Jr NTR Weight Loss

‘ডবল বাইসেপ’, সুগঠিত পেশি, কোন জাদুতে সাত সপ্তাহে সাড়ে ৯ কেজি ওজন কমালেন এনটিআর?

ওজন কমেছে। জুনিয়র এনটিআরের সুগঠিত পেশিবহুল চেহারা দেখে হতবাক তাঁর ভক্তেরা। কী ভাবে এত অল্পদিনে এমন সম্ভব হল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৮
Jr NTR lost 9.5 kilos of muscle mass over a span of just seven weeks

৭ সপ্তাহে কী ভাবে সাড়ে ৯ কেজি ওজন কমল? ছবি: সংগৃহীত।

মাত্র সাত সপ্তাহ। তার মধ্যেই সাড়ে ৯ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। শুধু ওজন কমানোই নয়, তাঁর সুগঠিত পেশিবহুল চেহারা দেখে স্তম্ভিত ভক্তেরা। ইনস্টাগ্রামে নিজের ‘ডবল বাইসেপ’ লুক প্রকাশ্যে এনেছেন নন্দমুড়ি তারকা রামা রাও বা ভক্তদের প্রিয় ‘জুনিয়র এনটিআর’। কোন জাদুতে এমন সুঠাম, সুগঠিত চেহারা বানালেন তিনি, সে নিয়েই আলোচনা চলছে।

Advertisement

চলচ্চিত্র জগতে যখন প্রথম পা রাখেন তখন তিনি স্থূলকায়। ওজন ১০০ কেজিরও বেশি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এনটিআর জানিয়েছিলেন, স্থূলতার জন্য নানা সময়ে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি ‘আরআরআর’ ছবির পরিচালক এস এস রাজামৌলিও পরামর্শ দিয়েছিলেন, চেহারা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। এর আগে এই দক্ষিণী তারকাকে দেখা গিয়েছিল মাত্র তিন মাসে কুড়ি কেজি ওজন কমাতে। আর এ বার নতুন ছপি ‘ড্রাগন’-এর জন্য মাত্র সাত সপ্তাহে সাড়ে ৯ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। শুধু ওজন কমিয়েছেন তা নয়, পেশিবহুল চেহারাও তৈরি করেছেন নিখুঁত গড়নে। কী ভাবে এমন সম্ভব হল?

ওজন যদিও বা কঠোর শরীরচর্চায় দ্রুত কমানো যায়, কিন্তু পেশি বানানো সহজ নয়। সে জন্য সময় লাগে। জুনিয়র এনটিআরের যে ছিপছিপে কিন্তু পেশিবহুল ডবল বাইসেপ লুক দেখা গিয়েছে, তা তৈরি করা যেমন শ্রমসাধ্য, তেমনই সময়সাপেক্ষ। তবে তাঁর ফিটনেস কোচ কুমার মান্নাভা জানিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই। সবটাই ওয়ার্কআউট ও উপযুক্ত ডায়েটের কারণে সম্ভব হয়েছে। কৃত্রিম ভাবে কোনও কিছুই করাই হয়নি।

কেমন ছিল এনটিআরের ফিটনেস রুটিন?

কার্ডিয়ো, ফাংশনাল মুভমেন্ট এবং রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং— এই তিন ধরনের শরীরচর্চার পদ্ধতি থাকত অভিনেতার রোজের ফিটনেস রুটিনে। তাঁর প্রশিক্ষক জানিয়েছেন, ভোরে উঠে শরীরচর্চা শুরু করতে এনটিআর। প্রতি দিন ৪৫ থেকে ৯০ মিনিটের কঠোর পরিশ্রম করতেন। কার্ডিয়োর পাশাপাশি ফাংশনাল মুভমেন্ট তাঁর পেশি গঠনে সাহায্য করে। এটি এমন ধরনের ব্যায়াম যাতে পেশি ও অস্থিসন্ধির জোর একইসঙ্গে বাড়বে। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় পেশির ভর বাড়বে এবং পেশির স্ট্রেচিংও হবে। ‘মাসল বিল্ডিং’-এর জন্য এমন ব্যায়াম করানো হয়। এর মধ্যে স্কোয়াট, ওজন নিয়ে স্কোয়াট, ডেডলিফট,, পুশ-আপ এবং ওভারহেড প্রেস, পুল-আপের সঙ্গে রোয়িং, লাঞ্জেস— এই ধরনের ব্যায়াম করতে হয়।

ফাংশনাল মুভমেন্টে পেশির ভর বৃদ্ধির পাশাপাশি তার নমনীয়তাও বজায় রাখতে হয়। সে জন্য রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিং জরুরি। পেট, হাত ও পায়ের অতিরিক্ত মেদ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে রেজ়িস্ট্যান্স ব্যান্ড। এটি দিয়ে বহু রকমের শারীরিক কসরত করা যায়। ল্যাটেরাল রেজ, স্পিড কার্ল, ফ্রন্ট স্কোয়াট, স্ট্যান্ডিং চেস্ট প্রেস, ব্যান্ড পুল অ্যাপার্টের মতো ব্যায়াম করলে ছাতি, ট্রাইসেপ ও পিঠের উপরের দিকের পেশি সুগঠিত হয়।

ব্যায়ামের পাশাপাশি খাওয়াদাওয়াতেও নিয়ম মানতে হয়েছে এনটিআরকে। সাধারণত পেশি গঠনের জন্য হাই-প্রোটিন ডায়েট করতেই বলা হয়। তবে এনটিআরের ক্ষেত্রে তাঁর প্রশিক্ষক উল্টোটাই করেছেন। মেদ কমাতে প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়, এবং সুনির্দিষ্ট ক্যালোরি নিয়ন্ত্রিত ডায়েটে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট কিছু পেশির ঘনত্ব বৃদ্ধি করা হয়। এ ভাবে যেমন তাঁর ওজন কমে তেমনই পেশির ভরও বাড়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন