Nutritious Tiffin

বাচ্চার টিফিনে পুষ্টি থাকছে তো?

টিফিন দেওয়ার আগে দেখে নিন তাতে পুষ্টি বজায় থাকছে কি না।

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৩

সন্তানের টিফিন গোছানোর সময়ে স্বাদের দিকে যতটা নজর দেওয়া হয়, পুষ্টির দিকে কি সব সময়ে ততটা খেয়াল থাকে? সকালে উঠে চটজলদি মুখরোচক টিফিন বানিয়ে দিতেই ব্যস্ত থাকেন মায়েরা। সেখানে কতটা পুষ্টি থাকছে, সে খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলে আদৌ খাওয়ার মতো থাকছে কি না তা ভাবার সময় থাকে না। কিন্তু সন্তানের টিফিন দিনের একটা জরুরি মিল। তাই তা নিয়ে আগে চিন্তা করে রাখুন। প্রয়োজন হলে সারা সপ্তাহের টিফিনের একটা রুটিন বানিয়ে নিন।

কী দেবেন আর কী দেবেন না

টিফিনে কী কী দেওয়া যায়, তার একটা তালিকা রাখা থাকুক। পুষ্টিবিদ সুবর্ণা রায়চৌধুরী বলছেন, “সবজি দিয়ে উপমা, চিঁড়ের পোলাও বানিয়ে দেওয়া যায়। রুটি, লুচি আর তরকারিও দিতে পারেন। স্যান্ডউইচ দিলে ভিতরে শুধু চিজ়, মেয়োনিজ় না দিয়ে গাজর, লেটুস, পনির বা মাংসকুচি দিন। তবে যে কোনও খাবারের সঙ্গে কয়েকটা ফল দিন টিফিনে। অনেক অভিভাবকই সকালে তাড়াহুড়োয় ইনস্ট্যান্ট নুডলস বানিয়ে দেন। সেটা ঠান্ডা হয়ে গেলে খাওয়ার মতো থাকে না। তা ছাড়া এতে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে, তাই এই খাবার বাচ্চাদের জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়।” তার বদলে একটু ভাতও আনাজ, ডিম দিয়ে ভেজে দিতে পারেন। প্যানকেক, ইডলি, ডালের চিল্লা, চাউমিন দিতে পারেন। ছোট করে এগ রোল বা উত্তাপম বানিয়ে দেওয়া যায়।

অনেকেই বাজারচলতি কেক, বিস্কিট টিফিনে দিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে বাচ্চাটার টিফিনে সুগার কনটেন্ট বেড়ে যাচ্ছে। তার আদৌ কি পুষ্টি হচ্ছে? প্রশ্ন তুললেন সুবর্ণা। “কেক, বিস্কিটে সুগার কনটেন্ট বেশি। আদৌ বাচ্চার সেটা দরকার আছে কি না দেখতে হবে। বাচ্চাদের খাবারে কার্বস, প্রোটিন, ফ্যাট তিনটেই ঠিক মাত্রায় রয়েছে এমন ভাবে টিফিন সাজান। না হলে বাচ্চা ওবিস হলে শর্করাজাতীয় খাবারের মাত্রা বেড়ে গেলে তারই সমস্যা হবে।”

অনেকে খাবার রান্না করেই গরম গরম ভরে দেন টিফিন বাক্সে। খাবার রান্না করে ঠান্ডা করে টিফিন বাক্সে ভরতে হবে। না হলে সেই খাবার ভেপসে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর মনে রাখবেন, পেঁয়াজ জাতীয় আনাজ কেটে দিলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাটা পেঁয়াজ অনেকক্ষণ রেখে খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। অনেকে আগের দিনের খাবার দিয়েও টিফিন বানিয়ে দেন। সেটা করা যাবে না। এ ধরনের খাবার গরমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অহেতুক গ্লুকোজ় ওয়াটার নয়

অনেক অভিভাবকই গরম পড়তে না পড়তেই বাচ্চার ব্যাগে, টিফিনে গ্লুকোজ় ওয়াটার বা প্যাকেজড ফ্রুট জুস দিয়ে থাকেন। এই ধরনের পানীয়ে সুগার কনটেন্ট বেশি। এমনিতেই বাচ্চাদের মধ্যে জেলি, চকলেট, কেক খাওয়ার প্রবণতা বেশি। তার উপরে আবার অতিরিক্ত চিনি মিশ্রিত পানীয় দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই। তার বদলে তরমুজ, মুসাম্বির রস করে দিতে পারেন। তবে আপেল, কলা দিলে গোটা দেবেন, কেটে নয়। বাচ্চার টিফিনে প্যাকেজড ড্রিঙ্কসের বদলে একটা টক দইয়ের বাটি রাখতে পারেন। বা দই দিয়ে বাড়িতে ঘোল বানিয়ে দিন। সে ক্ষেত্রে চিনির মাপটা নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেক, চকলেটের বদলে গ্র্যানোলা বার দিতে পারেন। তা হলে ছোট থেকে সন্তানও স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকবে। তার ঠিক খাদ্যাভ্যাস তৈরি হবে।

আরও পড়ুন