মাংস টাটকা না বাসি, বোঝার কিছু উপায় জেনে নিন। ছবি: ফ্রিপিক।
ব্যস্ত সময়ে হাতে ব্যাগ ঝুলিয়ে বাজারে যেতে অনেকেই চান না। দাঁড়িয়ে থেকে দেখে-শুনে যাচাই করে টাটকা মাছ বা মাংস কেনার সময়ও অনেকের নেই। তাই চটজলদি সমাধানে অনলাইন থেকেই কাঁচা মাছ বা ফ্রোজ়েন মাংস আনিয়ে নেওয়ার চল হয়েছে এখন। প্যাকেটজাত এই মাংস সব সময়ে স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ না-ও হতে পারে। অনেক সময়ে পুরনো বা বাসি মাংস রাসায়নিক মিশিয়ে টাটকা দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তাই যা কিনছেন তা আদৌ কতটা স্বাস্থ্যকর, তা যাচাই করে নিন নিজেই।
ফ্রোজ়েন মাংসের মান যাচাই
মাংসের রং
মাংস টাটকা না বাসি, তা বোঝার প্রথম উপায় হল রং দেখে নেওয়া। টাটকা হলে কাঁচা মাংসের রং হবে হালকা গোলাপি বা লালচে। যদি দেখা যায়, মাংসের রং কালচে, ধূসর বা বাদামি, তা হলে বুঝতে হবে তা টাটকা নয়।
গন্ধ বিচার
প্যাকেট খোলার পর বা মাংস জলে রেখে বরফ গলে যাওয়ার পরে যদি দেখেন খুব তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ বের হচ্ছে, তা হলে সতর্ক হতে হবে। পচা গন্ধ বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ বার হলে বুঝতে হবে, তা দীর্ঘ সময় ধরে প্যাকেটবন্দি রয়েছে।
স্পর্শ করে দেখুন
মাংসের গায়ে হাত দিয়ে দেখুন। মাংস ধরলে যদি খুব বেশি আঠালো মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। টাটকা মাংসে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে নরম ভাব থাকবে। বাসি বা দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া মাংস শক্ত হয়ে যাবে।
রাসায়নিকের উপস্থিতি
মাংস টাটকা দেখাতে বা দীর্ঘস্থায়ী করতে ফরমালিন বা সোডিয়াম নাইট্রাইটের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। মাংস যদি অস্বাভাবিক রকম টকটকে লাল দেখায় এবং ধোয়ার পরেও রং না যায়, তবে বুঝতে হবে তাতে নাইট্রাইট মেশানো আছে। রাসায়নিক মেশানো থাকলে সেই মাংস সেদ্ধ হতে অনেক বেশি সময় নেয় এবং রান্নার পরেও তাতে তেমন স্বাদ পাওয়া যায় না।
আরও একটি উপায় আছে বোঝার। মাংস ধোয়ার সময়ে খেয়াল করুন। যদি জল খুব বেশি ঘোলাটে বা ফেনা যুক্ত হয়, তবে বুঝতে হবে সেই মাংসে রাসায়নিক মিশিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
ফ্রোজ়েন মাংস কেনা সুবিধাজনক হলেও স্বাস্থ্যের প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়। যদি মাংসের মান নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ হয়, তবে সেটি না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কেনার সময়ে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে দেখে নিতে হবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার সময়ে। প্যাকেটটি কোথাও ছেঁড়া বা লিক আছে কি না, তা-ও দেখা নেওয়া জরুরি।