Fatty Liver Risk

ভাজাভুজিও নয়, মদ্যপানও নয়, ফ্যাটি লিভারের আসল কারণ এক বিশেষ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, সেটি কী?

ফ্যাটি লিভারের জন্য কেবল মদ্যপানকে দোষ দিলে হবে না। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়াও একমাত্র কারণ নয়। লিভারে কেন মেদ জমে, তার আসল কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকেরা। এক বিশেষ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিই দায়ী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৪:২০
Choline deficiency can cause the liver to store excess fat and raise fatty liver risk

ফ্যাটি লিভার হওয়ার আসল কারণ এক বিশেষ উপাদান, কী সেটি? ফাইল চিত্র।

পেট-কোমরে মেদ জমলে তা বাইরে থেকে বোঝা যায়। কিন্তু শরীরের ভিতরে লিভারে মেদ জমলে তা বোঝার কি সাধ্য আছে? যকৃতের আনাচ কানাচে পরতে পরতে মেদ জমে বিপদ বাড়তে থাকে অজান্তেই। অথচ তা ঠাহর করা যায় না আগে থেকে। লিভারে মেদ কেন জমে তার নানা কারণ আছে। কেউ দোষ দেন মদ্যপানকে, কেউ বলেন অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়াই দায়ী। কিন্তু গবেষণা বলছে, এ সব একমাত্র কারণ নয়। আসল কারণ হল এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান যার ঘাটতি হলেই লিভারে চর্বি জমতে থাকে। ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে এই বিষয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

Advertisement

শরীর সুস্থ রাখতে কতটা প্রোটিন খেতে হবে, কতটা ভিটামিন প্রয়োজন বা কী পরিমাণ ক্যালশিয়াম জরুরি, সে নিয়েই বেশি মাথা ঘামানো হয়। ভিটামিন ও খনিজের ভিড়ে একটি বিশেষ পুষ্টি উপাদানের কথা মনেই থাকে না। অথচ শরীরের কলকব্জা ঠিক রাখতে সেটিরই প্রয়োজন বেশি। সেই উপাদান হল ‘কোলিন’। এটি ভিটামিনও নয়, আবার খনিজও নয়। যদিও একে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কোলিন এক জরুরি পুষ্টি উপাদান, যা বিপাকক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এটির কাজ হল শরীরে মেদ জমতে বাধা দেওয়া এবং কোষে কোষে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া। এর অভাব হলেই বিপাকক্রিয়া ধীর গতিতে হয়, পুষ্টির অভাবে শরীর কোষে কোষে মেদ জমাতে শুরু করে। লিভার ও তার আশপাশেও চর্বির স্তর জমতে থাকে।

কোলিনের কাজ আরও অনেক। এটি মস্তিষ্কের বিকাশ, স্মৃতিশক্তি, পেশির স্বাভাবিক সঞ্চালন, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতাও নিয়ন্ত্রণ করে। শরীর খুব সামান্য পরিমাণ কোলিন তৈরি করতে পারে। তাই খাবার থেকেই এই চাহিদা পূরণ করতে হয়। কোলিন শরীরের ভিতরে তার রূপ বদলে তৈরি করে ‘অ্যাসিটাইলকোলিন’ যা এক প্রকারের নিউরোট্রান্সমিটার। এর কাজ হল স্নায়ুর সঙ্কেত কোষে কোষে পরিবহণ করা, আবার কোষ থেকে খবরাখবর স্নায়ু মারফত মস্তিষ্কে পৌঁছে দেওয়া। তাই এর ঘাটতি হলে শরীরের কলবব্জা বিগড়ে যেতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় লিভারের। কোলিনের ঘাটতি হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। অন্তঃসত্ত্বাদের জন্যও কোলিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে এটি সাহায্য করে।

কোলিনের চাহিদা পূরণ হবে কী ভাবে?

কোলিনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া গেলেও, চিকিৎসকদের মতে প্রাকৃতিক ভাবে খাবারের মাধ্যমেই কোলিন শরীরে যাওয়া বেশি নিরাপদ। আমিষ ও নিরামিষ উভয় প্রকার খাবারেই কোলিন থাকে।

আমিষ খাবার থেকে

ডিম কোলিনের ভাল উৎস। একটি ডিমে প্রায় ১৪৭ মিলিগ্রামের মতো কোলিন থাকে।

চিকেনে ভাল পরিমাণে কোলিন থাকে। এক টুকরো চিকেন ব্রেস্টে থাকে প্রায় ৭২ মিলিগ্রাম কোলিন।

ছোট মাছ, খাসির মেটেতেও প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে।

নিরামিষ খাবারে

আধ কাপ সয়াবিনে প্রায় ১০৭ মিলিগ্রাম কোলিন থাকে। এ ছাড়া সয়া চাঙ্কও কোলিনের ভাল উৎস।

ডালিয়া ও কিনোয়ার মতো দানাশস্যে কোলিন থাকে।

ফুলকপি, ব্রকোলি এবং মাশরুম কোলিনের ভাল উৎস।

চিনেবাদাম, কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটে কোলিন থাকে। একমুঠো করে বাদাম রোজ খেলে দৈনন্দিন চাহিদার প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কোলিন পাওয়া যায়।

Advertisement
আরও পড়ুন