West Bengal Election 2026

সাধ মেটেনি কোনও পক্ষেরই!

প্রার্থী নিয়ে বিজেপির একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। সোমার নাম ঘোষণার পরে কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মিছিলও করেন।

সীমান্ত মৈত্র  
শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বাগদায় এ বার সব পক্ষ চেয়েছিল, স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করা হোক। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি সে দাবি মানেনি। এতে ভোটারদের কারও গোঁসা আছে, কারও অভিমান। আর এটাও বুঝতে পারছেন সকলে, ভোট যাকেই দিন না কেন, তা যাবে ঠাকুরবাড়ির খাতাতেই!

তৃণমূলের এ বারের বিদায়ী বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুরের মেয়ে। তিনি গাইঘাটার মতুয়া ঠাকুরবাড়ির মেয়ে। বিজেপি প্রার্থী করেছে মধুপর্ণার খুড়তুতো দাদা, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে। সম্পর্কে তিনি মধুপর্ণার বৌদি। দু’জনের কেউই বাগদার বাসিন্দা নন।

প্রার্থী নিয়ে বিজেপির একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। সোমার নাম ঘোষণার পরে কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মিছিলও করেন। বাগদার দু’বারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা এই আবহে বিজেপি নেতা দুলাল বর নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাগদার মানুষ যাতে ঘরের ছেলের পরিষেবা পান, সে কারণেই বাগদার মানুষের অনুরোধে আমি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

সোমা অবশ্য মুখে বলছেন, ‘‘দুলাল বরের ভোটে দাঁড়ানোর কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি এতবার দল পরিবর্তন করেছেন, মানুষের কাছে কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।’’ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ইতিমধ্যেই স্ত্রীর হয়ে প্রচারে নেমেছেন। প্রচারে বেরিয়ে সোমা বলছেন, ‘‘আমি জিতলে ডবল ইঞ্জিন সরকারের মতো ডবল উন্নয়ন হবে (সাংসদ এবং বিধায়ক)।’’

তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণার কথায়, ‘‘কে বা কারা ভোটে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমি নিজের প্রচারে ব্যস্ত।’’ তাঁর হয়ে প্রচারে নেমেছেন মমতা ঠাকুর।

বৌদি-ননদের লড়াইয়ে কেউ অবশ্য কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন না। মমতা বলেন, ‘‘সোমা ঠাকুর প্রার্থী হওয়ায় মধুপর্ণার জয়ের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। কারণ, গত দেড় বছরে মধুপর্ণা বাগদার ঘরের মেয়ে হয়ে গিয়েছে। আর বিজেপি কর্মীদের দাবি ছিল স্থানীয় প্রার্থীর।’’

বাগদা বিধানসভা মতুয়া ও উদ্বাস্তু প্রভাবিত। এসআইআর প্রক্রিয়ার এখানে তিন পর্যায়ে ৫০,২৪৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে, যাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই মতুয়া উদ্বাস্তু বলে জানা যাচ্ছে। তৃণমূল প্রচারে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের আশ্বস্ত করে বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এলে সকলের নাম আবার ভোটার তালিকায় তুলে দেবেন। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা প্রচারে বলা হচ্ছে, তৃণমূল বিএলও, এআরও, ইআরওদের দিয়ে মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষদের নাম বাদ দিয়েছে। শান্তনুর আশ্বাস, সিএএ-এর মাধ্যমে সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, ভোটার তালিকায় নামও উঠবে।

উপ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের গৌর বিশ্বাস। তিনি পেশায় স্কুল শিক্ষক। পেয়েছিলেন ৮,১৮২ ভোট। এ বারও দল তাঁকে প্রার্থী করেছে। তাঁর বাবা প্রয়াত কমলাক্ষী বিশ্বাস বাগদার পাঁচ বারের বিধায়ক। গৌর বলেন, ‘‘এ বার প্রচারে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি।’’

২০২১ সালের মতো কংগ্রেস এ বারও প্রার্থী করেছে প্রবীর কীর্তনীয়াকে। গত বার পেয়েছিলেন ৮, ২৫০ ভোট। এ বার আরও ভাল করার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

আরও পড়ুন