শরীরের জন্য ভাল নয়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াতেও নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন রোজের খাবার তালিকায় জোড়া প্রয়োজন, তেমনই এড়াতে হবে অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার।